পি চিদম্বরম, ডি কে শিবকুমারের পরে এ বার নরেন্দ্র মোদী সরকারের আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার আতসকাচের নীচে কর্নাটকের দু’জন শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা। রাজ্যের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর ও প্রাক্তন সাংসদ আর এল জলাপ্পার ছেলে জে রাজেন্দ্রর বিভিন্ন ঠিকানায় আজ হানা দিয়েছেন আয়কর অফিসারেরা। আয়কর কর্তা ও পুলিশ কর্মী মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জনের একটি দল এই অভিযানে শামিল হয়েছিলেন।

পরমেশ্বর ও তাঁর পরিবার সিদ্বার্থ গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশন নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালান। আজ প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দফতর ছাড়াও তাঁর বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। পরমেশ্বরের ভাই জি শিবপ্রসাদ এবং ব্যক্তিগত সচিব রমেশের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছে। রাজ্যের কোলার ও ডোড্ডাবাল্লাপুরায় আর এল জলাপ্পা ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান রাজেন্দ্র। সেখানেও আয়কর কর্তারা হানা দিয়েছেন।

কংগ্রেসের এই দুই নেতার ঠিকানায় আয়কর তল্লাশির পিছনে অভিযোগ, নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলি। শ্রী সিদ্ধার্থ এডুকেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পরমেশ্বর। কর্নাটকে দুটি মেডিক্যাল কলেজ চালায় এই ট্রাস্ট। নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং টাকার বিনিময়ে আসন পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ওই পরীক্ষায় কয়েক জন ছাত্র অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল বলেও অভিযোগ। অভিযুক্ত ছাত্রদের খুঁজে বার করতে রাজস্থানেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

এই তল্লাশি ‘অসৎ উদ্দেশে করা হয়েছে’ এবং একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রশ্নে কংগ্রেসের সঙ্গে পেরে উঠছে না বিজেপি। সে জন্যই কর্নাটকের কংগ্রেস নেতাদের নিশানা করা হচ্ছে। জেডিএস নেতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়াও তল্লাশির নিন্দা করেছেন। কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেছেন, ‘‘আমাদের দলের নেতাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কংগ্রেসে যাঁরা যোগ দিতে চান, তাঁরা বিষয়টি মাথায় রেখে দলে আসবেন।’’

পরমেশ্বর আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘কী কারণে তল্লাশি, সেটা জানতাম না। আয়কর কর্তারা টেলিফোন করার পরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে বেঙ্গালুরু এসেছি।’’ তাঁর দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোনও ব্যবসায় তাঁর পরিবার যুক্ত নয়। নিয়মিত ভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন তাঁরা। তল্লাশির পিছনে রাজনীতি রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।