দুজনের দেখা হল। প্রাতঃরাশের টেবিলে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে একান্তে কথাও হল। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ সভাপতি নীতীশ কুমার হাসিমুখে পরস্পরের সঙ্গে ছবিও তোলালেন। এমনকী গাড়ি পর্যন্ত নীতীশকে এগিয়ে দিলেন অমিত শাহ। কিন্তু তাতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও দিশা মিলল না। বিষয়টি ঝুলেই রইল। দু’তরফের নেতারা সারা দিন কী হয়, কী হয় উত্তেজনা নিয়ে ঘুরে বেড়ালেন। তবে প্রকাশ্যে কেউই এ নিয়ে বাঁধা গতের বাইরে কিছুই বলতে পারলেন না। আসলে রাজ্য নেতাদের কাছে অমিত-নীতীশের আলোচনার কোনও তথ্যই নেই।

তবে দু’তরফের নেতাদের আশা নীতীশ কুমারের নৈশভোজে মিটে যাবে সমস্যা। কারণ দুপুরে দলের ব্লকস্তরের কর্মীদের ভাষণে বিজেপি সভাপতি ইঙ্গিত দিলেন আসন সংখ্যা কোনও সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, ‘‘বিরোধীরা আবোলতাবোল বকা বন্ধ করুন। নীতীশ কুমারের সঙ্গে জোট বেঁধেই বিহারের ৪০টি আসনে নির্বাচন লড়ব আমরা।’’ রাজনৈতিক মহলের মতে, তাতে স্পষ্ট বক্তব্য থাকলেও আসন ভাগ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এ দিন নীতীশ-অমিত বৈঠকে হাজির ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি নিত্যানন্দ রায় ও উপমুখ্যমন্ত্রী, বিজেপির সুশীল মোদী। দুই নেতার মধ্যে কী কথা হয়েছে তা নিয়ে এঁরাও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। রাতে মুখ্যমন্ত্রী নিবাসের ভোজে দু’তরফের বাছাই নেতাদের ডাকা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল বলছেন, বিজেপির উপরে কিছুটা হলেও নারাজ নীতীশ। বিহারে লোকসভা নির্বাচনে বেশি আসনের দাবিদার তিনি। ২০১০ সালে বিজেপিতে রীতিমতো প্রভাব ছিল নীতীশের। সরাসরি অটল-আডবাণীর সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। সেই সময়ে জেডিইউ বেশি আসনে লড়ত।

কিন্তু মোদী-শাহের জমানায় জোট ছেড়ে যাওয়া এবং ফের ফিরে আসার পর বিজেপির উপরে নীতীশের প্রভাব খর্ব হয়েছে। এখন মোদী-শাহের উপরে নির্ভর করেই আসন নিতে হবে তাঁকে। গতবার বিজেপি রাজ্যে ২২টি আসনে জিতেছিল। এ বারে জেতা আসনের চেয়ে কম আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়েছে তারা। তবে ২০০৯ সালের মতো নীতীশ কুমারের দলও ২৫টি আসনে লড়তে পারবেন না। তাঁদের ৮ থেকে ১২টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। আর নীতীশ অন্তত ১৫ আসনের দাবিদার।