দিল্লি জুড়ে পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ। বাড়ির সামনে আমজনতার ভিড়। নেতাদের দৌড়দৌড়ি। টুইটের ঢল। 

মঙ্গলবার ছিল অমিত শাহের জন্মদিন। 

পঞ্চান্নতে পা দিলেন নরেন্দ্র মোদীর ‘অঘোষিত’ উত্তরসূরি। ফলে তাঁর জন্মদিন ঘিরে বিজেপির নেতা-কর্মীদের উৎসাহ থাকবে, স্বাভাবিক। কিন্তু বিরোধী শিবিরের অনেক নেতাও আজ শুভেচ্ছা জানালেন তাঁকে। 

সকাল সকাল ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরে টুইটেও লিখলেন, ‘‘কর্মঠ, দক্ষ সংগঠক ও মন্ত্রিসভায় আমার সহযোগী অমিত শাহের জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা। (আপনি) সরকারে অমূল্য ভূমিকা পালন করেন। 

ভারতকে শক্তিশালী ও নিরাপদ করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভগবান আপনার দীর্ঘ আয়ু দিন ও সব সময় সুস্থ রাখুন।’’ তার পর একে একে শুভেচ্ছা জানান রাজনাথ সিংহ, নিতিন গডকড়ী, রবিশঙ্কর প্রসাদ, স্মৃতি ইরানি...। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর হিন্দিতেই শুভেচ্ছা বার্তা লিখলেন। 

দিন গড়াতে শুভেচ্ছা জানালেন নীতীশ কুমার, যাঁর নেতৃত্বে ক’দিন আগেই বিহারে বিধানসভা ভোটে লড়ার কথা ঘোষণা করেছেন শাহ। চমকে দিয়ে বার্তা এল টিডিপির চন্দ্রবাবু নায়ডুরও। যিনি ক’দিন ধরেই বলে আসছেন, এনডিএ ছেড়ে ভুল করেছেন। অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি তো সটান দিল্লি এসে শাহের সঙ্গে দেখাই করে গেলেন। বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জয়কে সুগম করতে কংগ্রেসের যে রাজীব শুক্ল সাহায্য করেছেন, অভিনন্দন এল তাঁর কাছ থেকেও। কংগ্রেসশাসিত দুই রাজ্য মধ্যপ্রদেশ ও পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ এবং অমরেন্দ্র সিংহও শুভেচ্ছা জানালেন। 

দিনের একটি বড় সময় শুভেচ্ছার জবাব দিতে ব্যয় করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি। সবথেকে বড় উত্তরটি দিলেন নরেন্দ্র মোদীকে। লিখলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার শুভেচ্ছার জন্য হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞ। আমরা সব বিজেপি কর্মী আপনার নেতৃত্বে ‘নতুন ভারত’-এর ভাবনা বাস্তবায়িত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনার পরিশ্রম ও মাতৃভূমির প্রতি আত্মনিবেদন আমাদের নিরন্তর প্রেরণা জোগায়।’’ বাকি সকলকে এক লাইনের ‘ধন্যবাদ’। 

শুভেচ্ছা বার্তায় অনেকেই এমন তারিফ করেছেন, যেন মনে হচ্ছে দেশের সর্বেসর্বা অমিত শাহই। যেখানেই এমন কথা এসেছে, পাল্টা মোদীর জয়ধ্বনিই করেছেন সতর্ক অমিত।