মসজিদ ইসলামের অপরিহার্য অংশ কি না, তা নিয়ে ফের চুলচেরা বিচার হবে না বলে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই সংক্রান্ত মামলাটি সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর দাবি আজ খারিজ করে দিল তারা। এর ফলে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমি বিতর্কে মূল মামলাটির শুনানি আর পিছোনোর অবকাশ রইল না বলে মনে করা হচ্ছে। 

রামমন্দির ঘিরে আগামী লোকসভা ভোটে যতই মেরুকরণের সম্ভাবনা থাকুক না কেন— একে নিছক জমি বিবাদের মামলা হিসেবেই দেখা হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। অক্টোবরের শেষ থেকে ফের মূল মামলার শুনানি শুরু হবে।

বিজেপি, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মনে করছে, এ দিনের রায়ের ফলে রামমন্দিরের পথে বাধা কেটে গেল। লোকসভা ভোটের আগেই রামমন্দির তৈরিতে সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সঙ্কেত মিলে যাবে। রামমন্দির আবেগকে পুঁজি করেই বিজেপি ভোটের ময়দানে নামতে পারবে।

ইসমাইল ফারুকি মামলা
• ১৯৯৩ সালে বাবরি মসজিদ ও তার লাগোয়া 
৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টে যান ইসমাইল ফারুকি মামলার রায়
• ১৯৯৪-এর ২৪ অক্টোবর পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, মসজিদ ইসলাম ধর্মের অপরিহার্য অঙ্গ নয়। নমাজ যে কোনও জায়গায় পড়া যায় ফের মামলা
• সাত বিচারপতির বেঞ্চ গড়ে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি। অযোধ্যার মূল মামলা পিছোনোর কৌশল, অভিযোগ হিন্দু সংগঠনগুলির মূল মামলার হাল
• ৬৭ একর জমি তিন ভাগে ভাগ করে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া ও রাম লালাকে দেওয়ার রায় দেয় ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। মুসলিম সংগঠনকে দেওয়া হয় মূল মসজিদের বাইরের জমি। সব পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে বৃহস্পতিবারের রায়
• বৃহত্তর বেঞ্চে যাবে না মামলা। পক্ষে দুই বিচারপতি, বিপক্ষে এক অতঃকিম
• অযোধ্যা মামলার পথে আর বাধা নেই। ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু শুনানি

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সাপেক্ষে ইসমাইল ফারুকি মামলায় ১৯৯৪-এ সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সরকার মন্দির, মসজিদ, গির্জা সবই অধিগ্রহণ করতে পারে, যদি না সংশ্লিষ্ট ধর্মে তার আলাদা কোনও তাত্পর্য থাকে। মসজিদ ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়। কারণ নমাজ যে কোনও জায়গাতেই পড়া যেতে পারে। 

ইকবাল আনসারি এবং মহন্ত ধর্মদাস। বৃহস্পতিবার। ছবি: পিটিআই।

রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জমির ভবিষ্যৎ ঠিক করতে বসার পরে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চের সামনে দাবি ওঠে, ১৯৯৪-এর ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা হোক। কারণ ইসলামে মসজিদ আবশ্যিকই না হলে অযোধ্যার জমিতে মুসলিমদের দাবি নস্যাৎ করে দেওয়া হতে পারে।

আজ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু এ-ও বলেছে, অযোধ্যার জমি বিবাদের মামলায় এই রায়ের কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। কারণ ইসমাইল ফারুকি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রশ্ন ছিল, সরকার মন্দির বা মসজিদের জমি অধিগ্রহণ করতে পারে কি না। 

আরও পড়ুন: নারী সম্পত্তি নয়, অপরাধ নয় পরকীয়া 

তিন বিচারপতি এ দিন অবশ্য একমত হতে পারেননি। প্রধান বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি অশোক ভূষণ ওই রায় দিলেও উল্টো মত দিয়েছেন বিচারপতি এস আবদুল নাজির। তাঁর মতে, মসজিদ ইসলামে আবশ্যিক কি না, মুসলিমদের বিশ্বাস, ধর্মাচরণ খতিয়ে দেখে তা নতুন করে সাংবিধানিক বেঞ্চে বিচার হোক।

মুসলিম সংগঠনগুলির বক্তব্য ছিল, ইসমাইল ফারুকি মামলায় শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, সরকার মন্দির, মসজিদ, গির্জা সবই অধিগ্রহণ করতে পারে, যদি না সংশ্লিষ্ট ধর্মে তার আলাদা কোনও তাত্পর্য থাকে। কিন্তু এ ভাবে ধর্মস্থানের গুরুত্বের তুলনামূলক বিচার চলে না।  

আরও পড়ুন: একই সঙ্গে বিয়ে আর যৌন স্বাধীনতা, এই দুয়ের প্র্যাকটিস কি সম্ভব?

আট বছর আগে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, অযোধ্যার বিতর্কিত জমিকে তিন ভাগ করে তার দু’ভাগ দেওয়া হোক হিন্দুদের। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দু’পক্ষই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। ২৯ অক্টোবর থেকে ফের সেই মামলার শুনানি শুরু হবে। ২ অক্টোবর বর্তমান প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র অবসর নেবেন। এত দিন তাঁর বেঞ্চেই এই শুনানি চলছিল। নতুন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে নতুন বেঞ্চ গঠন করতে হবে।