সাতসকালে কলিং বেলের আওয়াজ। দরজা খুললেন এক তরুণী। আচমকাই ঘরে ঢুকে পড়ল এক যুবক। তার পরেই ওই তরুণীর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আটকে দিল ঘরের দরজা। সংবাদমাধ্যম ও পুলিশকে ভিডিয়ো কল করে বললেন, ওই মহিলাকে তিনি বিয়ে করতে চান। বললেন, ওই মহিলাও নাকি রাজি। ভিডিয়োতে দেখা যায়, ওই মহিলা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। গোটা মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্ত। ভোপালের মিসরোড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকালে।

রুদ্ধশ্বাস ১২ ঘণ্টা। সন্ধ্যায় ওই মডেল তরুণীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। মডেলের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে একটি ঘরে নাটকীয় ভাবে তাঁকে আটকে রাখে রোহিত সিংহ নামে বছর তিরিশের ওই যুবক। বলে, সে ওই তরুণীকে বিয়ে করবে। তরুণীর বাবা-মাকে আটকে রাখে ওই ফ্ল্যাটেরই অন্য একটি ঘরে।

ভোপালের ওই আবাসনে প্রবেশ করেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ভিডিয়ো পোস্ট করে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের বাসিন্দা রোহিত। ভিডিয়ো কল করে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করে, ওই তরুণীর প্রেমে পাগল সে।

আরও খবর: জনসনের পাউডার থেকে ক্যানসার, ৪৭০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ​

ইনস্পেক্টর সঞ্জীব চউসে জানান, কল করার পরেই আবাসন ঘিরে ফেলে পুলিশ। ফোনেই রোহিত হুমকি দিতে থাকে, ওই তরুণীকে বিয়ে করতে না পারলে সে মৃত্যুর পথ বেছে নেবে। ওই তরুণীর রক্তাক্ত দেহও দেখা যায় ভিডিয়ো কলে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিসার বলেন, পুলিশ ওই তরুণীর বাড়িতে পৌঁছে যায়। দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পরই ওই যুবক স্ট্যাম্প পেপার ও মোবাইল চার্জার চেয়ে পুলিশকে পাল্টা হুমকি দিতে থাকে। শুরু হয় কথাবার্তা। অবশেষে সন্ধ্যা নাগাদ উদ্ধার করা হয় ওই তরুণীকে। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। আদৌ কী কারণে ওই তরুণীকে আটকে রেখেছিল রোহিত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রোহিতের সঙ্গে এই মডেলের আলাপ কী ভাবে, আচমকা এই কাণ্ডই বা কেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: আজই পাকিস্তানে ফিরছেন নওয়াজ শরিফ, হতে পারেন গ্রেফতার