লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদীর সেনাপতি থাকছেন অমিত শাহ-ই।

আজ বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের গোড়ার দিকেই দলের যাবতীয় সাংগঠনিক নির্বাচন এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করা হয়। যা আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুমোদিত হয়ে যাওয়ার অর্থ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গে দলের সভাপতি দিলীপ ঘোষ— ভোটের আগে কাউকেই পদ ছাড়তে হবে না। যা শুনে বৈঠকে যোগ দিতে আসা দিলীপ একগাল হেসে বলেন, ‘‘আর কী! আরও এক বছর আপনারা আমাকে সহ্য করবেন।’’

লোকসভা ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব অমিতের হাতে তুলে দিয়েছিলেন মোদী। অমিত তখনও দলের সভাপতি হননি। কিন্তু আশিটির মধ্যে সত্তরের বেশি আসন নিয়ে আসার পরে প্রকাশ্যে অমিতকে বাহবা দিয়েছিলেন মোদী। বলেছিলেন, অমিতই লোকসভার ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ।’ বিরোধীরা নিরন্তর অভিযোগ করেন, মোদী এবং শাহ— বিজেপির এই দু’টিই ক্ষমতাকেন্দ্র। তাঁদের দাপটে বিজেপির যোগ্য নেতারাও এখন ভয়ে-ভয়ে থাকেন। ফলে লোকসভার সময়ে মোদী যে অমিতকেই সঙ্গে রাখতে চাইবেন, এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা নেই।

বিজেপি নেতারা বলছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসেই সভাপতি পদে অমিতের মেয়াদ শেষ হত। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদের নির্বাচন করার আগে দলের মণ্ডল স্তর থেকে সব ক’টি স্তরে ভোট প্রক্রিয়া করতে হয়। কিন্তু এখন সকলে লোকসভা ভোটের জন্যই ঝাঁপাচ্ছেন, ফলে সাংগঠনিক নির্বাচন করার সুযোগ কোথায়? আর ভোট-বছরে সাংগঠনিক নির্বাচন এড়ানোর নজিরও বিজেপিতে নতুন নয়। অতীতেও বারবার এই ঘটনা ঘটেছে। তার উপরে, দলের সংবিধান অনুযায়ী এখন পরপর দু’দফায় সভাপতি থাকতে পারেন কেউ। ফলে অমিত আরও তিন বছর অনায়াসে সভাপতি থাকতে পারেন। যদিও তার জন্যও ভোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

বিজেপির এক নেতার হিসেব, আজকের ঘোষণার অর্থ হল, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এমনিতেই সভাপতি থাকতে পারেন অমিত। তার পরে আরও তিন বছর। তত দিনে আরও একটি ভোট কাছাকাছি চলে আসবে। তখন চাইলে ফের দলের সংবিধান পাল্টে সভাপতি রয়ে যেতে পারেন অমিত। যদি না মাঝপথে অন্য পরিকল্পনা থাকে।