শিলংয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিয়ো পেশ করুক সিবিআই। সেই সঙ্গে তারা যে বয়ান নথিবদ্ধ করেছে, তা-ও তাঁর হাতে তুলে দিক। আজ সুপ্রিম কোর্টে এই মর্মে আর্জি জানালেন রাজীব কুমার।

রাজীবকে তারা হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল সিবিআই। পাল্টা আর্জিতে রাজীব বলেছেন, এই পদক্ষেপ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেতারা সিবিআই-কে কাজে লাগিয়ে  আইপিএস অফিসারদের উপরে চাপ বাড়াতে চাইছেন। 

রাজীবের এই নিশানার মুখে পড়ে সিবিআই পাল্টা জবাব দিতে চায়। আজ সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল জানিয়েছেন, রাজীবের হলফনামার জবাব তাঁরা পেশ করবেন। অন্য দিকে, রাজীবের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ জানান, শিলংয়ের ভিডিয়ো রেকর্ডিং আদালতে জমা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তাঁরা পৃথক আর্জি পেশ করছেন। তার জবাব দেওয়ার জন্য সিবিআই-কে সোমবার পর্যন্ত সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ এপ্রিল।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

রাজীবের অন্য আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেব বলেন, সিবিআই অভিযোগ তুলেছে, রাজীব শিলংয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। অনেক প্রশ্নে নীরব ছিলেন। সিবিআই শিলংয়ে ৪০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পুরো রেকর্ডিং সুপ্রিম কোর্টে পেশ করলেই প্রমাণ হয়ে যাবে, কে ঠিক বলছে। তাঁর কথায়, ‘‘সিবিআই ওই জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ জমা দিয়েছিল। যা দেখে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি ‘খুব খুব গুরুতর’ বলে মন্তব্য করেন। আমরা তাই চাইছি, সিবিআই রাজীবের যে বয়ান নথিবদ্ধ করেছে, তা আদালতে জমা দিক। আমাদের হাতেও তুলে দেওয়া হোক।’’

সিবিআইয়ের অভিযোগ, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ও বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রধান হিসেবে রাজীব সারদা-রোজ ভ্যালির মতো সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। রাজীব তাঁর ৮৯ পৃষ্ঠার হলফনামায় পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি টি এস ঠাকুরের বেঞ্চ বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থার কেলেঙ্কারির তদন্ত সিবিআইকে দিয়েছিল। কারণ, নানা রাজ্যে চিট ফান্ডগুলির কারবার চলছিল। কিন্তু বিচারপতি ঠাকুরের বেঞ্চ সেই রায়ে সিটের তদন্তের প্রশংসাও করেছিল।