নরেন্দ্র মোদীর মাপকাঠিতে বৃদ্ধির হারে টেক্কা দিয়েছেন মনমোহন সিংহ। প্রচার তুঙ্গে নিতে গত কাল চিদম্বরম তোপ দেগেছেন। রাতে সামাল দিতে নেমেছেন অরুণ জেটলি।

কিন্তু কী আশ্চর্য!

আজ সকালে প্রকাশিত চিদম্বরমের খবর গুগলে খোঁজ করতে গিয়েই তাজ্জব কংগ্রেস নেতারা। চিদম্বরমের খবর গুগলে সার্চ করতেই, গত কাল জেটলি কী বলেছেন সটান সেটি দেখাচ্ছে! কংগ্রেস নেতারা প্রথমে ভাবছিলেন, প্রযুক্তিগত গোলযোগ হবে। কিন্তু না! বাকিদেরও একই অভিজ্ঞতা।

অর্থাৎ, কোনও এক অদৃশ্য হাত আগে থেকেই কলকাঠি নেড়ে বসে রয়েছে। পরিসংখ্যান মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে বৃদ্ধির হারের ছবিটি পোস্ট করার পর থেকেই নাজেহাল মোদী সরকার। যে আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে মোদী নিজের বুক চাপড়াতেন, সেখানেই মাত দিলেন মনমোহন? গত তিন দিন ধরে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ থেকে পরিসংখ্যান মন্ত্রক, মায় অরুণ জেটলি— পই পই করে বোঝাচ্ছেন, এটি আদৌ সরকারি হিসেব নয়। এর পরে মন্ত্রককে ফরমান দেওয়া হয় তথ্যের সঙ্গে এটাও লিখতে যে— সরকার এখনও এই তথ্য গ্রহণ করেনি। তাই কেউ যেন কোথাও এই পরিসংখ্যান ব্যবহার না করে।

কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামছে কই! অবশেষে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনল কংগ্রেস। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা চিদম্বরমের খবরের একটি লিঙ্ক দিয়ে টুইট করলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমকে দমন করাটা এ বারে সম্পূর্ণ হল। মোদী সরকারের নীতি এই উচ্চতায় পৌঁছল। বৃদ্ধির হার নিয়ে চিদম্বরমের আক্রমণ সরাসরি অরুণ জেটলির বিবৃতিতে বদলে যাচ্ছে। বাহ মোদীজি!’’

বিজেপি চুপ এই নিয়ে। কিন্তু রহস্যের তখনও বাকি ছিল। এই টুইট সামনে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বদলে গেল ছবিটা। সকালে চিদম্বরমের যে খবরগুলি সরাসরি জেটলির বিবৃতিতে যাচ্ছিল, সেগুলি আবার যথা জায়গায় ফিরে এল। চিদম্বরমের খবরে ক্লিক করলে তাঁরই খবর আসতে শুরু করল। 

গোটা কাণ্ডের নেপথ্যে কে? রহস্য থেকেই গেল।