বসন্ত সমাগম থেকে গ্রীষ্মের সূচনাতেই এ বার ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু ভোটের মুখে বর্ষা নিয়ে দেশবাসীকে খুব জোরালো আশ্বাস শোনাতে পারল না দিল্লির মৌসম ভবন। সোমবার এ বছর দেশে বর্ষার প্রথম পূর্বাভাস দিতে গিয়ে তারা জানাল, পরিমাণগত ভাবে স্বাভাবিকের কাছাকাছি বর্ষা হতে পারে। কিন্তু বর্ষা কবে মূল ভূখণ্ডে ঢুকতে পারে, দেশের কোন অঞ্চলে কত বর্ষণ হবে, তা জানানো হয়নি। তবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, গোটা দেশে বিস্তৃত ভাবে বর্ষণ হবে এবং তা কৃষকদের উপকারে লাগবে। 

এ বারের লোকসভা ভোটে কৃষক সমস্যা জাতীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। সে-দিক থেকে বর্ষার পূর্বাভাস ভোটের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’-এর সমীক্ষা বলছে, গোটা দেশের গ্রামাঞ্চলে সেচের জল প্রাপ্তিকে গুরুত্ব দেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। পশ্চিমবঙ্গেও গ্রামাঞ্চলের ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সেচের জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। অনেকেই মনে করছেন, বর্ষা স্বাভাবিক না-হলে সেচের জলে ঘাটতি হতে পারে। 

মৌসম ভবনের আবহবিদেরা জানাচ্ছেন, গোটা দেশের গড় বৃষ্টিপাতের ৯৬ শতাংশ পাওয়া যাবে বলে মনে করা হলেও তার থেকে শেষ পর্যন্ত প্রাপ্তি তার থেকে পাঁচ শতাংশ কম হতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বার স্বাভাবিকের বেশি বৃষ্টি আশা করা কঠিন। বরং স্বাভাবিকের থেকে কম বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে (পূর্ব ভারত, উত্তর-পশ্চিম ভারত, দক্ষিণ ভারত ইত্যাদি) বর্ষার চেহারা কেমন হবে, মৌসম ভবন এ দিন তা জানায়নি। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

আবহবিজ্ঞানীদের অনেকে বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরে জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি, যাকে বলা হয় ‘এল নিনো’। স্পেনীয় শব্দ ‘এল নিনো’র অর্থ ‘ছোট্ট ছেলে’। কিন্তু আবহবিজ্ঞানে এই ছোট্ট ছেলের জন্মের তাৎপর্য গভীর। ভারতীয় উপমহাদেশে বর্ষার চেহারা কেমন হবে, তা নির্ভর করে ওই ছোট্ট ছেলের দুষ্টুমির উপরেই। ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি জোরদার হলে ভারতে বর্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে মৌসম ভবন জানিয়েছে, ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি থাকলেও তা খুব বেশি শক্তিশালী নয় এবং বর্ষা শুরুর সময় থেকে ছোট্ট ছেলের আরও শক্তিক্ষয় হবে বলে মনে করছেন আবহবিজ্ঞানীরা। 

গত বছর থেকে প্রথম পূর্বাভাসে আঞ্চলিক হিসেব দেওয়াও বন্ধ করা হয়েছে। জুনে বর্ষার দ্বিতীয় পূর্বাভাসে এগুলো জানানো হতে পারে।