রক্ষা পেলেন না মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীও!

শুরুটা হয়েছিল ত্রিপুরার বিলোনিয়ায়, লেনিনের মূর্তি দিয়ে। এ বার বাম শাসিত কেরলের কান্নুরে হাত পড়ল গাঁধীর মূর্তিতেও। তামিলনাড়ুর তিরুভত্রিয়ুরে ফের আক্রান্ত হয়েছে অম্বেডকরের মূর্তি। উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে হনুমানের মূর্তি। কালই মূর্তি ভাঙার তীব্র নিন্দা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই মতো নির্দেশও গিয়েছিল গোটা দেশে। তবু মূর্তি ভাঙার প্রতিযোগিতা অব্যাহত।

কান্নুরের থালিপারাম্বার তালুক  অফিস চত্বরে ছিল গাঁধীর আবক্ষ মূর্তিটি। বৃহস্পতিবার সকালে মূর্তিটির চশমা ভেঙে দেয় এক দুষ্কৃতী। মূর্তির গলার মালাটিও খুলে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, গেরুয়া লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি সাড়ে আটটা নাগাদ অফিস চত্বরে ঢুকে এই কাণ্ড ঘটায়। তার পরে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালায়। সিসিটিভ ফুটেজে পিছন থেকে দেখা গিয়েছে ওই ব্যক্তিকে। অভিযুক্তের খোঁজে চলছে তল্লাশি। বুধবার রাতে তিরুভত্রিয়ুরে অম্বেডকরের মূর্তিতেও কালি লেপে দেওয়া হয়েছে। বাদ যাচ্ছে না যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশও। মঙ্গলবার রাতে মেরঠে অম্বেডকরের মূর্তির উপরে হামলা হয়। বুধবার বালিয়ার খারুভা গ্রামে ভেঙে দেওয়া হয়েছে রাম-ভক্তের একটি মূর্তি। মূর্তির গায়ে সেঁটে দেওয়া হয়েছে পোস্টারও।

দু’-দু’বার বার্তা পাঠানো সত্ত্বেও, রাজ্যে–রাজ্যে মূর্তি ভাঙার ঘটনা চালু থাকায় কেন্দ্র যে অস্বস্তিতে, তা আজ কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন স্বরাষ্ট্র দফতরের কর্তারা। তবে শাসক শিবির সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছে। বিজেপির মতে, আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। মূর্তি ভাঙা ঠেকাতে হবে রাজ্য প্রশাসনকেই। সেক্ষেত্রে যে যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনও ব্যর্থ হচ্ছে তা ঘরোয়া মহলে স্বীকার করে নিচ্ছেন বিজেপি নেতারা।

এরই মধ্যে আজ মুখ খুলেছেন রজনীকান্ত। তামিলনাড়়ুর বিজেপি নেতা এইচ রাজার হুমকির পর ভেলোরে পেরিয়ারের মূর্তি ভাঙায় কাল সরব হয় তামিল রাজনৈতিক দলগুলি। সদ্য রাজনীতিতে আসা রজনীকান্ত আজ রাজার মন্তব্যকে ‘বর্বরোচিত’ আখ্যা দেন। আর বিজেপি-কে মায়াবতীর কটাক্ষ, ‘‘লম্বা-চওড়া কথা না বলে দোষীদের গ্রেফতার করে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনুন। না হলে ধরে নেব শাসক শিবিরই ওই কাজ করছে।’’