ভিড় বাসের মতোই ঠাসাঠাসি অবস্থা। সেন্ট্রাল হলে যৌথ অধিবেশনের সময় আনাচে-কানাচে চেয়ার পাততে হয়। তবু দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেক সাংসদকে। এই অবস্থায় নতুন প্রযুক্তি চালু করা দূরস্থান, ২০২১ সালের জনগণনার পর ২০২৬ সালে আসন পুনর্বিন্যাস (তথা সাংসদ বৃদ্ধি) হলে লোকসভায় সদস্যদের বসতে দেওয়ারও জায়গা হবে না!

অতএব? নতুন সংসদ ভবন তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আবার নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে। সদ্য গতকালই নর্থ অ্যাভিনিউয়ে সাংসদদের জন্য নতুন দোতলা ভবন (দোতলায় আবাসন কমিটির সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের অনুরোধে পুজোর ঘরও রয়েছে) উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সংসদের নতুন ভবন হবে না কি বর্তমান ভবনের আধুনিকীকরণ করা হবে, তা নিয়ে অফিসারেরা মাথা ঘামাচ্ছেন। কিন্তু আমি চাইছি, ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছরে এটি শেষ হোক। সময় কম, তবু দেখা যাক।’’  সূত্রের খবর, তিনি নতুন ভবন তৈরি করে ‘ইতিহাস’ সৃষ্টির পক্ষপাতী। 

ঘটনা হল, নতুন ভবন তৈরির জন্য সংসদ ভবনের এক কিলোমিটারের মধ্যে বায়ু ভবনের পিছনে ছয় একরের জমিও চিহ্নিত হয়েছে। সাউথ ব্লক ও সেনা ভবনের পিছনে আরও দু’টি জমি দেখা হয়েছে। রাজপথের নীচে সুড়ঙ্গ তৈরি করলে বর্তমান ভবন থেকে নতুন ভবনে যাতায়াতও করা যাবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ভবন হবে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের ভবনের মতো বহুতল। 

কিন্তু পরিকল্পনা রূপায়ণে সমস্যা অনেক। লোকসভা সচিবালয় সূত্র জানাচ্ছে, ১৯২১ সালে দুই ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন লাটিয়েন্স ও হারবার্ট বেকার সংসদ ভবনের কাজ শুরু করেছিলেন। শেষ হতে সময় লাগে ছয় বছর এবং তখন খরচ হয়েছিল ৮০ লক্ষ টাকার বেশি। ফলে এখন খরচের বিষয়টি তো আছেই। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা, যে সময়সীমা প্রধানমন্ত্রী বেঁধে দিয়েছেন, তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া মুশকিল। রাজপথের নীচে সুড়ঙ্গ তৈরি, তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, লোকসভা, রাজ্যসভা, সেন্ট্রাল হল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঘর ইত্যাদি মিলিয়ে ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব।

কেন্দ্রের নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের এক কর্তার প্রশ্ন, ‘‘প্রথমত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন ভবন করা হবে কি না, নাকি পুরনো ভবনেই ব্যবস্থা হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন ভবন কী ভাবে এত তাড়াতাড়ি তৈরি করা যাবে? আর যদি পুরো কাজকর্মই নতুন ভবনে চলে যায়, তা হলে বর্তমান ভবনের কী হবে? কারও পক্ষে দু’টি ভবনের মধ্যে রোজ যাতায়াত সম্ভব নয়। এ ছাড়া, একটি পাঠাগার ভবনও তো সংসদ চত্বরে তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেটির অনেক ঘর ব্যবহার হয় না।’’ প্রসঙ্গত, মীরা কুমার স্পিকার থাকার সময় থেকেই বলতে শুরু করেছিলেন, সংসদের নতুন ভবন হোক। প্রাক্তন স্পিকার সুমিত্রা মহাজনও প্রস্তাব দিয়েছিলেন, বর্তমান সংসদকে ‘ঐতিহ্যবাহী ভবন’ করে জনতার জন্য খুলে দেওয়া হোক। কারণ, আসন বাড়লে এই ভবনে সাংসদদের আর বসানো যাবে না।