• অনমিত্র সেনগুপ্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘ঘরশত্রু’র খোঁজ শুরু আধাসেনায়

CRPF
ছবি: পিটিআই।

বাহিনীতে কোনও ‘ঘরশত্রু বিভীষণ’ রয়েছে কি না তারই এখন খোঁজ চলছে আধাসেনায়। 

জঙ্গি যোগে ধৃত জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংহের কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে সব আধাসেনায় নতুন করে এক দফা ‘সিকিয়োরিটি অডিট’-এর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উদ্দেশ্য হল, কোনও আধাসেনায় দেবেন্দ্রের মতো কেউ লুকিয়ে রয়েছেন কি না তা খুঁজে বার করা। আজ গুরুগ্রামের কাছে কাদারপুরে সিআরপিএফের গ্রুপ হেডকোয়ার্টারে দাঁড়িয়ে বাহিনীর ডিজি এ পি মহেশ্বরী বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে লঘু করার প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।’’ 

দু’সপ্তাহ আগে শ্রীনগর থেকে হিজবুল জঙ্গিদের গাড়িতে বসিয়ে নিরাপদে জম্মু পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রেফতার হন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি পদমর্যদার অফিসার দেবেন্দ্র সিংহ। তদন্তে জানা যায়, টাকার বিনিময়ে ওই জঙ্গিদের জম্মু পৌঁছে দেওয়ার বরাত নিয়েছিলেন ওই পুলিশ অফিসার। তদন্তে জানা গিয়েছে, অতীতেও এ ভাবে একাধিক বার জঙ্গিদের নিয়ে গিয়েছেন ওই পুলিশ অফিসার। তাঁর সঙ্গে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনাও পূর্ণ মাত্রায় রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। দেবেন্দ্র একা না ওই কাজে তাঁর কোনও সহকারী ছিল তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-এর গোয়েন্দারা। যদিও সরকারের একটি অংশের দাবি, গোয়েন্দা সংস্থা র’ এবং ইনটেলিজেন্স বুরো (আইবি)-এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের শিকার হয়েছেন ওই অফিসার। সম্প্রতি জম্মুতে বিএসএফের একটি শিবিরে বিস্ফোরক রাখার দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন সমর পাল নামে এক জওয়ান। ফলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দেবেন্দ্রের মতো আরও অনেকেই দেশ-বিরোধী কাজ করে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। যার ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাহিনী মোতায়েন, গতিবিধি বা অপারেশন সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ারও। আর তা হলে জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বের মতো উপদ্রুত, ছত্তীসগঢ়ের মতো মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় মোতায়েন আধাসেনার জন্য তা প্রাণঘাতী হতে পারে। 

আরও পড়ুনপরেশকে আলোচনার টেবিলে চান অমিত শাহ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জঙ্গি দমনে প্রায় ৭০ হাজার সিআরপিএফ মোতায়েন রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। সংখ্যার দিক থেকে আধাসেনার মধ্যে যা সর্ব্বোচ্চ। সে কারণে দেবেন্দ্রের ঘটনায় স্বভাবতই উদ্বিগ্ন সিআরপিএফ প্রধান মহেশ্বরী। তিনি বলেন, ‘‘দেবেন্দ্র কাণ্ডের পরে বাহিনীর ভিজিল্যান্স ও গোয়েন্দা শাখা নিরাপত্তাজনিত কোনও ত্রুটি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখেছে। নিরাপত্তা প্রশ্নে বাহিনীর কিছু নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে। যা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন