পাকিস্তানকে জড়াবেন না— বলে যাচ্ছে সব পক্ষ। তাতেই যেন বেশি করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির নাম জড়িয়ে পড়ছে কর্নাটক ভোটের সঙ্গে। এর আগে গুজরাতের ভোটেও এমনটিই দেখা গিয়েছিল। সে বার ছিল একটি নৈশভোজ ও কংগ্রেসের নেতা মণিশঙ্কর আইয়ারের মন্তব্য। যার জেরে দল থেকে সাসপেন্ডও হন তিনি। এ বারেও বিতর্ক উস্কে দিলেন সেই মণিশঙ্করই।

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভেঙে মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ তৈরির জন্য মহম্মদ আলি জিন্নাকে জাতির জনক মানে পাকিস্তান। স্বাধীন ভারতে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও কেন তার ছবি টাঙানো থাকবে— তা নিয়ে ধুন্ধুমার বাধিয়েছে বিজেপি ও তার সঙ্গীরা। এরই মধ্যে মণিশঙ্কর আজ মনে করিয়ে দিয়েছেন দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা আসলে হিন্দু মহাসভার নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকার। হিন্দুদের সর্বভারতীয় পরিচয়কে তুলে ধরতে তিনিই প্রথম ‘হিন্দুত্ব’ শব্দটি উদ্ভাবন করেছিলেন। কথাগুলি ইতিহাসের পাতায় নেই তা নয়, কিন্তু মণিশঙ্কর পাকিস্তানে এসে কথাগুলি বলায় তা অন্য মাত্রা পেয়ে গিয়েছে।

এর আগে গুজরাত ভোটের মুখে নরেন্দ্র মোদীকে ‘নীচ’ আখ্যা দিয়ে দলকে বেজায় অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন মণিশঙ্কর। অস্বস্তি এড়াতে দল তাঁকে সাসপেন্ড করে। কিন্তু মোদী নিন্দায় নাছোড় মণিশঙ্কর। পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘‘ভারতের অবস্থাটা জঘন্য। ১৯২৩ সালে ভি ডি সাভারকার নামে এক জন তাঁর বইয়ে ‘হিন্দুত্ব’ শব্দটা আবিষ্কার করেছিলেন, শাস্ত্রে যার কোনও উল্লেখই ছিল না। দ্বিজাতি তত্ত্বের সেই প্রথম প্রবক্তাই ভারতের বর্তমান শাসকদের আদর্শগত গুরু।’’ এর পরে মণিশঙ্কর চলে আসেন মোদী ও নির্বাচনের প্রসঙ্গে। বলেন, ‘‘গত ভোটে ৭০ শতাংশ ভোটার মোদীকে ভোট দেননি। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিভক্ত ছিলেন বলে তাঁরা জিততেও পারেননি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওই ৭০ শতাংশের একটি বড় অংশ একজোট হয়ে ভারতের বর্তমান বিচ্যুতির অবসান ঘটাবে।’’

জিন্নাকে ‘কয়েদ-ই-আজ়ম’ তথা ‘মহান নেতা’ বলার জন্য ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মণিশঙ্কর। পাল্টা প্রশ্ন ছোড়েন তিনি, ‘‘পাকিস্তানে অনেককে জানি, যাঁরা মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীকে মহাত্মা গাঁধী বলেন, তাতে কি এটা প্রমাণ হয় যে তাঁরা দেশপ্রেমিক নন?’’

মণিশঙ্কর হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী বিজেপি ও মোদীকে নিশানা করলেও, কংগ্রেস তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছে না। গুলাম নবি আজাদের কথায়, ‘‘মণিশঙ্করকে কংগ্রেস সাসপেন্ড করেছে। এ বার তাঁর অবসর নিয়ে বাড়িতে বসে থাকা উচিত।’’

রাহুল গাঁধীর দল সরে থাকতে চাইলে কী হবে, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেসকেই। তাঁর কথায়, ‘‘এই সবে (রবিবার) কংগ্রেস ধুমধাম করে টিপু সুলতানের জন্মদিন পালন করল। পাকিস্তানেও স্মরণ করা হল তাঁকে। আর আজ মণিশঙ্কর প্রশংসা করছেন  জিন্নার। গুজরাত হোক বা কর্নাটকের ভোট, বুঝি না কংগ্রেস কেন প্রতি বার পাকিস্তানকে জড়িয়ে নেয়।’’ এই সূত্রে পুরনো অভিযোগ তুলে আনেন অমিত, ‘‘গুজরাত ভোটের মুখে পাকিস্তানের কয়েক জন শীর্ষকর্তার সঙ্গে নৈশভোজ করে বিজেপিকে হারানোর চক্রান্ত হয়েছিল। কর্নাটক ভোটের আগে এখন এই টিপু আর জিন্না প্রেম! কংগ্রেসের প্রতি আবেদন, দেশের রাজনীতিতে অন্য রাষ্ট্রকে জড়াবেন না।’’ দু’দিন আগে পাকিস্তান ঠিক একই অভিযোগ তুলেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানকে না জড়িয়ে বিজেপি যেন নিজের শক্তিতে ভোটে লড়ে।