ভুটানে একটি স্যাটেলাইট নজরদারি ও ডেটা রিসেপশন কেন্দ্র খুলছে ভারত। ইসরোর তরফ থেকে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) থেকে মাত্র ১২৫ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের স্বয়ংশাসিত অঞ্চলে বেজিং ইতিমধ্যেই এই ধরনের কেন্দ্র করেছে। সেখানে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও গড়েছে তারা। 

ভারতের এই পদক্ষেপ, চিনকে পাল্টা দিতেই করা হচ্ছে, মনে করছে কূটনৈতিক সূত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভুটানে এই ‘গ্রাউন্ড স্টেশন’টি তৈরির কাজ খুব শীঘ্রই শেষ হবে। তাঁর কথায়, ‘‘ভুটানের সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্নে এই মহাকাশ কেন্দ্র একটি নতুন অধ্যায়। এর ফলে ভুটান উপকৃত হবে। পরিবেশ এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, টেলি মেডিসিন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে যাবে তারা।’’ 

২০১৭-তে ভারতের খরচে ইসরো দক্ষিণ এশিয়া উপগ্রহটিকে মহাকাশে ছাড়ে। সার্ক সদস্যভূক্ত দেশগুলির জন্য তৈরি করা হয়েছিল পৃথক এই উপগ্রহ। গোটা প্রকল্পটি থেকে অবশ্য সে সময় সরে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান।

যদিও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে ভুটানের সুবিধার্থে ইসরো এই কেন্দ্রটি গড়ছে, কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রের মতে তিব্বতের ওই উপগ্রহ কেন্দ্রটির সঙ্গে পাল্লা নজরদারির জন্যই এই উদ্যোগ। চিন যে কেন্দ্রটি গড়েছে তা যে শুধুমাত্র ভারতীয় উপগ্রহের উপর নজরদারি করতে পারবে তাই-ই নয়, প্রয়োজনে তাকে ‘অন্ধ’ও করে দিতে পারবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে যাতে চিনকে পাল্লা দেওয়া যায় তার জন্যই এখন ভুটানে চেষ্টা চলছে।