কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সহজ হতে চলেছে সুইস ব্যাঙ্কে গচ্ছিত ভারতীয়দের লেনদেনের তথ্য পাওয়া। কোনও ভারতীয় সুইস ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে গোপনীয়তার পর্দা সরিয়ে তা নয়াদিল্লিকে জানানোর প্রস্তাবে সায় দিল সে দেশের পার্লামেন্টারি কমিটি। এ জন্য সুইৎজারল্যান্ডের আইনে একটি সংশোধনী নিয়ে আসার জন্যও সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

লোকসভা ভোটের প্রচারের সময়ে বিদেশে গচ্ছিত ভারতীয়দের কালো টাকা ফিরিয়ে দেশের মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে পৌঁছনোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। বাস্তবে তেমন কিছু না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিনিয়ত খোঁচা খেতে হয় বিরোধীদের থেকে।

তবে সুইস ব্যাঙ্কে গচ্ছিত ভারতীয়দের কালো টাকার তথ্য পেতে শুধু ভারত নয়, বিশ্বের অন্য দেশগুলিরও ঘাম ছুটে যাচ্ছে। কারণ, সে দেশের গোপনীয়তা আইন মেনে ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের সম্পর্কে তথ্য দিতে রাজি নয় সরকার। লেনদেনের খবর পেতে বেসরকারি সূত্রের উপরে ভরসা করেই এত দিন এগোতে হতো ভারতের মতো দেশগুলিকে। কিন্তু কালো টাকার তথ্য পেতে গিয়ে এই জট কাটানোর জন্য সে দেশের সরকারের সঙ্গে অনেক দিন থেকেই কথাবার্তা এগোচ্ছে নয়াদিল্লির। ২০১৯ সালেই তথ্য আদানপ্রদানের এই চুক্তি বাস্তবায়িত করতে এগোচ্ছে সে দেশের সরকার। সে দেশের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ— ন্যাশনাল কাউন্সিল এ ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। এখন পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের ‘কমিশন ফর ইকনমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্যাক্সেস’-ও ওই প্রস্তাবে সায় দিয়ে দিল। উচ্চ কক্ষের ছাড়পত্র পেলেই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। সে ক্ষেত্রে কোনও ভারতীয় সুইৎজারল্যান্ডের ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে তার অ্যাকাউন্ট নম্বর, নাম, ঠিকানা, লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সে দেশের সরকারকে জানাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কটি। তার পরেই সেখানকার সরকার তা ভারতকে সরাসরি জানাবে।