বড় ছেলের বিয়েতে বোধহয় হাজির থাকতে পারছেন না লালুপ্রসাদ। তাই দিল্লির ‘এইমস’-এ বসে ডিজিটাল ডিভাইসে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে চান পশুখাদ্য মামলায় ‘জেলবন্দি’ বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি যাতে হাসপাতালে বসেই বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে পান তার জন্য এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ একটি সংস্থার সঙ্গে লালু পরিবারের কথা প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছে।

‘প্যারোল’-এ লালু ছুটি না পেলে এই সংস্থাই ১২ মে তাঁর বড় ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবের বিয়ের রেকর্ডিং ও সরাসরি ‘ডিজিটাল স্ট্রিমিং’ করবে। যাদব পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক আরজেডি বিধায়ক বলেন, ‘‘সাহেবের প্যারোল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সে কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা। তবে প্যারোল পেলে তো ভালই হয়।’’

বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দারোগাপ্রসাদ রায়ের নাতনি, ঐশ্বর্যের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে তেজপ্রতাপের। ঐশ্বর্যের বাবা চন্দ্রিকাপ্রসাদ নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন। ১৮ এপ্রিল পটনার মৌর্য হোটেলে দু’জনের আংটি বদল হয়। পরে অনুষ্ঠানের ভিডিও তাঁকে স্মার্টফোনে পাঠানো হয়। তখনই তিনি জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান ‘লাইভ’ দেখতে চান।

বিধায়ক চন্দ্রিকা রায়ের সরকারি বাসভবন ৫ নম্বর স্ট্র্যান্ড রোডেই বিয়ের অনুষ্ঠান হবে। কার্ড দেওয়াও শুরু হয়েছে। নিমন্ত্রিত ৫ হাজার। তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য, বিভিন্ন রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরাও। তেজপ্রতাপ বলেন, ‘‘আমি মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও নিমন্ত্রণ করতে চাই।’’ তাঁর মতে, ‘‘রাজনীতির থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ককে হাজার কিলোমিটার দূরে রাখতে চাই।’’ দিল্লি গিয়ে তেজপ্রতাপ নিজে প্রধানমন্ত্রীকে নিমন্ত্রণ করতে চান। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গাঁধী, রাহুল গাঁধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরীবাল, মায়াবতী, অখিলেশ যাদব এবং বিহারের যাদব পরিবারের ‘সম্বন্ধী’ মুলায়ম সিংহ যাদবের পুরো পরিবারকেই আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।