কখনও কোনও প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসকের ধর্ম জানতে চেয়ে তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোথাও আবার কোনও সংখ্যালঘুর টুপি ছিঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষের ছবি ফের যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। ধর্মস্থানের অদূরে বসে মাংস খাওয়ার অভিযোগে এ বার চার শ্রমিককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল কয়েক জন যুবকের বিরুদ্ধে।

বরেলীর বাহেরি এলাকার ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রহৃত শ্রমিকদের মধ্যে দু’জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। মারধরের ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত কয়েক জন যুবককে চিহ্নিত করা হলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

পীযূষ রাই নামে এক সাংবাদিক টুইটারে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন। ‘বহুজন৪ইন্ডিয়া’ নামে আর একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও গোটা ঘটনার ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ওই চার শ্রমিক মাটিতে বসে। তাঁরা দুপুরের খাওয়া শুরু করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কয়েক জন ঘিরে ধরে তাঁদের মারতে শুরু করে। চড়-থাপ্পড়ের সঙ্গে জুতো, বেল্ট দিয়েও মারা হয় তাঁদের।

বাহেরি থানার পুলিশ কর্তা ধনঞ্জয় সিংহ জানান, একটি বাড়ি তৈরির কাজের জন্য ওই দৈনিক শ্রমিকদের এনেছিলেন এক রাজমিস্ত্রি। যে জায়গায় বসে ওই চার জন খাচ্ছিলেন, তার পাশে একটি ছোটখাট দেবস্থান রয়েছে। গাছের তলায় দেব-দেবীর মূর্তি রাখা থাকে সেখানে। মারধরের সময় প্রথমে ওই শ্রমিকরা জানান, তাঁরা নিরামিষ খাবার খাচ্ছেন। দ্বিতীয় ভিডিয়োটিতে দেখা যায়, পরের দিকে এক শ্রমিক স্বীকার করেন তাঁর টিফিন কৌটোয় মহিষের মাংস ছিল। যা শুনে তাঁদের উপরে অত্যাচার আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বরেলীর এসএসপি মুনিরাজ জি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে আদেশ বাল্মীকি এবং মণীশ নামে দুই স্থানীয় যুবক ছিল। চার জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবকও সেখানে ছিল। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে ধরা পড়েনি কেউই।

সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘটনার সমালোচনা করে আপ নেতা সঞ্জয় সিংহ বলেন, ‘‘এ বার বিজেপিকে যাঁরা বিপুল ভোট দিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এনেছেন, তাঁদের বলতে চাই যে এই ভিডিয়োটি দেখুন। আমিষ খাবার খেলে এ বার এই ধরনের ঘটনা আপনার সঙ্গেও হতে পারে।’’