শরীর খারাপ। তাই দশ দিন স্কুলে আসতে পারেনি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীটি। ১০ দিন পর যখন সে স্কুলে গিয়েছিল হোম ওয়ার্ক করে নিয়ে যায়নি। সেই ছিল তার অপরাধ। এই অপরাধের জন্য ওই সরকারি স্কুলের এক শিক্ষক ষষ্ঠ ওই ছাত্রীটিকে শাস্তি দিলেন ছয়দিন ধরে। আর শাস্তি দেওয়ার ভার তুলে দিলেন ওই ছাত্রীরই সহপাঠীদের।

এমনই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়া জেলার থান্ডলা শহরের জওহর নবোদয় স্কুলে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মনোজ বর্মা। তিনি স্কুলে অনুপস্থিত থাকা ও হোমওয়ার্ক না করে আসা ওই ছাত্রীটিকে শাস্তি দেওয়ার ভার তুলে দিয়েছিলেন ওই ক্লাসেরই ১৪ জন ছাত্রীর হাতে। তারা শিক্ষকের নির্দেশে ওই ছাত্রীটিকে প্রত্যেকে দু’টি করে চড় মারত। এ ভাবেই ওই শিক্ষকের মদতে টানা ছ’দিন ধরে নিগ্রহের শিকার হয়েছিল ওই ছাত্রীটি। 

ওই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৮-র জানুয়ারিতে। তার পর এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই হইচই পড়ে যায়। অত্যাচারিত ওই ছাত্রীটির বাবা অভিযোগ জানান স্কুলে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গড়ে স্কুল। সেই কমিটি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত করে শিক্ষক মনোজ বর্মাকে। ইতিমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীর বাবা পুলিশের কাছেও ওই অভিযুক্ত শিক্ষকের নামে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

ওই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পরে, সোমবার ওই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন থান্ডলা তহসিলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয় পতিদার। ওই শিক্ষককে আপাতত ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অত্যাচারিত ওই ছাত্রীর বাবা শিবপ্রতাপ সিংহ জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকেই স্কুলে যেতে চাইত না তাঁর মেয়ে। এমনকি এই ঘটনার প্রভাব থেকে মুক্ত করতে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন অত্যাচারিত ছাত্রীর বাবা। 

আরও পড়ুন: এই ছবিতে রয়েছে একটি স্নো লেপার্ড, আপনি দেখতে পাচ্ছেন?