নির্বাচনের দিনক্ষণও এখন ঠিক হয়নি। ক’দফায় ভোট হবে ঠিক হয়নি তা-ও। কিন্তু আজই লোকসভা নির্বাচনের ফল কার্যত ঘোষণা করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী! ‘মন কি বাত’-এর শেষ পর্বটিতে বলে রাখলেন, ফের কথা হবে মে মাসে! ঠিক যেমন সঞ্চালকেরা বলেন, ‘ফিরে আসছি বিরতির পর!’ অর্থাৎ কার্যত দাবি করেই রাখলেন, আগামী ভোটে জিতবে তাঁর দল, প্রধানমন্ত্রীও হবেন তিনিই। 

মোদীর এই আগাম ঘোষণা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস। 

পাঁচ বছর আগে ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রতি মাসের শেষ রবিবারে রেডিয়ো-য় ‘মন কি বাত’ নামে একটি অনুষ্ঠান চালু করেন মোদী। সেই অনুষ্ঠানে মূলত নিজের নানা চিন্তাভাবনার কথাই বলেন তিনি। এ নিয়ে বিরোধীরা কম কটাক্ষ করেননি।

আরও পড়ুন: নমো-র নানা দিক

আজ ছিল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রবিবার। সাধারণত সকাল এগারোটায় অনুষ্ঠানটি হয়ে থাকে। আজ সকাল ন’টাতেই টুইট করে দেশবাসীকে ৫৩-তম পর্বের অনুষ্ঠানটি শোনার জন্য আবেদন করেন মোদী। তিনি টুইটে লেখেন, ‘‘আজকের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১১টায় অনলাইন থাকবেন। পরে যেন বলবেন না আমি আপনাদের আগাম জানাইনি।’’ বার্তার শেষে একটি স্মাইলি-র ইমোজিও যোগ করে দেন তিনি। 

পুলওয়ামা কাণ্ডের পরে বাতাসে যুদ্ধের গন্ধ। স্বভাবতই রেডিয়ো-র ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোদী কী বার্তা দেন, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল সব মহলেই। শুরুতেই পুলওয়ামা হামলায় নিহত সেনা-জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানান তিনি। যুদ্ধে নিহত সেনাদের জন্য আগামিকাল একটি জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের উদ্বোধন হবে বলেও জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নিহত জওয়ানদের পরিবারের কথা। পদ্ম প্রাপকদের কথা। এমনকি বীরসা মুণ্ডা এবং জামশেদজি টাটার কথাও।  

অনুষ্ঠানের একেবারে শেষে এসে শ্রোতাদের চমকটি দেন মোদী। জানান, সামনেই লোকসভা নির্বাচন। ওই দুই মাস নির্বাচন নিয়ে নেতারা ব্যস্ত থাকবেন। তিনিও একজন প্রার্থী। তাই সুস্থ গণতান্ত্রিক পরম্পরা বজায় রাখার জন্য আজই ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব। পরবর্তী ‘মন কি বাত’ হবে ভোট শেষে। অর্থাৎ মে মাসের শেষ সপ্তাহে। 

এর পরেই মোদী যোগ করেন, ‘‘এর অর্থ হল মার্চ, এপ্রিল ও মে ওই তিন মাসে আপনাদের যে চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা জমা হবে, তা নিয়ে আমি মে মাসের শেষ সপ্তাহে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আলোচনা করব। আপনাদের আশীর্বাদের শক্তিতে আমি আবার নতুন করে ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করব।’’ 

আরও পড়ুন: কৃষি ঋণ নিয়ে বিরোধীদের নিশানা মোদীর

মোদীর ওই আপাত ইচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। সরকারি অনুষ্ঠানকে এ ভাবে প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন কিনা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে চলেছে কংগ্রেস। বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনকেও জানাবে বলে স্থির করেছে। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেড়ার কথায়, ‘‘আজ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ভুলে যাচ্ছেন, তাঁকেও দু’মাসের মধ্যে পরীক্ষায় বসতে হবে। তিনি নিজেকে নিজে পাশ করাতেই পারেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ভুলে যাচ্ছেন, ওই পরীক্ষায় শেষ কথা 

বলে জনতাই।’’