আধাসেনায় অবসরের নির্দিষ্ট বয়স নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে ৩১ মে থেকে চারটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকশো কর্মীর অবসর ও অবসরভাতা নিয়ে ঝুলে রয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সিআইএসএফ ও আসাম রাইফেলসের কর্মীরা ৬০ বছর বয়সে অবসর নেন। কিন্তু সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি-তে কনস্টেবল থেকে কম্যান্ডান্ট স্তরের আধিকারিকেরা অবসর নেন ৫৭ বছর বয়সে। তার চেয়ে উপরের স্তরের আধিকারিকেরা অবসর নেন ৬০ বছরে। জানুয়ারি মাসে দিল্লি হাইকোর্ট একটি রায়ে জানায়, চারটি বাহিনীতে অবসরের এই নিয়ম ‘বৈষম্যমূলক’ ও ‘সংবিধান-বহির্ভূত’। ১০ মে সেই রায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের আর্জি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের। তাই তা আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

ফলে এখন আধাসেনায় অবসরের একটি নির্দিষ্ট বয়স স্থির করতে হবে কেন্দ্রকে। সরকারি সূত্রের খবর, ৩১ মে থেকে চারটি বাহিনীতে কয়েকশো কর্মীর অবসরের সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে। কোনও বাহিনী ওই কর্মীদের বাড়িতেই থাকতে বলেছে। কোনও বাহিনী আবার তাঁদের অফিসে আসার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ওই কর্মীরা কোনও কাজ করতে পারবেন না। বিষয়টি নিয়ে চার বাহিনীর সব ইউনিট থেকেই দিল্লির সদর দফতরে বারবার বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও কর্মিবর্গ বিভাগ এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তা জানাচ্ছেন, ৩০ মে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যেরা শপথ নেন। তার এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। কিন্তু এর মধ্যে আবার আদালতে যান ওই চার বাহিনীর কয়েক জন আধিকারিক। ৩১ মে তাঁদের অবসর  নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালত এখন তাঁদের অবসরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে আইনি জটিলতা বেড়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে এই বিষয় সংক্রান্ত ফাইল পাঠানো হয়েছে। যদি অবসরের বয়স বাড়ানো হয় তাহলে সেই কর্মীদের কাজে লাগানোর জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।