পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সাহায্যে কাশ্মীরে সন্ত্রাস-অশান্তি ছড়াতে মাঠে নেমে পড়ল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার। বেশ কিছু মাস গা-ঢাকা দেওয়ার পরে আন্তর্জাতিক ওই জঙ্গি নতুন করে সক্রিয় হওয়ায় আগামী দিনে পুলওয়ামার ধাঁচে উপত্যকায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি। গত মে মাসে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মাসুদের জন্য নিরাপদ আস্তানার ব্যবস্থা করেছিল পাক সরকার। পাক প্রশাসন সূত্রের খবর, কাশ্মীরে অশান্তি ও ভারতে নাশকতা ছড়ানোর কাজে মাসুদকে ব্যবহার করতে তাকে ‘হেফাজত থেকে মুক্তি’ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সম্প্রতি মাসুদকে আবার জইশের সদর দফতর পাকিস্তানের বহাওয়ালপুরের বিলাসবহুল ‘মারকাজ় শুভানাল্লা’-য় দেখা গিয়েছে। আগের চেয়ে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে তার। তবে এখনও পর্যন্ত ঘরের বাইরে আসা যাওয়া করছে না মাসুদ। বন্ধ রয়েছে ভারত-বিরোধী প্রকাশ্য প্রচার। আপাতত জইশের সদর দফতরে বসেই নাশকতার যাবতীয় ছক কষছে সে। সেখানে মাসুদের ভাইয়েরাও থাকতে পারে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।

নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক লঞ্চ প্যাডে জঙ্গি ও পাক সেনার নতুন করে জমায়েত লক্ষ্য করা গিয়েছে। খোদ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের কথায়, ‘‘অন্তত ২৩০ জন জঙ্গি জমায়েতের খবর রয়েছে নিয়ন্ত্রণরেখায়।’’ ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে খবর এসেছে, নাশকতা চালাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-বিস্ফোরক জমা করা হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাখচক্রি সেক্টরের রাওয়ালাকোটে। পাহারার দায়িত্বে ১০ নম্বর বালুচ আর্মি। নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কাশ্মীরে কয়েকশো জঙ্গি মারা গিয়েছে। নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে উপত্যকার জঙ্গি সংগঠনগুলি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রের দাবি, আইএসআইয়ের মদতে খাইবার পাখতুনখোয়ার ওয়াজিরস্থান থেকে কয়েক হাজার বেকার যুবককে জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ানোর কাজ চলছে। যাদের মগজধোলাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে মাসুদকে । পরের ধাপে এদের পাঠানো হবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরে। কেন্দ্রের আশঙ্কা, শীত পড়ার আগেই কয়েকশো জঙ্গিকে ভারতে ঢোকাতে চায় আইএসআই।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ রদের পর থেকেই কাশ্মীরের বিষয়কে সব আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে মরিয়া ইমরান খানের সরকার। এক দিকে যেমন কূটনৈতিক ভাবে চেষ্টা চলেছে, তেমনি জেহাদি অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে উপত্যকায় অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। নয়াদিল্লির দাবি, সে জন্যই কাশ্মীরে নতুন করে সন্ত্রাসের রোজনামচা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় করা হয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদকে।

দীর্ঘ টালবাহানার পরে চিন আপত্তি তুলে নেওয়ায় গত মে মাসে মাসুদকে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ আখ্যা দিয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। তার পরেই সরকারি ভাবে মাসুদকে জেলে পোরার কথা জানায় ইসলামাবাদ। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, আসলে কয়েক মাসের জন্য মাসুদকে ‘সেফ হাউসে’ রেখে দেয় ইমরান সরকার। সন্ত্রাস প্রশ্নে ভারত-পাক সম্পর্কে জটিলতার সৃষ্টি হলেই আন্তর্জাতিক মহলকে বার্তা দিতে মাসুদ আজহার বা হাফিজ সইদের মতো শীর্ষ জঙ্গিদের সেফ হাউসে রেখে দেওয়ার নজির রয়েছে ইসলামাবাদের। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তবে কাশ্মীর প্রশ্নে সর্বস্তরে ভারতকে নিশানা করতে মরিয়া পাকিস্তান প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও মাসুদকে মুক্তি দিতে দ্বিধা করেনি। সাউথ ব্লকের আশঙ্কা, রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ
অধিবেশনের আগে কাশ্মীর অশান্তি ছড়িয়ে সেই সন্ত্রাসের ছবি বিশ্বের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে পাক প্রশাসন।