গুজরাতে বল্লভভাই পটেলের মূর্তি উদ্বোধনে গিয়ে তিনি এমন ছবি তুলেছিলেন যে মূর্তিটা ছোট মনে হয়েছিল!

এ বার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পাশেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবিতে। গত অক্টোবরে লালকেল্লায় নেতাজি সংগ্রহশালার শিলান্যাসের সময়ে আইএনএ-র মতো টুপি পরা মোদীর যে ছবি তোলা হয়েছিল, সেটি রয়েছে প্রবেশপথের এক দিকে। আর এক দিকে নেতাজির ছবি। যে হেতু সুভাষচন্দ্রের কোনও রঙিন ছবি পাওয়া যায়নি, তাই সংগ্রহশালায় মোদীর ছবিটিও সিপিয়া! লালকেল্লায় আজ সেই সংগ্রহশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। 

গত শনিবারই মুম্বইয়ে চলচ্চিত্রের জাদুঘরে গিয়ে গাঁধীমূর্তির পাশে বসে মোদী ছবি তুলেছিলেন। বিভিন্ন ভঙ্গিমায় বসে তাঁর চরকা কাটার ছবি নিয়ে কেন্দ্র তৈরি করেছিল একটি ক্যালেন্ডার। আন্দামানে নেতাজির পতাকা তোলার স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মাথায় ছিল নেতাজি-টুপি! বিরোধীরা বলছে, মোদীর মনীষী-স্মরণ আসলে আত্মপ্রচারের কৌশল। কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রকল্প, অনুষ্ঠান এবং সরকারি টাকা কাজে লাগিয়ে নিজের প্রচার করছেন। ভোটে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন সরকারি খরচে। এটা নির্বাচন কমিশনের দেখা উচিত।’’

আইএনএ ব্যারাকে সংগ্রহশালাটি হবে তিন তলা। শুধু প্রথম তলার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। সেখানে রাখা হয়েছে নেতাজির ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী। বাকি দু’টি তলায় ছবি এবং সে সময়কার ভিডিয়ো ফুটেজের মাধ্যমে নেতাজির জীবনকে তুলে ধরা হবে। এক তলায় রয়েছে একটি চেয়ার, তরবারি, আইএনএ-র সেনাদের পোশাক। প্রধানমন্ত্রী যখন সংগ্রহশালা ঘুরে দেখেন, তখন উপস্থিত ছিলেন নেতাজি পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু। সংগ্রহশালায় রাখা চেয়ারের ইতিহাস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘বর্মায় (এখন মায়ানমার) আইএনএ-র সর্বাধিনায়ক হিসেবে এই চেয়ারে বসতেন নেতাজি। তরবারিটা সম্ভবত জাপানে উপহার পেয়েছিলেন।’’ নেতাজির ব্যবহৃত একটি টুপি ওই সংগ্রহশালায় রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন চন্দ্র। নেতাজির ছবির সামনে কিছুক্ষণ বসেছিলেন মোদী।

দিল্লিতে এ বারের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এই প্রথমবার আইএনএ-র প্রবীণেরা অংশ নেবেন।

সিপাহি বিদ্রোহ এবং ভারতের কলা ও সংস্কৃতির উপরে দৃশ্যকলা মিউজিয়ামেরও আজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে রাজা রবি বর্মা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমৃতা শেরগিল, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, যামিনী রায়ের আঁকা ছবি রয়েছে।