সংসদীয় ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম বার। রাজ্যসভায় রাখা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘অসংসদীয়’ হওয়ায় তা বাদ পড়ল সংসদের কার্যবিবরণী থেকে। যে ঘটনায় প্রবল অস্বস্তিতে শাসক শিবির। এক দিন আগেই ডেপুটি চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিরোধীদের ছত্রভঙ্গ করা শাসক শিবির এখন প্রধানমন্ত্রীর লঘু মন্তব্যের কারণে ব্যাকফুটে। 

রাজ্যসভায় সংখ্যালঘু হয়েও গত কাল বাদল অধিবেশনের একেবারে শেষ প্রহরে ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে হরিবংশ নারায়ণ সিংহকে জিতিয়ে আনে সরকার পক্ষ। পরাজিত হন বিরোধী প্রার্থী বি কে হরিপ্রসাদ। ফলপ্রকাশের পরে এনডিএ প্রার্থী হরিবংশকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে বিরোধীদের প্রার্থী বি কে হরিপ্রসাদের নাম নিয়ে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রীর মুখে পরাজিত প্রার্থী সম্পর্কে ওই মন্তব্য নিয়ে সে সময় চুপ থাকলেও পরে আক্রমণে নামে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্য নিম্নরুচির বলে সরব হয় তারা। কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর বলেন, ‘‘এক জন প্রধানমন্ত্রী সংসদে অসংসদীয় বক্তব্য রেখেছেন। এটা গোটা দেশের জন্য লজ্জার।’’ দীর্ঘ দিন লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমলা পি ডি টি আচারির কথায়, ‘‘এক জন পরাজিত প্রার্থী সম্বন্ধে অবমাননাকর কথা বলা উচিত হয়নি প্রধানমন্ত্রীর। কারণ তিনি কোনও সাধারণ সদস্য নন। দেশের প্রধানমন্ত্রী।’’

গত কাল ওই মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির পরে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু জানিয়েছিলেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তা হলে বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা হওয়ার আশঙ্কায় আজ তড়িঘড়ি প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যসভার সচিবালয়। তাতেও অবশ্য বিরোধীদের আক্রমণ থামেনি। শশী তারুর বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এক জন সুবক্তা। কথা নিয়ে খেলার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশের জন্য সৃজনশীলতার প্রয়োজন। কিন্তু দেখতে হবে, তা যেন সীমারেখা লঙ্ঘন না করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ ক্ষেত্রে তা হয়েছে।’’ 

আরও পড়ুন: রাজ্যসভায় ভোটের অঙ্কে বেবাক রহস্য!

বিরোধীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অসংসদীয় হওয়ায় তা বাদ পড়ছে, এমন ঘটনা সংসদীয় ইতিহাসে প্রথম। অতীতে এমন ঘটেছে বলে মনেই করতে পারছেন না লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল আচারি। তাঁর কথায়, ‘‘আমার তো মনে পড়ছে না।’’ যদিও মুখ বাঁচাতে বিজেপির দাবি, ২০১৩ সালে ইউপিএ আমলে রাজ্যসভাতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও বিরোধী দলনেতা অরুণ জেটলির মধ্যে উত্তপ্ত বাদানুবাদ হয়। যার কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়।