নরেন্দ্র মোদী বফর্স কাণ্ডকে হাতিয়ার করে প্রয়াত রাজীব গাঁধীকে ‘ভ্রষ্টাচারী নম্বর ওয়ান’ বলে নিশানা করেছিলেন। সেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীন সিবিআই আজ দিল্লির আদালতে বফর্স কাণ্ডে আরও তদন্ত করার অনুমতি প্রত্যাহার করে নিল। তার পরে সন্ধ্যায় সিবিআই নিজেই জানাল, বফর্স কাণ্ডে তদন্ত চলবে।

প্রশ্ন উঠল, এটা কি সিবিআইয়ের উলটপুরাণ! না কি শেষ দফার ভোটের আগে কংগ্রেসকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা!

দিল্লি-পঞ্জাবের ভোটের আগে নতুন করে বফর্স কাণ্ড খুঁচিয়ে তুলে রাজীব গাঁধীকে নিশানা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শিখ দাঙ্গায় রাজীব গাঁধীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, দিল্লি-পঞ্জাবে শিখদের পুরনো অসন্তোষে উস্কানি দিতে চাইছেন মোদী। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে পুরনো বফর্স কাণ্ড খুঁচিয়ে তুলছেন।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

মোদী জমানাতেই ২০১৮-তে সিবিআই দিল্লির চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেছিল, তারা নতুন করে বফর্স ঘুষ কাণ্ডের তদন্ত শুরু করতে চায়। তখনও কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, মোদী সরকার গাঁধী পরিবারকে অস্বস্তিতে ফেলতে ১৩ বছর পরে ফের বফর্স ফাইল ধুলো ঝেড়ে বের করতে চাইছে। কারণ প্রথমে ২০০৪-এ রাজীব গাঁধী, তার পরে ২০০৫-এ দিল্লি হাইকোর্ট হিন্দুজা ভাইদের মতো বফর্স কাণ্ডের সব অভিযুক্তদের সমস্ত অভিযোগ থেকে রেহাই দিয়েছিল। তার ১৩ বছর পরে সিবিআই এক দিকে নতুন করে তদন্ত শুরু করতে চায়। আর এক দিকে ফের তদন্ত শুরুর দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হন বিজেপি নেতা অজয় অগ্রবাল।

আজ সিবিআই নিজেই পুরনো অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানোয় স্বাভাবিক ভাবেই কংগ্রেস হাতিয়ার পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাতিয়ার পেয়ে গিয়েও এ নিয়ে টুঁ শব্দ করেননি কংগ্রেস নেতারা। কংগ্রেস সূত্রের যুক্তি, বফর্স নিয়ে হইচই করতে গেলে বিজেপির ফাঁদেই পা দেওয়া হবে। তার থেকে সিবিআই তথা মোদী সরকার নিজেই যখন নিজের মুখ পোড়াচ্ছে, তখন পোড়াক। কংগ্রেস এর মধ্যে জড়াবে না।

২০১৮-র ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে গিয়ে সিবিআই জানিয়েছিল, নতুন করে বফর্স ঘুষ কাণ্ডের তদন্ত করবে সিবিআই। তার অনুমতি চাই। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নবীনকুমার কাশ্যপ প্রশ্ন তুলেছিলেন, তদন্ত 

করতে চাইলে তার অনুমতি কেন নিতে হবে? আজ সিবিআই নিজেই ফের তদন্তের আর্জি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিচারক সেই অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, ১৩ বছর পরে সিবিআই ২০১৮-তে যে অবস্থান নিয়েছিল, এক বছরের মধ্যে নিজেই তা থেকে সরে দাঁড়াল কেন?

অস্বস্তি ঢাকতে সিবিআই সন্ধ্যায় জানায়, বফর্স মামলায় তদন্ত চলবে। সিবিআইয়ের যুক্তি, বফর্স কাণ্ডের প্রথম তদন্তকারী বেসরকারি গোয়েন্দা মাইকেল হার্শম্যান সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর তদন্তের সময় রাজীব গাঁধীর সরকার অন্তর্ঘাত করেছিল। তার ভিত্তিতেই নতুন 

করে তদন্তের অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত প্রশ্ন জানিয়েছিল, সিবিআইয়ের নিজের যখন ক্ষমতা রয়েছে, তখন আদালতের অনুমতি চাওয়ার কী প্রয়োজন? সিবিআই আইনি পরামর্শ নিয়ে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে আদালতের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এর পরেও প্রশ্ন উঠেছে, আইনি পরামর্শ নিতে এক বছরের বেশি সময় লেগে 

গেল কেন! কেনই বা ভোট পর্বের মধ্যেই আদালতে গিয়ে বফর্স প্রসঙ্গ তুলে জানাতে হল যে এই মামলার তদন্ত চলছে!