অসমে সরকারি মাদ্রাসা শুক্রবার খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হাইলাকান্দিতে কয়েকটি মাদ্রাসা আজ বন্ধ রাখা হয়। তা নিয়ে দফায় দফায় ছড়ায় উত্তেজনা।

সরকারি নির্দেশ মেনে এ দিন হাইলাকান্দির সরকারি মাদ্রাসাগুলি খোলা রাখা হয়েছিল। হাইলাকন্দির বোয়ালিপারে সিনিয়র মাদ্রাসায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী এবং কয়েক জন পড়ুয়া গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা শিক্ষকদের মাদ্রাসা থেকে বের করে দিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন। বরাক উন্নয়ন পরিষদ, সারা আসাম মাদ্রাসা ছাত্র সংস্থা এবং মাদ্রাসা সুরক্ষা সমিতির সদস্যরা তালাবন্ধ মাদ্রাসার সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। হাইলাকান্দির অতিরিক্ত জেলাশাসক এফ আর লস্কর পুলিশ বাহিনী নিয়ে সেখানে গিয়ে মাদ্রাসার তালা খোলেন। তাতে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। আলোচনার শর্তে পরিস্থিতি সামলান এডিসি।

হাইলাকান্দি শহরের সিনিয়র মাদ্রাসাতেও কয়েক জন বিক্ষোভকারী গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং মাদ্রাসা ছাত্রদের একাংশ শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। আলগাপুরের পয়ালারপার  মহিলা মাদ্রাসা এবং উত্তর হাইলাকান্দি সিনিয়র মাদ্রাসাতেও একই কাণ্ড ঘটে।

করিমগঞ্জেও কালো পতাকা, প্ল্যাকার্ড নিয়ে শুক্রবার মাদ্রাসা খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাল শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। গত শুক্রবার কয়েকটি মাদ্রাসা খোলা থাকলেও ছাত্রদের প্রতিবাদ দেখা যায়নি। কিন্তু আজ করিমগঞ্জের কয়েকটি মাদ্রাসায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। করিমগঞ্জের আকবরপুর দারুছ ছুন্নাহ সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। তাদের বক্তব্য, প্রতি শুক্রবার ছোট ইদ পালন করেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষ। মাদ্রাসায় আসার পর নামাজ আদায় করা ছাত্রদের পক্ষে সম্ভব নয়। শুক্রবার মাদ্রাসা খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত তাই মেনে নেওয়া যায় না।

পুরাহুরিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্ররাও শিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। তবে করিমগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থি হাইমাদ্রাসা আজ খোলা ছিল। ছাত্ররা এসেছে। মোতায়েন ছিল পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদ বদরপুরের সভায় সরকারি ঘোষমার বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ছাত্রদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।