• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সঙ্ঘ চায় নিজেদের ভাবধারার রাষ্ট্রপতি

Raisina Hill

প্রণব মুখোপাধ্যায়কে আর এক দফায় নয়, সঙ্ঘেরই কোনও ব্যক্তিকে এ বার রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চায় আরএসএস। নাগপুরে গত কাল বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের বৈঠক হয়। ছিলেন সঙ্ঘের আর এক নেতা ভাইয়াজি জোশীও। সঙ্ঘের একটি সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই অমিতকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আরএসএসেরই বিচারধারার কাউকে দেখতে চায় সঙ্ঘ। এমনকী, থাবরচন্দ গহলোত কিংবা দৌপদ্রী মুর্মুর মতো কাউকে প্রার্থী করলেও আপত্তি নেই সঙ্ঘের। তফসিলি জাতির থাবরচন্দ মোদী সরকারের সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী। আর দ্রৌপদী দেশের প্রথম দলিত রাজ্যপাল (ঝাড়খণ্ডের)।

সঙ্ঘের এক নেতার যুক্তি, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রজ্ঞা ও সাংবিধানিক বিষয়ে তাঁর দখল নিয়ে সঙ্ঘের কোনও সংশয় নেই। কিন্তু এই প্রথম এনডিএ-র কাছে নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করিয়ে একার জোরে জিতিয়ে আনার সুযোগ এসেছে। ফলে সেই সুযোগ কেন হাতছাড়া করা হবে? 

গত সপ্তাহে দিল্লিতে সনিয়া গাঁধীর উদ্যোগে ১৭টি বিরোধী দল একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নরেন্দ্র মোদী যদি প্রণববাবুকে ফের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেন, তা হলে বিরোধীরা একযোগে সমর্থন করবে। নয়তো নিজেদের প্রার্থী দেবে। সংখ্যা যেহেতু এনডিএর অনুকূলে, তাই ঐকমত্যের ধার ধারছে না বিজেপিও। ঘনিষ্ঠ মহলে অমিতের বক্তব্য, ১৭টি দল এক জোট বাঁধলেও নিজেদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে পারবে না। দলের নেতাদের তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে আলোচনা শুরু হবে ১৫ জুনের পর। প্রথমে দলে, তার পরে কথা হবে এনডিএ শরিকদের সঙ্গে। তত দিনেও বিরোধীরা তাদের প্রার্থী ঘোষণা না করে থাকলে তাদেরও সেই প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা বলা হবে। যদিও সঙ্ঘ যে ‘কংগ্রেসের’ বিচারধারার কাউকে সে পদে বসাতে আগ্রহী নয়, সেটি এখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আগামী সপ্তাহে সঙ্ঘনেতাদের সঙ্গে দিল্লিতে আর এক দফা বৈঠকে হবে বিজেপি নেতৃত্বের। 

বিরোধীরা এখনও প্রণববাবুর জন্য দরজা খুলে রাখলেও ঘটনাচক্রে এই সময়েই এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিতর্কিত সংযুক্তির তদন্ত নিয়ে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। সরকারের এক সূত্রের মতে, এই সংযুক্তি হয়েছিল ইউপিএ জমানায়। তখন চিদম্বরমের নেতৃত্বধীন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিগোষ্ঠীতে ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ও। সিবিআইয়ের এফআইআর-এ অবশ্য কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর সঙ্গে কোনও রকম যোগসূত্র না টানলেও রাজনীতিকদের আলোচনায় উঠে আসছে লালকৃষ্ণ আডবাণীর প্রসঙ্গ। রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে অনেকে যখন তাঁর নাম এগিয়ে রাখছিলেন, ঘটনাচক্রে সেই সময়েই বাবরি মসজিদ মামলায় নাম উঠে আসে বিজেপির এই মার্গদর্শকের। আর আজ মসজিদ ভাঙার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে চার্জ গঠন হল তাঁর বিরুদ্ধে। লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই  আদালতে এ দিন হাজিরাও দিতে হয়েছে তাঁকে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন