• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গুরুদাসপুরে পাক যোগ, স্পষ্ট জানালেন রাজনাথ

1

পঞ্জাবের গুরদাসপুরে জঙ্গি হামলার খবর আসতেই রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে সরকারি ভাবে ওই ঘটনার নিন্দা করেছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু তিন দিনের মাথাতেই দিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, এ দেশের মাটিতে আর পাঁচটা জঙ্গি হামলার মতোই এ ক্ষেত্রেও জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে পাকিস্তানের! আজ সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, ভারতের মাটিতে হওয়া অধিকাংশ সন্ত্রাসবাদী হামলার মতোই গুরুদাসপুরের ঘটনার পিছনেও যথারীতি পাকিস্তানের হাত রয়েছে। মৃত জঙ্গিরা সকলেই পাকিস্তান থেকে জলপথে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তদন্ত চলছে বলে কী ভাবে, কাদের সাহায্য নিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে চাননি রাজনাথ। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতেই লস্করের ওই জঙ্গিরা ইরাবতী নদী পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল। এই জঙ্গিদের নিরাপদে নদী পার হতে সাহায্য করার পিছনে পাক সেনার মদত ছিল কি না, তাই এখন খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

যথারীতি পাকিস্তানের তরফে রাজনাথের এই বক্তব্যকে খারিজ করা হয়েছে। পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে রাজনাথের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে বলা হয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার অনুকূল নয়। এমনকী গুরদাসপুরে হামলার পরপরই যে পাকিস্তানের তরফে বিবৃতি দিয়ে তার নিন্দা করা হয়েছিল, সে যুক্তিও দেওয়া হয়েছে পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। যদিও নয়াদিল্লির বক্তব্য, তড়িঘড়ি বিবৃতি দিয়ে সাধু সাজার চেষ্টা করেছিল ইসলামাবাদ।

চলতি মাসেই রাশিয়ার উফায় বৈঠকে বসেছিলেন ভারত ও পাকিস্তান দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। দুই রাষ্ট্রপ্রধানই সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনার বসার প্রশ্নে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেন। যার ভিত্তিতে আগামী মাসে দিল্লিতে দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক হতে চলেছে বলে এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়ে রয়েছে। কিন্তু উফার বৈঠকের পর থেকেই ভারত-পাক সীমান্ত উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। গত কালই পাক সেনার হামলায় পুঞ্চ সেক্টরে মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় জওয়ানের। জঙ্গি অনুপ্রবেশে মদত দিতেই পাক সেনা এ ভাবে সংঘর্ষবিরতি ভাঙছে বলে মনে করছে ভারত। এক দিকে সীমান্তে উত্তেজনা, তারই মধ্যে গুরদাসপুরে হামলা চালিয়ে পঞ্জাবকে নতুন করে অশান্ত করে তোলার এই পাক ছক মোটেই ভাল ভাবে নিচ্ছে না নয়াদিল্লি। তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত, যদি আগামী মাসে দিল্লিতে পূর্বনির্ধারিত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক হয়, তা হলে সেই বৈঠকে গুরুদাসপুর হামলার সঙ্গে কী ভাবে পাকিস্তান জড়িত, সেই তথ্যপ্রমাণ সম্বলিত একটি আলাদা ডশিয়ার পাক প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেবে নয়াদিল্লি।

গুরদাসপুর হামলার পরেই ওই হামলার পিছনে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্করের হাত রয়েছে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জিপিএসগুলি প্রাথমিক বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, পাকিস্তান থেকেই ভারতে এসেছিল ওই জঙ্গিরা। সেই তথ্যে সরকারি ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে আজ রাজ্যসভায় রাজনাথ বলেন, ‘‘জিপিএস পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, গুরদাসপুর জেলার তাশ এলাকা দিয়ে ওই জঙ্গিরা ভারতে প্রবেশ করেছিল।’’ জম্মু সংলগ্ন ওই এলাকাতেই ইরাবতী নদী পাকিস্তানের দিকে বাঁক নিয়ে সে দেশে প্রবেশ করেছে। গোয়েন্দারা বলছেন, ওই এলাকায় নদী সে ভাবে চওড়া নয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে জঙ্গিরা।

পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা কেন পঞ্জাবকে বেছে নিয়েছিল, সেই ব্যাখ্যাও আজ সংসদকে দিয়েছেন রাজনাথ। তাঁর মতে, গোয়েন্দাদের কাছে খবর রয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক জায়গা দিয়ে জঙ্গিরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। তা রুখতে ওখানে নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। তা ছাড়া জম্মু-কাশ্মীরে প্রবল বৃষ্টির জন্য বেশির ভাগ নদী-নালার জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ‘‘সম্ভবত সেই কারণে জম্মু সংলগ্ন পঞ্জাবের গুরদাসপুরকেই বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা’’— বলেছেন রাজনাথ। তবে একই সঙ্গে জঙ্গিরা যে ভাবে জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে, সে ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনাথ। তিনি জানান, গত এক মাসে নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাঁচটি জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি স্থানে জওয়ানদের গুলিতে আট জন জঙ্গি মারা গিয়েছে। একটি ক্ষেত্রে একজন জঙ্গি সেনার গুলি এড়িয়ে পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, কী ভাবে পাক সেনা জঙ্গি অনুপ্রবেশে সাহায্য করছে, সেই বিষয়টিও ডশিয়ারে রাখতে চলেছে ভারত।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন