‘কানুন বনাও, মন্দির বনাও।’ পুত্র আদিত্য এবং ১৮ জন নবনির্বাচিত সাংসদকে নিয়ে অযোধ্যায় গিয়ে আজ এই স্লোগান তুললেন উদ্ধব ঠাকরে। রামলালার অস্থায়ী মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরে সাংবাদিক বৈঠকে শিবসেনা প্রধান বলেছেন, ‘‘রাম মন্দির তৈরি করতে অর্ডিন্যান্স আনা উচিত সরকারের। যত দ্রুত সম্ভব, তৈরি হোক মন্দির।’’

এবং মন্দির তৈরিতে তিনি যে নরেন্দ্র মোদীর উপরেই আস্থা রাখছেন, সে কথা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন উদ্ধব। বালসাহেব ঠাকরের জ্যেষ্ঠ পুত্রের কথায়, ‘‘বহু দিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (মন্দির তৈরির) সাহস আছে। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয়, কেউ আর আটকাতে পারবে না। শুধু শিবসেনা নয়, সারা বিশ্বের হিন্দুরা এই সিদ্ধান্তের পাশে রয়েছেন।’’

উদ্ধবের পুত্র আদিত্য আজ সকালেই টুইট করেন, ‘জয় শ্রী রাম’। শিবসেনার পক্ষ থেকে বলা হয়, গত নভেম্বরেই উদ্ধব জানিয়েছিলেন, লোকসভা ভোটের পরে তিনি অযোধ্যা আসবেন। সেই কথা রাখতেই আজকের সফর। অনেকেই মনে করছেন, লোকসভা ভোটে ভাল ফলের পরে বালসাহেবের আমলের মতো শিবসেনার ‘গৌরব’ ফেরানোয় জোর দিচ্ছেন উদ্ধব। কিন্তু একই সঙ্গে জোটের বড় শরিক বিজেপির উপরে চাপও কি বাড়াচ্ছেন?
চলতি বছরের শেষেই বিধানসভা ভোট মহারাষ্ট্রে। উপরন্তু লোকসভার ডেপুটি স্পিকার পদ চাইছে শিবসেনা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ভোটের পরে আজই ছিল এনডিএ-র প্রথম বৈঠক। দলনেতার সঙ্গে অযোধ্যায় যাওয়া শিবসেনার সাংসদেরা কেউই সেই বৈঠকে আসেননি। মোদী অবশ্য টুইটারে লিখেছেন, ‘‘১৩০ কোটির স্বপ্ন পূরণ করব আমরা, এনডিএ পরিবার।’’

উদ্ধবের অবশ্য দাবি, তাঁর সফরে রাজনীতি নেই। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে রাম মন্দিরের বিষয়টি বিশ্বাসের। রাজনীতির নয়। শিবসেনা হোক বা বিজেপি, আমরা হিন্দুত্বকে মজবুত করতেই কাজ করছি। সেটা উপলব্ধি করেই সাংসদের সংখ্যা বাড়িয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে এই সরকার। এর অর্থ, জনতার আবেগকে সম্মান দিতে হবে।’’ রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে তাঁরা মোদী সরকারের উপরে চাপ বাড়াবেন কি না জানতে চাওয়া হলে শিবসেনা প্রধান বলেন, ‘‘শুভ কাজের জন্য চাই শুভ চিন্তা।’’

শিবসেনা কি রাম মন্দির আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠতে চাইছে? উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্যের বক্তব্য, ‘‘রাম মন্দিরের মূল আন্দোলনটাই বিজেপির এবং সাধুসন্তদের।’’ ঘটনাচক্রে, আজই আখড়াগুলির এক বৈঠকে ঠিক হয়েছে, রাম মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ, কুম্ভমেলার এলাকা বাড়ানো, স্থায়ী ছাউনি তৈরির জন্য আখড়াগুলিকে ৫ কোটি টাকা দেওয়ার দাবি জানানো হবে সরকারের কাছে। দিগম্বর আখড়ার মহন্ত সুরেশ দাস বলেন, ‘‘কেন্দ্রে মোদী, রাজ্যে যোগী। এটাই মন্দির নির্মাণের ঠিক সময়।’’ তাঁদের আশ্বাস দিয়ে মৌর্য বলেছেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট এবং আলোচনা— এই দুই পথে যদি জট না-কাটে, তা হলে আমরা আইন আনব।’’