অষ্টমীর দিন, অর্থাৎ আজ কলকাতায় যাওয়ার কথা ছিল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর। কিন্তু ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকায় দিল্লিতেই ছিলেন তিনি। আজই অটল-সরকারের মন্ত্রী যশবন্ত সিংহের পুত্র মানবেন্দ্রকে দলে যোগ দেওয়ালেন রাহুল। নাগপুরের বিজেপি নেতা আশিস দেশমুখও আজ কংগ্রেসে যোগ দিলেন। 

সকালে সপরিবার রাহুলের সঙ্গে দেখা করতে যান মানবেন্দ্র। রাহুল পরে ফেসবুকে লেখেন, ‘‘রাজস্থানের বিজেপির বিধায়ক ও প্রাক্তন সাংসদ মানবেন্দ্র কংগ্রেসে আসায় দলের শক্তি বাড়বে। তাঁকে কংগ্রেস পরিবারে হৃদয় দিয়ে স্বাগত।’’ এর পরে অশোক গহলৌত, সচিন পাইলটের মতো নেতারা একযোগে এআইসিসি দফতরে মানবেন্দ্রকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন। সেখানে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া দুই নেতা রাফাল নিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন। 

কংগ্রেস সূত্রের মতে, মানবেন্দ্র নিজে লোকসভায় প্রার্থী হতে চান। তাঁর স্ত্রীকে বিধানসভা ভোটে দাঁড় করাতে আগ্রহী। রাজস্থানের রাজপুত ভোট বসুন্ধরা রাজের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটের মুখে বিজেপিকে আরও বেগ দেবে মানবেন্দ্রর দল ছাড়া। যদিও মানবেন্দ্র বলেন, নতুন দলের কাছে তিনি কোনও শর্ত রাখেননি। তবে বিজেপি তাঁর কাছে ক্রমশই বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তিনি জানান, পরিবারের সকলকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জিজ্ঞাসা করেছেন। এমনকি বাবাকেও। কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি। 

২০১৪ সালে বাথরুমে পড়ে যান যশবন্ত। তখন থেকে তিনি কোমায় রয়েছেন। অশোক গহলৌত বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী বিজেপির ক্ষমতাকেন্দ্রে আসার পর থেকেই লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশী, যশবন্ত সিংহদের উপেক্ষা করতে শুরু করেন। যশবন্তকে টিকিটও দেওয়া হয়নি। মানবেন্দ্র কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরে বিজেপিকে জবাব দেবেন।’’ রাজস্থান থেকে মোদী সরকারের মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিংহ রাঠৌর অবশ্য বলেন, ‘‘বিজেপি ছাড়াটা মানবেন্দ্রর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে কংগ্রেস এ যাবৎ একজন রাজপুতকেও কেন্দ্রে মন্ত্রী করেনি। আর যশবন্ত সিংহকে বিজেপি অনেক মর্যাদা দিয়েছে। কেন্দ্রে মন্ত্রীও করেছে।’’