মৃত তারার শরীরের টুকরোটাকরার ওজনই আমাদের সূর্যের ভরের দেড় থেকে তিন গুণ! গোটা তারা নয়। সেই ওজনটা মৃত নক্ষত্রের শরীরের শুধু টুকরোটাকরার! চমকে দেওয়ার মতো ভারী, এমন একটি নিউট্রন নক্ষত্রের হদিশ মিলল। এই প্রথম।

শরীরের টুকরোটাকরার ওজনই যদি এতটা হয়, তা হলে ভাবুন, যে তারাটা মরেছে, সেই নক্ষত্রটা ছিল কত ভারী!

এই সে দিন ব্রহ্মাণ্ডের যে সবচেয়ে ভারী নিউট্রন নক্ষত্রের দেখা পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, তার ওজন আমাদের সূর্যের ভরের ২.১৭ গুণ। ব্যাস ৩০ কিলোমিটার।

এর আগে এত ভারী নিউট্রন নক্ষত্রের আর হদিশ মেলেনি এই ব্রহ্মাণ্ডে। নিউট্রন নক্ষত্রের চেয়ে বেশি ঘনত্বের আর কোনও মহাজাগতিক বস্তুর হদিশও ব্রহ্মাণ্ডে এখনও পর্যন্ত পাননি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

নিউট্রন নক্ষত্রের জন্ম হয় কী ভাবে? দেখুন ভিডিয়ো

 

আরও পড়ুন- মিলে গেল বাঙালির পূর্বাভাস, ভিন মুলুকের বার্তা নিয়ে সৌরমণ্ডলে ঢুকল ‘পাগলা ঘোড়া’!​

আরও পড়ুন- মুঠো মুঠো সোনা, প্ল্যাটিনাম ছড়িয়ে পড়ছে মহাকাশে! ঘটকালি করছে ব্ল্যাক হোল​

খবর এল ৪ হাজার ৬০০ আলোকবর্ষ দূর থেকে...

গবেষকরা জানিয়েছেন, ওই অসম্ভব ভারী নিউট্রন নক্ষত্রটি রয়েছে আমাদের থেকে ৪ হাজার ৬০০ আলোকবর্ষ দূরে। আমেরিকার ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনে’র (এনএসএফ) ‘গ্রিন ব্যাঙ্ক টেলিস্কোপে’ ধরা পড়ছে সেই নিউট্রন নক্ষত্র। যে কৃতিত্বের দাবিদার আমেরিকার ‘ন্যানোগ্র্যাভ ফিজিক্স ফ্রন্টিয়ার্স সেন্টার’। গবেষণাপত্রটি বেরতে চলেছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-অ্যাস্ট্রোনমি’-তে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত ওই সবচেয়ে ভারী নিউট্রন নক্ষত্রটির নাম- ‘জে-০৭৪০+৬৬২০’।

‘নিউট্রন নক্ষত্র’ কী জিনিস?

তারাদের মৃত্যুর সময় হয় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। যাকে বলে সুপারনোভা। সেই সময় বিশাল তারাটির কিছু অংশ ভিতরের অত্যন্ত জোরালো বলের টানে চুপসে যায়। তারাটির ভর সূর্যের ভরের তিন গুণের বেশি হলে সুপারনোভার পর তার কিছুটা অংশ পরিণত হয় ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরে। আর মৃত তারার শরীরের অবশিষ্ট অংশের ভর যদি হয় সূর্যের ভরের দেড় থেকে তিন গুণের মধ্যে, তা হলে তা হয়ে পড়ে নিউট্রন নক্ষত্র। যা শুধুই তৈরি হয় প্রচুর পরিমাণ নিউট্রন দিয়ে।

এখনও পর্যন্ত এমন অন্তত চারটি নিউট্রন নক্ষত্রের হদিশ মিলেছে, যাদের গ্রহও রয়েছে।