ছোট্ট একটি রোভার। গর্তে পড়ে গেলে বা এবড়োখেবড়ো পথে উল্টে গেলেও সমস্যা হবে না। শরীরে জুড়ে থাকা একটি অতিরিক্ত পায়ে ভর করে সমস্যা কাটিয়ে উঠবে সে। স্বয়ংক্রিয় ভাবে নয়, রোভার চলবে রিমোট কন্ট্রোলে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবের প্রদর্শনী হচ্ছে সায়েন্স সিটিতে। সেখানেই এই রোভারের মডেল নিয়ে এসেছে শক্তিগড়ের বড়শুল সিডিপি হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র আবির ঘোষ।

রোভার হল এক ধরনের রোবট গাড়ি যা মূলত গ্রহে অভিযানে ও এ দেশেও নানা ভূতাত্ত্বিক অভিযানে কাজে লাগানো হয়। সম্প্রতি চন্দ্রযান ২ অভিযানেও রোভার ছিল। ল্যান্ডার বিক্রম সফল ভাবে অবতরণ করতে পারলে তার ভিতর থেকে প্রজ্ঞান নামে ওই রোভার বেরিয়ে আসত। বিক্রম ব্যর্থ হওয়ায় প্রজ্ঞানও দিনের আলো দেখেনি।

আবিরের বাবা অমিয় ঘোষ জানান, ছোট থেকেই আবিরের নানা জিনিস বানানোর শখ। এর আগে এক বিশেষ হেলমেট তৈরি করেছিল সে। অনলাইনে যন্ত্রপাতি অর্ডার দিয়ে এ সব তৈরি করে সে। আবির জানায়, রোভারের চাকা যেমন আছে, তেমনই অতিরিক্ত পা হিসেবে একটি হাইড্রলিক স্ট্যান্ড রয়েছে। গর্তে পরে গেলে বা উল্টে গেলে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে ওই পায়ে ভর করে রোভার ফের কর্মক্ষম করা সম্ভব।

মঙ্গলবার বাবা অমিয় ঘোষ ও মা মৌমিতা ঘোষের সঙ্গে এসেছিল আবির। সেখানে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হর্ষ বর্ধনকেও যন্ত্রের ব্যাখ্যা দেয় সে। শুনে তারিফ করেন মন্ত্রীও।

উদ্যোক্তারা বলছেন, পড়ুয়াদের এমন প্রকল্পে উৎসাহিত করাই লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আশুতোষ শর্মা জানান, বিজ্ঞান কংগ্রেসে মূলত বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান গবেষকদের মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু পড়ুয়া ও জনসাধারণের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক বিজ্ঞান অনেক বেশি জনপ্রিয়। চন্দ্র অভিযান মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলছে বলে এ দিন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।