×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ জুন ২০২১ ই-পেপার

আলোচনা

হিংসার প্রতীক

২০ জানুয়ারি ২০১৮ ০০:০০
সময়চিহ্ন: সমীর কুণ্ডুর ‘ক্রুশ দ্য পাথ’ প্রদর্শনীর একটি ছবি

সময়চিহ্ন: সমীর কুণ্ডুর ‘ক্রুশ দ্য পাথ’ প্রদর্শনীর একটি ছবি

প্রবহমান সমাজ জীবনে সংগ্রাম আমাদের চারদিকেই সর্বদা বিদ্যমান। শিল্পী সমীর কুণ্ডুর ‘ক্রুশ দ্য পাথ’ নামের প্রদর্শনীটি এ রকমই ভাবনাবাহিত চিত্র উপস্থাপনা। যা তিনি সামাজিক দায়িত্ব মনে করে সম্পাদন করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই ছবিগুলি দৃষ্টিসুখকর নয়। বাস্তবানুগ অবয়বধর্মী রচনা। মূল কাঠামো বজায় রেখেই কিছু ক্ষেত্রে বিকৃতি আনা হয়েছে, কোথাও তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকতা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

অন্যায়, হিংসা, ভাঙাচোরা সময়ের ছাপ এনেছেন মানুষ-মানুষীর শারীরিক ভঙ্গিতে, মুখের ভাবে। স্ক্রিবলিং করে বুনোট এবং আলোছায়া তৈরি করেছেন। শিল্পী চিত্রে শুধুমাত্র অবয়বগুলির উপরের অংশ এনেছেন। ফলে সবগুলিই ফ্রন্টভিউ কমপোজিশান।

বেশির ভাগ ছবিতে পশ্চাদ্‌পটের কোনও ভূমিকা নেই। মঞ্চের প্রেক্ষাপটের মতোই তা নির্বাক। তুলির কাজ ‘পেন অ্যান্ড ইংক’-এর মতো, তবে মনোক্রোম চিত্রগুলিতে পুঙ্খানুপুঙ্খতা রয়েছে।

Advertisement

‘ব্রাওলিং কিংডম’, ‘ব্রাউজড সোলজার’ ছবিগুলিতে বিষয়কেন্দ্রিক অভিব্যক্তি এসেছে। ‘হন্টেড হান্টার’ ছবিটি শিকারির শরীরে কাঁটা জড়ানো হিংসার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। ক্রুশ কাঁধে মাথা নিচু করে হেঁটে যাওয়া জিশুর ছবিটি একটু অন্য রকম। ডায়াগনাল কমপোজিশনে কালোর মধ্যে লালচে আভার আকাশ, বিষাদাচ্ছন্ন মুখাবয়ব, অশুভ বার্তাজ্ঞাপক পরিবেশ তৈরি করেছে। আবার ‘এজ অব ব্রাওলিং’ কাজটি জীবন-যুদ্ধে ক্ষয়ে যাওয়া এক অসহায় বৃদ্ধের ভাঙাচোরা মুখ। ‘ইনডিজিনাস’ ছবিটি আবার খানিকটা হালকা মেজাজের। চাঁদের রাতে মাদল কাঁধে সাঁওতাল দম্পতির সরল মুখে সহজ অভিব্যক্তি।

‘ইনজাস্টিস’, ‘টুওয়ার্ডস গ্রিড’, ‘টুওয়ার্ডস টার্গেট’ ছবিগুলিতে সুচলো পাখির ঠোঁট, তীক্ষ্ণ শিং, কাঁটালতার বেয়ে ওঠা ব্যবহার
করা হয়েছে ছবির বক্তব্যকে দৃঢ় করার জন্য।

কিন্তু ছবির বিষয়ভাবনা যা-ই হোক না কেন, সেটির সম্পাদনে ‘লাবণ্যযোজনম’ একটি বিশেষ গুণ বলে ভারতীয় নন্দনতত্ত্বে বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রে কিন্তু কাঁটা প্রভৃতির তীক্ষ্ণতায় অনেকাংশেই ছবির লাবণ্যহানি ঘটেছে।

শমিতা নাগ

শিহরন জাগে মনে



লোপামুদ্রা মিত্র

সুচিত্রা মিত্রের জন্মদিন উপলক্ষে রবিতীর্থ প্রাক্তনী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল মধুসূদন মঞ্চে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোর মতো শিল্পীর নিজ কণ্ঠে গীত ‘সার্থক জনম আমার’ গানটি প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত শ্রোতাদের মনে শিহরন জাগায়।

সংস্থার শিল্পীদের পরিবেশিত ‘তাহারে আরতি করে’ এবং ‘ভুবনজোড়া আসনখানি’ দু’টি উদ্বোধনী সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রথম গানটির স্থায়ী অংশে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সমন্বয়ের বেশ অভাব লক্ষ করা যায়। প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর সংস্থার পক্ষ থেকে আরও এক প্রাক্তনী, পূর্বা দামকে ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মান দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্র গীতি-আলেখ্য ‘মহামানবের সাগরতীরে’। এটি সময়োপযোগী উপস্থাপনা। আলেখ্যটির রচয়িতা প্রমিতা মল্লিক রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা থেকে অংশবিশেষ তুলে এনে বলতে চেয়েছেন— ধর্মতন্ত্র নয়, রাজনীতি নয়, মানুষের মুক্তি হতে পারে মানবতায়। সমবেত কণ্ঠে ‘হে মোর চিত্ত পুণ্যতীর্থে’ গানের মাধ্যমেই গীতি-আলেখ্যটির মূল ভাব প্রকাশিত হয়েছে। বরুণ চন্দ ও ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষতার সঙ্গেই তা করেছেন।

গানে ছিলেন প্রমিতা মল্লিক, শ্রীকান্ত আচার্য, লোপামুদ্রা মিত্র, অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংস্থার সদস্যরা। প্রমিতার গাওয়া ‘সার্থক কর সাধন’, শ্রীকান্তর ‘ভুবনেশ্বর হে’, অগ্নিভর ‘প্রচণ্ড গর্জনে’, লোপামুদ্রার ‘তোর আপন জনে’ উল্লেখযোগ্য। তবে লোপামুদ্রার গাওয়া এই গানে আভোগ অংশের দ্বিতীয় কলি ‘অমনি কি তুই...’ তে সুরান্তরের উৎস জানার অপেক্ষায় রইলাম।

কাশীনাথ রায়

মন কাড়ে



স্মৃতি লালা

সম্প্রতি ব্রাউনিং হলে অনুষ্ঠিত হল প্রখ্যাত গায়িকা স্মৃতি লালার একক ভজন গানের অনুষ্ঠান ‘ভজন সন্ধ্যা’। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, বিচারপতি অমিতাভ লালা এবং সমাজের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মাননীয় রাজ্যপালের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি থেকে লোকসংগীতে শ্রীমতী লালাকে এর আগে পাওয়া গেলেও শুধুমাত্র ভজনের পরিবেশনায় কলকাতায় এই প্রথম শিল্পীকে পাওয়া গেল।

গায়কি যে গানগুলিকে উচ্চমার্গে উপনীত করেছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘ম্যায় তো তেরে দমনবা’, ‘কৃষ্ণা কৃষ্ণা’ এবং অবশ্যই শুরুর বিষ্ণুস্তোত্র। ‘মোহে লাগি লগন’ গানে সরোদের প্রয়োগ প্রশংসনীয়। ‘ওম সুধারস’ গানে রাজস্থানের লোকসংগীতের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। ভজনসন্ধ্যার পর দু’টি কবিতাকে গানের রূপে পরিবেশন করেন শিল্পী। এই গান দু’টিই সুগীত।

শিল্পীর সঙ্গে যন্ত্রসংগীতে ছিলেন তাঁরই সংস্থা ‘রাগ অনুরাগ মিউজিক রিসার্চ অ্যাকাডেমি’র শিল্পীরা। তাঁদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি পূর্ণ মাত্রা পায়। গানের অনুষঙ্গে পাঠের অংশও প্রশংসনীয়। শিল্পীর কাছে এ ধরনের অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা থেকেই যায়।

শ্রীনন্দা মুখোপাধ্যায়

দ্রৌপদীর প্রশ্ন

সম্প্রতি ‘মুদ্রা’ রবীন্দ্রসদনে আয়োজন করেছিল পঁচিশ বছর পূর্তি উৎসব। শুরুতেই ছিল শিশুশিল্পীদের নৃত্যনাট্য ‘বর্ষার জলছবি’। দ্বিতীয়ার্ধে ছিল নৃত্যনাট্য ‘দ্রৌপদী’। মহাভারতের দ্রৌপদী ও এ কালের দামিনী যেন সমাজের সব কলঙ্কের বোঝা বইছে। এই দুই চরিত্রে অদ্রিজা মন কেড়ে নেন। দ্রৌপদীর কণ্ঠে ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে বারবার ধ্বনিত হচ্ছিল, নারীরা কি যুগ যুগ ধরে অসম্মানিত হতে থাকবে? পরিকল্পনায় ছিলেন অদ্রিজা ভট্টাচার্য। নৃত্য পরিকল্পনায় অসিত ভট্টাচার্য ও মহুয়া চক্রবর্তী। গীতিকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত ও আবহসংগীতে দেবাশিস সাহা। নৃত্যে মহুয়া, অসিত, মৌসুমী, সৌরভ, শুভ্রনীল, সায়ন্তনী, সৌমাল্য ও অদ্রিজা।

পলি গুহ

অনুষ্ঠান

• সংগীত সর্বশ্রেষ্ঠ উপাসনা। স্বামী বিবেকানন্দের সেই উপলব্ধি যেন প্রতিফলিত হল ‘বাবা আলাউদ্দিন সংগীত সমারোহ’ সম্মেলনে। রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান, পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের যৌথ আয়োজনে তিন দিনের এই সংগীত সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন স্বামী নিত্যকামানন্দ মহারাজ।

• রবীন্দ্র সদনে আনন্দধারা আয়োজন করেছিল ‘আজ শ্রাবণের পূর্ণিমাতে’। একক গানে ছিলেন চিত্রলেখা চৌধুরী, স্বপ্না ঘোষাল প্রমুখ। নজর কাড়ে বন্দনা সিংহের পরিচালনায় সংগীতালেখ্য ‘ঝুলন’। পাঠে মধুছন্দা তরফদার ও শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল ‘বাণীমাল্য’ ও ‘কলাভৃৎ’-এর সমবেত সংগীত।

• সম্প্রতি মহাজাতি সদনে ‘সৃষ্টি পিয়াসী’ নিবেদন করল

তরুণ মজুমদারের ভাবনায় ‘যে আছ অন্তরে’। সমবেত কণ্ঠে ছিল একঝাঁক নতুন প্রতিভা।

এ দিন গান শোনান রূপঙ্কর, অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়তী চক্রবর্তী, দেবাঙ্গনা সরকার।

সংগীত পরিচালনায় ছিলেন শান্তনু বসু।

Advertisement