E-Rickshaw: টোটো আনতে চলেছে অডি! ভারতের বাজারে আসছে কবে?
নিজেদের গাড়ি ‘ই-ট্রনের’ ব্যাটারি ব্যবহার করে ভারতের বাজারে তিন ধরনের ই-রিকশা আনতে চলেছে অডি। একটি স্টার্টআপ সংস্থার সঙ্গে হাত মেলানো হয়েছে।
ভারতের বাজারে এখন ই-রিকশা বেশ জনপ্রিয়। পরিবেশবান্ধব, হাল্কা এই বাহনটিতে অল্প রাস্তা যাতায়াত বেশ সুবিধাজনক। মফস্সল শহরগুলিতে গত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে ই-রিকশা। মেট্রো শহরগুলিতেও ক্রমেই বাড়ছে এই ই-রিকশার সংখ্যা।
দেশীয় বাজারে নামী ভারতীয় সংস্থা ছাড়াও বেশ কিছু ছোট সংস্থার ই-রিকশা দেখতে পাওয়া যায়।
জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘অডি’ তিন ধরনের ই-রিকশা আনতে চলেছে ভারতের বাজারে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় রিকশাগুলি চলবে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অডি-র বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘ই-ট্রন’-এর ব্যাটারিতে।
‘ই-ট্রন’ জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়িগুলির মধ্যে অন্যতম। কিন্তু ওই গাড়ির ব্যাটারিগুলি একটি নির্দিষ্ট সময়েয় পর বদলে ফেলতে হয়। পুরনো ব্যাটারিগুলি দিয়ে কী করবে অডি?
আরও পড়ুন:
সেই উপায় খুঁজে বের করতেই অডি একটি জার্মান-ভারতীয় স্টার্টআপ ‘ন্যুনাম’-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে।
এই সংস্থা সেই পুরনো ব্যাটারিগুলিকে ই-রিকশাতে ব্যবহার করা যায় কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
এই সংস্থা সেই পুরনো ব্যাটারিগুলিকে ই-রিকশাতে ব্যবহার করা যায় কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
গাড়ির ব্যাটারিগুলি এমন ভাবে তৈরি করা হয়, যাতে সেগুলি বহু দিন ব্যবহার করা যেতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পুরনো ব্যাটারিগুলিকে হালকা বাহনের ক্ষেত্রে আরও কিছু দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
‘ন্যুনাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘প্রাথমিক ব্যবহারের পরও ব্যাটারিগুলিকে হাল্কা যানবাহনে ফের ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কম চাপ পড়বে এবং ব্যাটারিগুলিকেও আরও বেশি দিন ব্যবহার করা যাবে।’’
কিন্তু ই-রিকশাই কেন? এর উত্তরে প্রদীপ জানান, ‘‘ই-রিকশা আদর্শ পরিবেশবান্ধব। ই-রিকশার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক মোটরকে শক্তিশালী হওয়ার দরকার পড়ে না এবং এর ওজনও বেশ হাল্কা হয়।’’
ভারতের ই-রিকশাতে বর্তমানে বেশি ঘনত্বের যে ব্যাটারিগুলি ব্যবহার করা হয়, তার আয়ু খুবই কম। সেগুলি পুরনো হয়ে গেলে ফেলে দেওয়া ছাড়া আর বেশি কিছু করা যায় না।
ভারতের বাজারের ই-রিকশাগুলিকে বাড়ির সাধারণ চার্জার দিয়েই চার্জ করা যায়।
ভারতের বেশির ভাগ বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও কয়লাচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হয়। ফলে তা জীবাশ্ম জ্বালানির চাপ তৈরি করছে।
ন্যুনামের বক্তব্য, তারা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করার দিকে পা বাড়াবেই না। তাদের রিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য তারা সৌরবিদ্যুৎচালিত চার্জিং স্টেশন স্থাপন করবে।
এই সংস্থা শুধু ই-রিকশা বানানোই নয়, ই-ট্রনের ব্যাটারিগুলি যখন রিকশায় ব্যবহার করে পুরনো হয়ে যাবে, তখন তারা সেগুলিকে তৃতীয় দফায় আরও এক বার ব্যবহার করতে চাইছে।
ন্যুনাম চায় দ্বিতীয় দফার পর তৃতীয় দফায় এলইডি লাইট জ্বালাতে সেই ব্যাটারিগুলিকে ব্যবহার করতে।
এই পদ্ধতি যদিও নতুন নয়। গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘নিসান’ অনেক দিন ধরেই তাদের গাড়ির ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার করে আসছে।
তারা পুরনো ব্যাটারিগুলিকে নিজেদের গোডাউনের রোবট চালাতে ব্যবহার করে আসছে বহু দিন ধরেই।
ব্যবহৃত অডি ই-ট্রন ব্যাটারি দ্বারা চালিত ই-রিকশাগুলি ২০২৩ সালের প্রথম দিকে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম ভারতীয় রাস্তায় দেখা যেতে পারে।
বাজারে আসার আগে জার্মান শহর নেকারজালম-এ একটি প্রদর্শনীতে ই-রিকশাগুলির নমুনা প্রদর্শিত হয়েছে সম্প্রতি।