জালিকাযুক্ত স্ত্রী অজগরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইবু ব্যারন’। ইংরেজিতে ভাষান্তর করলে অর্থ দাঁড়ায় ‘দ্য ব্যারনেস’। বিরল ও বিশালাকৃতির স্ত্রী রেটিকুলেটেড পাইথনটি দৈর্ঘ্যে একটি ছোট বাসের সমান। ওজন প্রায় ৯৬ কেজি। দৈত্যাকার অজগরটি প্রায় একটি ফুটবল গোলপোস্টের সমান লম্বা। ছ’টি ট্রলিকে পর পর সাজালে যতটা দীর্ঘ হয় ততটাই লম্বা সাপটি।
ইবু ব্যারনের মূল্যায়ন ও পরিমাপ করেছিলেন দু’জন। বোর্নিয়োর কালিমান্টানের পরিচিত বন্যপ্রাণী গাইড, সাপ উদ্ধারকারী ডিয়াজ নুগ্রাহা এবং বালির বাসিন্দা অভিযাত্রী ও আলোকচিত্রী রাদু ফ্রেন্টিউ। ডিয়াজ এক জন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সর্প উদ্ধারকারী। একটি বিশাল আকৃতির সাপের ‘গুজব’ শুনেই সুলাওয়েসিতে পৌঁছে যান ডিয়াজ এবং ফ্রেন্টিউ। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন গুজব নয়, ঘটনাটি ১০০ ভাগ সত্যি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সাপটির অস্তিত্ব সন্ধানের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণবিদকে। ইবু ব্যারনকে খুঁজে পাওয়ার পর সেটির নিরাপত্তা ও দেখভাল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন স্থানীয় প্রাণী সংরক্ষণবিদ বুদি পুরওয়ান্তো। রাক্ষুসে অজগরের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে হত্যা বা বিক্রি করার ঝুঁকি ছিল প্রবল। কারণ এই ধরনের বিশাল আকারের প্রাণীগুলিকে ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার লোকের অভাব নেই। চড়া দামে বিকোয় বলে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার বলি হতে হয় অসহায় বন্যপ্রাণীদের।
সাপটিকে দেখতে পেয়েই সেটিকে কিনে নেন পুরওয়ান্তো। মারোসে তাঁর জমিতে একটি অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করেন। যেখানে উদ্ধার করা অজগরটি আরও কয়েকটি সঙ্গীসাথীর সঙ্গে রয়েছে। অজগরটিকে আশপাশের এলাকায় ছেড়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ সেখানে সাপের উপযুক্ত শিকারি প্রাণীর সংখ্যা কম। অন্য দিকে এটি একটি ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সাপটির দৈর্ঘ্য পরীক্ষা করার কাজ শুরু হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, সাপটিকে যদি অজ্ঞান করে পরিমাপ করা হত তবে তার দৈর্ঘ্য আরও বাড়তে পারত। ইবু ব্যারনকে অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে দেহ যদি সম্পূর্ণ শিথিল করা হত, তা হলে এটির আকার ১০ শতাংশ পর্যন্ত লম্বা হতে পারত। তা হত প্রায় ২৬ ফুট।
নমনীয় চোয়াল এবং পেট ও অন্ত্র প্রসারিত করার ক্ষমতা অজগরের এই প্রজাতিকে বড় প্রাণী, এমনকি মানুষকে গিলে ফেলতেও সাহায্য করে। এই মাংসাশী প্রজাতিটি সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি খায়। এমন শিকারের প্রতি এদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে যেগুলি তারা পুরো গিলে ফেলতে পারে। তাই এরা সাধারণত বড় প্রাণী এড়িয়ে চলে। বিভিন্ন প্রাণীর ডিম এবং মৃতদেহও খায়।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে দু’টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। যেখানে দু’জন মহিলাকে গিলে ফেলেছিল বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা এবং ওজনের দিক থেকে তৃতীয় সাপ জালিকাযুক্ত অজগর বা রেটিকুলেটেড পাইথন। সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না এই প্রজাতির অজগরটি। মানুষ শিকারের বেশির ভাগই গ্রামসংলগ্ন বনাঞ্চলে ঘটেছিল।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy