Independence Day: ভারত ছাড়া আরও কয়েকটি দেশের স্বাধীনতা দিবস ১৫ অগস্ট, তালিকায় রয়েছে কোন কোন দেশ?
এ দেশের পাশাপাশি সমান উৎসাহে স্বাধীনতা দিবস পালন করছে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশও।
৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের উদ্যাপন পর্ব চলছে ভারত জুড়ে। সকাল থেকেই স্কুলে স্কুলে, নানা মহল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে হরেক অনুষ্ঠানও। এ দেশের পাশাপাশি সমান উৎসাহে স্বাধীনতা দিবস পালন করছে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশও। ঘটনাচক্রে, ভারতের মতো সে দেশগুলিরও স্বাধীনতা দিবস ১৫ অগস্ট!
ভারতের মতোই দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের স্বাধীনতা দিবস ১৫ অগস্ট। এ দেশের সঙ্গে তার আরও একটি মিল রয়েছে। ভারতের মতো ব্রিটিশরাজের কব্জা থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল বাহরাইন।
৫০টি প্রাকৃতিক এবং ৩৩টি কৃত্রিম দ্বীপ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এ দেশ। ২০২০ সালের জনগণনা অনুয়ায়ী, বাহরাইনের জনসংখ্যা ১৫ লক্ষের কিছু বেশি। তার মধ্যে সে সময় ৭১২,৩৬২ জনই ছিলেন বাইরাইনের আদি বাসিন্দা।
বস্তুত, ১৯৭১ সালের ১৫ অগস্ট ব্রিটিশরাজের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিল বাহরাইন।তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে, ১৯১৩ সালে বাহরাইনের অটোমান সরকার এবং ব্রিটিশদের মধ্যে চুক্তিতে সে দেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করা হয়। যদিও ’৭১ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ’৭১-এ রাষ্ট্রপুঞ্জে ভোটাভুটিতে আক্ষরিক অর্থেই স্বাধীনতা পায় বাহরাইন। যদিও অনেকের মতে, বাহরাইনের স্বাধীনতা দিবস হল ১৪ অগস্ট। তবে পরের দিনটিকেই স্বাধীনতা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ভারত এবং বাহরাইনের মতোই ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা পেয়েছিল গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো। কঙ্গোর জাতীয় দিবস হিসাবেও এ দিনটি পালিত হয়।
আরও পড়ুন:
ভূখণ্ডের পরিমাপের নিরিখে আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম এ দেশ। আয়তনের নিরিখে তা রয়েছে বিশ্বের ১১তম স্থানে। এককালে ফরাসি উপনিবেশগুলির মধ্যে অন্যতম বড় দেশ ছিল ১০.৮ কোটির জনসংখ্যার কঙ্গো।
১৯৬০ সালে ফরাসিদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিল কঙ্গো। তার আগে ৮০ বছর ধরে এর শাসনক্ষমতা ছিল ফরাসিদের হাতে। তবে স্বাধীনতা লাভের পর বছর পাঁচেক ধরে নানা আন্দোলনের জেরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী ছিল মধ্য আফ্রিকার এ দেশটি। ’৬৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মার্কস-লেনিনপন্থী মতাদর্শে চালিত হলেও এক সময় তার অবসান হয়। ’৯২-তে বহুদলীয় সরকার গঠিত হয়েছিল কঙ্গোয়।
আমজনতার কাছে বিশেষ পরিচিত দেশ নয় লিকটেনস্টাইন। বস্তুত, বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশগুলির তালিকায় এটি রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ১৮৬৬ সালের ১৫ অগস্ট জার্মান শাসকদের হাত থেকে স্বাধীন এ দেশটি।
১৮৬৬ সালে লিকটেনস্টাইন স্বাধীনতা লাভ করলেও ১৯৪০ সাল থেকে তা উদ্যাপন করা শুরু হয়েছিল। কাকতালীয় ভাবে, পরের দিনটিও উদ্যাপন করতে দেশবাসী। কারণ, তা ছিল সে দেশের তৎকালীন যুবরাজ দ্বিতীয় ফ্রাঞ্জ-জোসেফের জন্মদিন। ১৯৩৮ সাল থেকে ২০০৯ সালে পর্যন্ত আমৃত্যু যিনি লিকস্টেনস্টাইনের শাসনভার সামলেছিলেন।
আরও পড়ুন:
আয়তনের দিক থেকে ক্ষুদ্র দেশগুলির তালিকায় থাকলেও মাথাপিছু আয়ের নিরিখে অনেকটাই উপরে রয়েছে লিকটেনস্টাইন। ২০১৯ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এ দেশে মোটে ৩৮,৭৪৯ জন বাসিন্দার বসবাস। পশ্চিম সুইৎজারল্যান্ড এবং উত্তর ও পূর্বে অস্ট্রিয়ার পড়শি দেশটি আবার মাউন্টেন স্পোর্টসের জন্যও বিখ্যাত।
চল্লিশের দশকে একই দিনে দু’ভাগ হয়েছিল কোরিয়া। জন্ম নিয়েছিল উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া। স্বাধীনতা প্রাপ্তির দিনটিকে বলা হয় গোয়াংবকজিওল। যার আক্ষরিক অর্থ আলো পুনরুদ্ধারের সময়।
১৯৪৫ সাল থেকে উপনিবেশ হিসাবে জাপানিদের হাতে ছিল কোরিয়া। ৩৫ বছরের সেই শাসনের অবসানে স্বাধীনতা পায় এ দেশটি। তবে ভারতের মতোই দেশভাগের যন্ত্রণা সইতে হয়েছে কোরীয়দের।
১৫ অগস্টের স্বাধীনতা দিবসটি ন্যাশনাল লিবারেশন ডে অব কোরিয়া নামেও পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ দিনেই জাপানের পরাজয় হয়েছিল। তার তিন বছর পর কোরিয়া দু’ভাগ হয়ে যায়।