• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ব্যবসা

শিঙাড়া বিক্রির জন্য নিজেদের স্বপ্নের ফ্ল্যাটও বেচে দেন বেঙ্গালুরুর এই স্বামী-স্ত্রী

শেয়ার করুন
১৯ samosa
হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি পড়ার সময় নিধি এবং শিখর সিংহের পরিচয়। সেখানেই প্রেম। নিধির বরাবরই ইচ্ছা ছিল মার্কেটিংয়ের চাকরি করার। পড়াশোনা শেষ করে নিধি একটি মার্কিন সংস্থায় মার্কেটিং এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্টের চাকরি পান।
১৯ samosa
আর বায়োটেকনোলজি নিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করতে শিখর যান হায়দরাবাদ। সেখানেই প্রথম উপলব্ধি করেন যে, ন্যায্য মূল্যে স্বাস্থ্যকর খাবার কোথাও নেই, মানুষের ভরসা তাই স্ট্রিট ফুড।
১৯ samosa
সেটা ছিল ২০০৭ সাল। তাঁর শিঙাড়া কিয়স্ক খোলার ইচ্ছার কথা নিধিকে জানান তিনি। কিন্তু তখন ব্যবসা শুরু প্রয়োজনীয় টাকা ছিল না। ২০০৯ সালে শিখর বায়োকন কোম্পানিতে যোগ দেন। এর দু’বছর পর বিয়ে করেন নিধি-শিখর।
১৯ samosa
সংসার, চাকরি— সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু শিখরের মনের কোণে সেই শিঙাড়া কিয়স্ক রয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই দু’জনের মধ্যে এটা নিয়ে কথা হত। এর অনেক বছর পর, ২০১৫ সালে অবশেষে দু’জনে ব্যবসাটা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
১৯ samosa
শিখর তার পরদিনই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন আর নিধি কোম্পানিতে কথা বলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম-এর ব্যবস্থা করে ফেলেন। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে ফ্ল্যাটের কাছেই ছোট একটা ঘর ভাড়া নিয়ে শিঙাড়া বিক্রি শুরু করেন তাঁরা। রাঁধুনিও রেখেছিলেন। কিয়স্কের নাম হয় ‘সামোসা সিংহ’।
১৯ samosa
নিধি-শিখর দু’জনেই স্বাস্থ্যকর দিকটা নজর রেখেছিলেন প্রথম থেকেই। শিঙাড়া খেলে যেন আঙুলে তেল লেগে না থাকে, সে দিকে বিশেষ নজর ছিল তাঁদের। দামটাও বেশ কম রেখেছিলেন তাঁরা। ২০ টাকায় দুটো আলু শিঙাড়া আর ৫৫ টাকায় দু’টো অর্থাত্ এক প্লেট চিকেন মাখানি শিঙাড়া। এ ছাড়া চকোলেট শিঙাড়াও বিক্রি শুরু করেন তাঁরা। পাশাপাশি হোম ডেলিভারিও চলছিল।
১৯ samosa
ক্রমে দিনে তাঁদের ৫০০টা করে শিঙাড়া বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু এ বার আরও বড় কিছু করার সময় এসে গিয়েছিল। নিধি এবং শিখর কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। জার্মানির ইঞ্জিনিয়ারিং জায়ান্ট ‘দ্য কোম্পানি’ তাঁদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। ৮ হাজার শিঙাড়ার অর্ডার দেয় তারা।
১৯ samosa
ব্যবসাটাকে বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার এটাই ছিল সেরা সুযোগ। কিন্তু সমস্যা ছিল অর্থের। ঝুঁকি নিয়ে নিধি এবং শিখর তাঁদের ফ্ল্যাট বেচে দেন। সেই টাকা ব্যবসায় নিয়োগ করেন। একটা বড় রান্নাঘর কিনে তৈরি করেন তাঁরা।
১৯ samosa
শিঙাড়া যাতে খারাপ না হয়ে যায়, ভিতরের পুরটাও যাতে ডেলিভারির দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে, সে রকম অভিনব কিছু ব্যবস্থা করেছিলেন শিখর এবং তাঁর রাঁধুনি। হাইজিন বজায় রাখার জন্য শিঙাড়ায় কোনও প্রিজারভেটিভও দেওয়ার তীব্র বিরোধী ছিলেন তাঁরা।
১০১৯ samosa
এরপর আইনক্স, পিভিআর, ক্যাফে কফি ডে, টিসিএস সমস্ত জায়গায় ক্রমে তাঁদের নিজের আউটলেট খোলা হয়। বেঙ্গালুরুতে তাদের ৭টা আউটলেট রয়েছে বর্তমানে।
১১১৯ samosa
ব্যবসা আরও বাড়ানোর জন্য নিধি শিঙাড়া উত্সবের আয়োজন করেন। বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান। উত্সবে শিঙাড়া খেয়ে অনেকেরই ভাল লেগে যায়। তাঁরা তাঁদের সংস্থায় ‘সামোসা সিংহ’-এর আউটলেটের ব্যবস্থা করেন।
১২১৯ samosa
ব্যবসা যত বাড়তে থাকে আরও উন্নত রান্নাঘর ও সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তার জন্য প্রয়োজন ছিল আরও অর্থের। এ বার আর নিধি-শিখরের পক্ষে বিনিয়োগ করা সম্ভব ছিল না। কোনও বিনিয়োগকারীর খোঁজ শুরু করেন তাঁরা।
১৩১৯ samosa
তাঁরা খোঁজ পান কানওয়ালজিত্ সিংহ নামে এক বিনিয়োগকারীর, যিনি ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। নিধিকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন শেখর। অনেক চেষ্টায় কানওয়ালজিতের ফোন নম্বর জোগাড় করলেও, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তাঁরা।
১৪১৯ samosa
নিধি এতটাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে, ঠিকানা জোগাড় করে কানওয়ালজিতের বাড়ির সামনে হাজির হন। কিন্তু দু’দিন অপেক্ষা করেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি নিধির। দু’সপ্তাহ পর ভাগ্যবশত ফোনে যোগাযোগ হয় তাঁর।
১৫১৯ samosa
নিধি এবং শিখরের অফুরন্ত এনার্জি এবং ব্যবসার প্রতি ডেডিকেশন ভাল লেগে যায় কানওয়ালজিতের। বিনিয়োগ করতে রাজিও হয়ে যান তিনি।
১৬১৯ samosa
বর্তমানে দিনে ১০ হাজার শিঙাড়া তৈরি করে ‘সামোসা সিংহ’। সমস্ত আউটলেটে ফ্রোজেন সিঙাড়া চলে যায় রান্নাঘর থেকে। গ্রাহককে সরাসরি গরম গরম ভেজে দেওয়া হয়।
১৭১৯ samosa
শিখর-নিধির পরবর্তী লক্ষ্য বেঙ্গালুরুতেই প্রতিদিন ৫০ হাজার শিঙারা বিক্রি করা। বেঙ্গালুরুর বাইরে হায়দরাবাদেও তাঁদের আউটলেট চালু হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি পুণেতেও তাঁদের আউটলেট চালু হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
১৮১৯ samosa
ব্যবসায় নতুনত্ব আনার চিন্তা সব সময়ই করে চলেন তাঁরা। কী ভাবে গ্রাহকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, আরও নতুন কী চালু করা যায়, প্রতিনিয়ত ভেবে চলেছেন তাঁরা।
১৯১৯ samosa
বর্তমানে ‘সামোসা সিংহ’-এর ব্যবসার পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। এই আর্থিক বছর তা বেড়ে ৮ কোটি হবে বলে আশা করছেন শেখর-নিধি।

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর
আরও পড়ুন