• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দেশ

৬০ ফুট গভীর ‘মৃত্যুকূপ’ থেকে উদ্ধার দু’দিন পরে, কেমন আছেন কুরুক্ষেত্রের সে দিনের ‘দেবশিশু’ প্রিন্স?

শেয়ার করুন
১০ 1
হরিয়ানার প্রিন্সকুমার কাশ্যপকে মনে আছে? যাকে নিয়ে ২০০৬ সালে উত্তাল হয়েছিল দেশের সংবাদমাধ্যম। ৬০ ফুট গভীর পরিত্যক্ত নলকূপে টানা দু’দিন বন্দি থাকার পরে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। অন্ধকূপ থেকে জীবিত অবস্থায় বেরিয়ে আসার পরে সবার কাছে ‘দেবশিশু’ পরিচয় পেয়েছিল কুরুক্ষেত্রের হলধেরি গ্রামের পাঁচ বছরের বালক।
১০ 2
নিজের গ্রামের পাশাপাশি স্থানীয় অন্যান্য গ্রাম থেকেও ডাক আসত ‘দেবশিশু’-র কাছে। ডাক আসত পুজো আচ্চা ও কীর্তনের আসর থেকে। সে বাড়ি ফিরত মোটা অঙ্কের প্রণামী নিয়ে। প্রিন্সের সুবাদে তাদের পরিবারের আর্থিক হালও ফিরেছিল। উঠে গিয়েছিল পাকা বাড়ি।
১০ 3
এই ভাবে কেটে গিয়েছে তেরো বছর। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের ফারাক এখন বিস্তর। আর ‘দেবশিশু’ নয় প্রিন্স। ডাক আসে না কীর্তনের আসর থেকেও। বেসরকারি স্কুল থেকে ছাড়িয়ে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল গ্রামের সরকারি স্কুলে। কিন্তু সেখানে নাকি নিয়মিত যেত না সে। প্রথমবারের চেষ্টায় পাশ করতে পারেননি দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষাতেও।
১০ 4
সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রিন্সকে নিয়ে ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। সেখানে আঠেরো বছর বয়সি প্রিন্স জানিয়েছেন, নলকূপ থেকে উদ্ধার হওয়ার পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে ছ’লাখ টাকা এসেছিল। কিন্তু তাতে পরিবারের স্থায়ী আর্থিক সুরাহা হয়নি। তাঁর বাবা রামকৃষ্ণ কাশ্যপ এখনও মাঠে চাষের কাজ করেন, জানিয়েছেন প্রিন্স নিজেই।
১০ 5
বাবাকে চাষের কাজে সাহায্য করেন প্রিন্স নিজেও। তবে তাঁর স্বপ্ন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। কারণ সেনাবাহিনীই তাঁকে উদ্ধার করেছিল ‘মৃত্যুকূপ’ থেকে। পেয়েছিলেন নতুন জীবন।
১০ 6
প্রিন্সের জন্মদাত্রী তাঁদের ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, প্রিন্সের জন্যই গ্রামে পুজো ভাণ্ডারা বসেছিল। পুজোর পুরোহিতের সঙ্গে পালিয়ে যান প্রিন্সের মা। তাঁর বাবা আবার বিয়ে করেছেন। বিমাতা তাঁকে ভালবাসেন, সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে প্রিন্স।
১০ 7
২০০৬-এর জুলাই মাসে পরিত্যক্ত গভীর বোরওয়েল বা নলকূপে পড়ে গিয়েছিল বালক প্রিন্স। আংরেজ নামে এক বন্ধুর সঙ্গে খেলছিল সে। একটি ইঁদুরকে ধরতে গিয়ে উঠে গিয়েছিল বস্তার উপরে। তারপরেই সব অন্ধকার।
১০ 8
ওই বস্তা দিয়ে ঢাকা দেওয়া ছিল পরিত্যক্ত কূপ। কোনও এক সময় জলের জন্য খোঁড়া হয়েছিল কূপ, কিন্তু তারপরে তার ব্যবহার ফুরিয়ে যায়। পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল ৬০ ফুট গভীর গর্ত। মাটি ঝুরঝুরে হয়ে যাওয়ায় ওই বস্তা ধরে রাখতে পারেনি একজন পাঁচ বছর বয়সী ছেলের ভারও।
১০ 9
৪৮ ঘণ্টার চেষ্টায় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা উদ্ধার করে প্রিন্সকে। সারা দেশের বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় সেই উদ্ধারপর্ব।
১০১০ ১০
সে দিনের ‘দেবশিশু’ প্রিন্স আজ বাস্তবের কঠোর জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি। গ্রামে বা অন্য কোথাও পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ দেখলেই মনে পড়ে যায় নিজের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা।

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর
আরও পড়ুন