Advertisement
০৪ ডিসেম্বর ২০২২

বোম্বাইয়ের ব্যোমকেশ, অচেনা শরদিন্দু এস ব্যানার্জি

সত্যসন্ধানী নন। তিনি হিন্দি ছবির চিত্রনাট্যকার। কিন্তু শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় মুম্বই প্রবাসেই খুঁজে পেলেন সত্যবতীকে। লেখার অবসরে চালু করলেন নতুন খেলা, অন্তাক্ষরী। গৌতম চক্রবর্তী সত্যসন্ধানী নন। তিনি হিন্দি ছবির চিত্রনাট্যকার। কিন্তু শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় মুম্বই প্রবাসেই খুঁজে পেলেন সত্যবতীকে। লেখার অবসরে চালু করলেন নতুন খেলা, অন্তাক্ষরী। লিখলেন গৌতম চক্রবর্তী।

ছবি: ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য

ছবি: ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ০০:০০
Share: Save:

এস ব্যানার্জির টেবিলের ড্রয়ারটা ব্যোমকেশ কখনও ঘাঁটেনি। মুম্বইয়ের মালাড অঞ্চলে থাকতেন ওই বাঙালি ভদ্রলোক। ওই ভাবেই সিনেমার গল্প ও চিত্রনাট্য লিখে ড্রয়ারটায় রেখে দিতেন তিনি। যে ফিল্ম কোম্পানি সবচেয়ে বেশি টাকা দিতে পারবে, তাদেরই বিক্রি করতেন সেই চিত্রনাট্য।

Advertisement

ভাগ্য খুঁজতে যে সব বাঙালি তরুণ মুম্বই সিনেমাদুনিয়ায় আসেন, তাঁরা অনেকেই তখন মালাডে বাগান ঘেরা এই বাড়িটায় ভদ্রলোকের সঙ্গে আড্ডা জমাতে আসেন। কখনও গান গাইছেন শচীন দেববর্মণ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বা জগন্ময় মিত্র। ক্যারম পেটাচ্ছেন স্কুল-শিক্ষকের চাকরি ছেড়ে-আসা তরুণ হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়। এখানকার ‘বম্বে টকিজ’ স্টুডিয়োয় সম্পাদনা বিভাগে চাকরি পেয়েছেন তিনি। ব্যানার্জি একদা ওই স্টুডিয়োতেই সিনেমার গল্প ও চিত্রনাট্য লেখার চাকরি করতেন। ওখানেই তৈরি হয়েছে অশোক কুমারের সুপারহিট ছবি ‘কিসমত’। দিলীপকুমার নামে আর এক তরুণের প্রথম ছবি ‘জোয়ার ভাটা’ও ওই বম্বে টকিজ-এর ব্যানারে।

ফেলুদাও ওই ড্রয়ার কোনও দিন ঘাঁটার সুযোগ পায়নি। ১৯৭৬ সালে পুলক ঘোষাল, লালমোহনবাবুদের সঙ্গে গল্পের দুনিয়ায় সে যখন ‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’কে খুঁজতে এসেছে, এস ব্যানার্জি ইহলোকে আর নেই। তার বছর ছয়েক আগে এই মালাডের বাড়িতেই ছেলে, বউমা, নাতিদের কাছে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন তিনি। ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭০। আর সন্দীপ রায়ের হাত ধরে কয়েক বছর আগে ‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’ যখন সিনেমা হল, বাড়িটাকে খুঁজে পাওয়ার প্রশ্নই নেই। সেটি ভেঙেচুরে হাল আমলের ফ্ল্যাটবাড়ি। তিন পুত্রের দুই জনই মারা গিয়েছেন। অকালে মারা গিয়েছেন এক পৌত্র। মুম্বইয়ের শহর-সংস্কৃতিতে চিত্রনাট্যকার এস ব্যানার্জির কোনও স্মৃতি আর নেই।

কিন্তু বাংলা সাহিত্যে আজও তিনি স্বনামেই অম্লান— শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সময় চিত্রনাট্য, সিনেমা সব কিছুকে বিদায় জানিয়ে পেটের গোলমালে ভুগে মুম্বই ছেড়ে চলে আসেন পুণেতে। সেখানেই তৈরি করেন নিজের বাড়ি, ‘মিথিলা’। সেখানে গৃহপ্রবেশ ১৯৫৩ সালের অগস্ট মাসে। চার মাস পরেই ২৫ ডিসেম্বর রাতে ডায়রিতে লিখলেন, ‘পনেরো বছর পরে আবার ব্যোমকেশের গল্প লিখিলাম।… এ বার ব্যোমকেশ এবং অজিত ছাড়া আর একটি স্থায়ী চরিত্র জুটিয়াছে— সত্যবতী।’ নায়িকার জন্ম শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুণে প্রবাসকালেই।

Advertisement

শুধুই সত্যবতী? ১৯৩৮ সালে মুঙ্গেরে থাকার সময় একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস শুরু করেছিলেন শরদিন্দু। এর আগে বেশ কিছু ঐতিহাসিক গল্প লিখলেও উপন্যাস এই প্রথম। কিন্তু মুম্বই এসে সে গল্প শিকেয় তুলে রাখা হয়েছিল। তখন শুধু সিনেমার গল্প লেখার ব্যস্ততা। বারো বছর পর মালাডের বাড়িতে বসে ফের ধরলেন বাকি অংশ, ডায়রিতে লিখলেন, ‘মাছের কাঁটার মতো গল্পটা আমার গলায় বিঁধিয়া ছিল, এতদিনে বাহির হইল।’ স্কন্দগুপ্তের আমলের প্রেক্ষিতে লেখা উপন্যাস: ‘কালের মন্দিরা’। মুম্বই এবং পুণে থেকেই সদর্পে ফিরে এলেন বাংলা সাহিত্যে।

এই রেকর্ড আর কোথাও নেই। পরে ঋত্বিক ঘটক থেকে শচীন ভৌমিক, অনেকেই চিত্রনাট্য লিখতে মুম্বই পাড়ি দেবেন, কিন্তু তাঁদের প্রভাব শুধু সিনেমা-জগতেই। হাল আমলে বঙ্গকন্যা স্বচ্ছতোয়া গুহ সুভাষ ঘাই-এর ‘মুক্তা আর্টস’-এর ছবির চিত্রনাট্য লেখেন, পুবালি চৌধুরীও ‘রক অন’ ছবির কাহিনি লিখে বিখ্যাত। কিন্তু সিনেমা ও সাহিত্যের মাঝে ছেঁড়া তার জোড়া লাগেনি।

সংস্কৃতির এই বিস্মৃত, ছেঁড়া তার মালুম করতেই শরদিন্দুর মুম্বই-জীবন জরুরি। হিমাংশু রাই-দেবিকা রাণীর ‘বম্বে টকিজ’-এ তাঁকে চিত্রনাট্য লেখার প্রস্তাব দিচ্ছেন কে? ‘হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়ান ফিলজফি’র লেখক, দার্শনিক সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত। হিমাংশু রাই তাঁর শ্যালক। মুম্বইতে তিনি ভাল গল্প লেখার লোক পাচ্ছেন না। কিন্তু বিশ্বাস, কলকাতায় নিশ্চয় আছে সে রকম কেউ।

সুরেন্দ্রনাথ ও তাঁর বন্ধুরা হিমাংশুবাবুর সাহায্যে এগিয়ে এলেন। দীনেশচন্দ্র সেন প্রস্তাবটা দিলেন সুচিত্রা মিত্রের বাবা সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়কে। কিন্তু সৌরীন্দ্রবাবু তখন জনপ্রিয় লেখক, উপরন্তু কলকাতা শহরেই আইনজীবী হিসেবে যথেষ্ট পসার। তিনি মুম্বই যাবেন কোন দুঃখে?

তত দিনে মুঙ্গেরে ডাকসাইটে আইনজীবী পিতার পুত্র শরদিন্দু আইন-ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। ঘরে স্ত্রী ও তিন পুত্র। কিন্তু তিনি শুধুই গল্প লিখবেন, ওকালতি ধাতে পোষাবে না। সেই ইচ্ছেতে বাদ সেধেছে আর্থিক অনটন। ১৯৩৮ সালের জুলাই মাসে তাই সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের চিঠি পকেটে নিয়ে সপরিবার মুম্বই রওনা হলেন শরদিন্দু। বিশ্ববিদ্যালয়, দর্শনশাস্ত্র, জনপ্রিয় লেখক এবং হিন্দি ছবির এই রাজযোটক আর হয়নি।

মুম্বই এসে শরদিন্দু প্রথমে উঠলেন আন্ধেরি অঞ্চলে। বাংলা ভাষা কেউ বোঝে না, সিনেমার গল্প লিখতেন ইংরেজিতে। বম্বে টকিজ-এর ‘কঙ্গন’, ‘পুনর্মিলন’, ‘ঝুলা’ ইত্যাদি সিনেমার চিত্রনাট্যে তাঁর হাত ছিল। তিন বছর পরে বম্বে টকিজ-এর সঙ্গে চুক্তি শেষ, ১৯৪১ সালে যোগ দিলেন ‘আচারিয়া আর্ট প্রোডাকশন’ নামে এক সংস্থায়। সেই সংস্থার ‘উলঝন’, ‘আগে কদম’ ইত্যাদি ছবির ভাবনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তিনি।

দু’বছর পরে ছেড়ে দিলেন সেই প্রোডাকশন হাউসও। তাঁর ‘বিষের ধোঁয়া’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘ভাবী’ তখন হিট ছবি। কিন্তু তাল কাটল ‘নিশাচর’ গল্প অবলম্বনে হিন্দি ছবি তৈরির পর। যা ছিল সিরিয়াস গল্প, প্রযোজকের হস্তক্ষেপে হয়ে উঠল কমেডি ছবি। তাঁর গল্প নিয়ে তৈরি ‘বিজয়লক্ষ্মী’ সিনেমাতেও প্রযোজকের সৃজনশীল হস্তক্ষেপ এবং ভরাডুবি। হতাশ শরদিন্দু যেন প্রযোজককে স্মরণ করেই ডায়রিতে লিখলেন, ‘যার রসবোধ যত কম, তার মেরামত করিবার বাতিক তত বেশি।’

কিন্তু দুটো সিদ্ধান্ত তত ক্ষণে নিয়ে ফেলেছেন তিনি। এক, মুম্বই ছাড়বেন না। দুই, ফ্রিলান্স করবেন, কিন্তু গল্প বদলাতে দেবেন না। এস ব্যানার্জি তখন এক বার চিত্রনাট্য বানাচ্ছেন, কয়েক মাস পর আবার সেটিকে গল্পের আকারে লিখছেন। তাঁর ‘মনচোরা’ গল্প নিয়ে সন্দীপ রায় সম্প্রতি যে সিনেমা তৈরি করেছিলেন, সেই গল্প লেখার আগে তাকে ‘কানামাছি’ নাম দিয়ে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন শরদিন্দু। প্রথমে চিত্রনাট্য লিখলেন ‘যুগে যুগে’, পরে সেই কাহিনি নিয়েই উপন্যাস ‘রাজদ্রোহী’। উত্তমকুমার আর অঞ্জনা ভৌমিকের হিট ছবি। মুম্বইপ্রবাসী প্রৌঢ় শরদিন্দুই সেই লেখক, যিনি নিজের লেখাকে কখনও পাঠিয়েছেন চিত্রনাট্যে, কখনও বা গল্পের দুনিয়ায়। চিত্রনাট্য তাঁর কাছে গল্প, উপন্যাসের মতোই সাহিত্যের প্রকরণ। সিনেমার নয়।

আর ব্যক্তিজীবনে? বিকেলবেলা নাতি তূণককে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে বেরোন। সন্ধ্যা নামে, লাইন বেয়ে কয়লার ধোঁয়া ছেড়ে সুরাতের দিকে ছুটে বেরিয়ে যায় ‘ফ্লাইং রানি’ নামের এক্সপ্রেস ট্রেন। তখনই দাদুর কাঁধে চেপে বাড়ি ফেরে নাতি। পরে তূণক নিজেই ইংরেজি ভাষায় এক স্মৃতিচারণে লিখেছিলেন সে কথা।

ব্যোমকেশ-স্রষ্টা নিজেও প্রেমপত্র লিখতেন ইংরেজিতে। ১৯ বছর বয়সে বিয়ে, হস্টেল থেকে নববিবাহিতা স্ত্রীকে লিখছেন: ‘My sweet little loving wife, I have a longing in my heart to fly away to you to kiss your sweet lips...’

মুম্বই মানে, এই দম্পতির প্রথম নিজস্ব সংসার। তার আগে শরদিন্দু মুঙ্গেরে বাবা ও ভাইদের সঙ্গে যৌথ পরিবারে থাকতেন। সংসারের নিজস্ব পরিসরে দেখা স্ত্রী পারুলবালাই কি সত্যবতী চরিত্রের মডেল? ব্যোমকেশ যেমন সত্যবতীকে সত্যান্বেষণের খুঁটিনাটি শোনায়, শরদিন্দুও সে রকম। লেখা শেষ হলে স্ত্রীকেই পড়ে শোনান। পরেও বলেছেন, স্ত্রী ও ‘একমাত্র বান্ধবী’ পারুলই তাঁর সব লেখার প্রথম পাঠক। ‘সেন্সরশিপটা আমার ঘরে থেকে যাওয়ায় লাভ হয়েছে। ছাপা হওয়ার আগে লেখা আর কাউকে পড়াই না।’ তাঁর এক পুত্রও কলকাতায় চাকরি করতে এসে থাকতেন ব্যোমকেশ-সত্যবতীর কেয়াতলায়। নিজের জীবনের হরেক ক্লু এ ভাবেই তাঁর গল্পে দিয়ে গিয়েছেন শরদিন্দু।

কেমন ছিল এই দম্পতির জীবন? শরদিন্দুর ব্যায়াম-করা, প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার দোহারা চেহারা। তার পাশে পারুল বড়জোর সাড়ে চার ফুট। কিন্তু সংসারের খুঁটিনাটি বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর। গল্পের প্লট ভাবতে ভাবতে ঘরে ঘুরে বেড়াতেন, আপনমনে প্লেট থেকে এক মুঠো আলুভাজা তুলে খেতেন। পারুলের কাজই ছিল স্বামীর জন্য আলুভাজার প্লেট তৈরি রাখা। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সহৃদয়, অতিথিবৎসল। সুকুমার সেনও তাঁর স্মৃতিকথায় লিখে গিয়েছেন, ‘যেমন শরদিন্দুবাবু, তেমনি, তাঁর স্ত্রী। দু’জনেই এক মুহূর্তে অচেনাকে চিরচেনা করতে পারেন।’

সন্ধ্যায় নাতিকে নিয়ে বাড়ি ফিরে মাঝে মাঝে ছেলে, বউমাদের সঙ্গে তাস খেলতে বসেন তিনি। বোরিভলি এলাকায় তখন অনেক পুকুর, প্রতি শনিবার ‘চার’, ‘টোপ’ ইত্যাদি নিয়ে তখন মাছ ধরতে যান শরদিন্দু। কোষ্ঠীবিচার তাঁর নেশা। হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় মাঝে হতাশ হয়ে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন, শরদিন্দুই তাঁর কোষ্ঠী দেখে বলেন, ‘যেয়ো না। এখানেই তোমার রাজযোগ।’

বন্ধুবান্ধবের মধ্যে সময় কাটানোর জন্য একটি নতুন খেলাও চালু করেন তিনি। কেউ রবীন্দ্রনাথের দু’এক লাইন কবিতা বলবে, শেষ অক্ষর দিয়ে আর এক জন অন্য এক কবিতা। খেলার নামটাও তাঁরই দেওয়া: অন্তাক্ষরী। ব্যোমকেশ-স্রষ্টাই এই খেলার উদ্ভাবক।

মুম্বই-এর জল সহ্য না হওয়ায় ইতিমধ্যে চার বছরের নাতি তূণককে নিয়ে তিনি সস্ত্রীক চলে এসেছেন পুণেতে। ছেলে, বউমারা মুম্বই থেকে সপ্তাহান্তে আসেন, তূণকের পোষা কাঠবিড়ালির নাম তিনি দিয়েছেন চিড়িকদাস।

তো, এই পুণেতেই সদর্পে বাংলা সাহিত্যে ফিরলেন তিনি। লেখা হল একের পর এক ব্যোমকেশ, ‘গৌড়মল্লার’, ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘ’, ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’। শিবাজির আমলের দুই বালক-বালিকাকে নিয়ে ‘সদাশিব’। কলকাতায় তাঁর গল্প নিয়েই সত্যজিৎ তখন তৈরি করছেন ‘চিড়িয়াখানা’, তপন সিংহ ‘ঝিন্দের বন্দি।’

তবু সিনেমায় আর ফেরেননি। শরদিন্দুর কপিরাইট এখন তাঁর পৌত্রপ্রতিম প্রবীর চক্রবর্তীর হাতে। অঞ্জন দত্ত, অরিন্দম শীল থেকে দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়, সবাইকে কপিরাইটের জন্য ওঁরই দ্বারস্থ হতে হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘দাদু চিড়িয়াখানা দেখে ঠাট্টা করেছিলেন, ইস! ব্যোমকেশ তো কায়েত, তাকে উত্তমকুমার চট্টোপাধ্যায়… একেবারে বামুন বানিয়ে দিল।’ কায়েত মানসপুত্রের প্রতি তাঁর দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন বারবার। এক সাক্ষাৎকারে এক বার জানালেন, ব্যোমকেশ কেন বক্সী— ‘কায়েতদের বুদ্ধি বেশি।’ ফেলুদাও কিন্তু প্রদোষচন্দ্র মিত্র— কায়স্থ!

‘ঝিন্দের বন্দী’ ছবির খবর জেনে আরও খুশি। প্রবীরবাবুকে চিঠি লিখেছিলেন, ‘তপনাটা নাকি ছবি করেই ফেলেছে।’ তপনা তথা তপন সিংহ সেই চিঠি নিজের কাছে রাখার জন্য অনেক অনুরোধও করেছিলেন, মনে আছে প্রবীরবাবুর।

১৯৭০ সালে পুণেতেই তাঁর সেরিব্রাল অ্যাটাক। একটু ভাল হতে মুম্বই নিয়ে আসা হল। সেখানেই শেষ নিশ্বাস। মৃত্যুর পর পাওয়া গেল অপ্রকাশিত এক লেখা। ১৬ বছর বয়সে ‘প্রেমের প্রায়শ্চিত্ত’ নাম দিয়ে লিখেছিলেন, কিন্তু কাঁচা লেখা ভেবে আজীবন ড্রয়ারেই রেখে দিয়েছিলেন। প্রবীরবাবুর স্মৃতিচারণ, ‘লেখাটা ছেপে বেরোনোর পরের দিনই তরুণ মজুমদারের ফোন, তিনি সিনেমা তৈরি করবেন। অবিলম্বে গল্পের চিত্রস্বত্ব চাই।’ এস ব্যানার্জি যে গল্পকে কাঁচা ভেবে কোনও দিন চিত্রনাট্যে রূপ দেওয়ার কথা ভাবেননি, সেই গল্পই মৃত্যুর পর নিয়ে এল সিনেমার আর এক জয়টিকা।

গল্পটার নাম অবশ্য জীবদ্দশাতেই পাল্টে দিয়েছিলেন শরদিন্দু। ‘দাদার কীর্তি’!

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.