মঙ্গলবার ভারতবাসীও সাক্ষী থাকল চন্দ্রগ্রহণের। ছবি: পিটিআই।
বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ে চাঁদ উঠেছে ৬টা ২০ মিনিটে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে সেখানকার বাসিন্দারা রক্তচাঁদ দেখেছেন।
ভারতে খণ্ডগ্রাস গ্রহণের চিত্র। ছবি: পিটিআই।
মুম্বই এবং দিল্লিতে চাঁদ উঠেছে ৬টা ২২ মিনিট নাগাদ। প্রায় ২০ মিনিট ধরে গ্রহণের সাক্ষী হতে পেরেছেন বাসিন্দারা।
ছায়া সরছে চাঁদ থেকে। ছবি: পিটিআই।
কলকাতার আকাশেও ধরা দিল রক্তচাঁদ। শহরে চাঁদ উঠেছে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট নাগাদ। ওই সময়ে কলকাতা-সহ রাজ্যের আকাশ থেকে চাঁদের ৯১ শতাংশ লাল দেখায়। তার পরে ধীরে ধীরে লালচে ভাব কমতে থাকে।
৬টা ৪৭ মিনিটের পর থেকে ধীরে ধীরে চাঁদের একটা দিক উজ্জ্বল হতে থাকবে। এর পরে উপছায়া থেকে চাঁদ বেরিয়ে যাবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে। তখন ঝলমলে দেখাবে পূর্ণিমার চাঁদকে।
কলকাতার আকাশে রক্তচাঁদ। ছবি: শ্রুতি মিশ্র।
মঙ্গলবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ। সবচেয়ে নাটকীয় পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরে। সেই সময় পৃথিবীর যেখানে অন্ধকার থাকবে, সেখানে আকাশে খালি চোখে তাকালেই দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। ভারতীয় সময় অনুসারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ পর্যন্ত চলবে প্রচ্ছায়া। তখন মলিন দেখাবে চাঁদকে। ৬টা ৪৭ নাগাদ প্রচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে যাবে চাঁদ।
মঙ্গলবার গুয়াহাটি থেকেও দেখা গেল রক্তচাঁদ। ছবি: পিটিআই।
মঙ্গলবার শহরে চাঁদ উঠবে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে। অন্য দিকে, ভারতীয় সময়ে পূর্ণগ্রাস শেষ হয়ে যাচ্ছে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে। তাই কলকাতাবাসী যখন দিগন্তরেখা থেকে চাঁদকে উঠতে দেখবেন, তখন পূর্ণগ্রাস থাকবে না। তবে চাঁদের ৯১ শতাংশ থাকবে লাল বা ব্লাডমুন। বাকি ৯ শতাংশ থাকবে আবছা হলুদ।
ভারতের আকাশে আবছা চাঁদ। ছবি: পিটিআই।
মার্চের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদকে বলে ‘কেঁচো চাঁদ’ (ইংরেজিতে ওয়র্ম মুন)। কানাডা, উত্তর আমেরিকায় মার্চ থেকে বরফ গলতে শুরু করে। মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে কেঁচো। পাখিরা সেগুলি ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে খায়। আসলে মার্চে পাখিদের প্রজননের সময় শুরু হয়। তার আগে মনে ভরে কেঁচো খেয়ে পেট ভরায়। সে কারণে মার্চের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদের এই নাম।
দার্জিলিঙে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাবে গ্রহণ। তা চলবে এক ঘণ্টা ১১ মিনিট ধরে। কোচবিহারে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে দেখা যাবে গ্রহণ। মেদিনীপুরে বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে গ্রহণ। চলবে এক ঘণ্টা ৪ মিনিট ধরে। মুর্শিদাবাদে ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে আকাশে দেখা যাবে গ্রহণ।
পূর্ব ভারতে তিনসুকিয়া, ডিগবয়ে চাঁদ উঠবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে। পুরো চাঁদ উঠতে দেড় মিনিট লাগবে। তাই সেখানকার মানুষজনের পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ বেশি থাকবে। তবে রাজস্থান, গুজরাতের মতো পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে পূর্ণগ্রাস দেখার সম্ভাবনা নেই।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি কালো কিন্তু হয় না। বদলে লাল হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো গ্রহণ করে (তার মধ্যে দিয়ে যখন সেই রশ্মি প্রতিসরিত হয়), তখন সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম পরিমাণে প্রতিসরিত হয় এবং তা চাঁদের উপরে গিয়ে পড়ে। অন্য দিকে, সূর্যরশ্মির নীল অংশটি চার দিকে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে। তাই চাঁদকে গ্রহণের সময়ে গাঢ় কালচে লাল দেখা যায়। কিন্তু কখনও কালো দেখায় না।
চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। তার উপর সূর্যের আলো পড়ে। তার পরেই তাকে দেখা যায়। পৃথিবী চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে চলে এলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপরে। তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হয় লাল। সে কারণে তাকে ‘রক্ত চাঁদ’ (ব্লাড মুন)-ও বলা হয়ে থাকে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy