টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষেত্রে তৃতীয় দিনটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে মনে করেন বেশির ভাগ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। আর সেই মহা গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় দিনেই স্টেইন অ্যান্ড কোম্পানির টুঁটি চেপে ধরার কাজটি বেশ খানিকটা সেরে রাখল বাংলাদেশ। সৌজন্যে সাকিব-লিটনদের অনবদ্য ব্যাটিং। যার সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩২৬ রানে শেষ হয় তাদের প্রথম ইনিংস।

দ্বিতীয় ইনিংসে কিন্তু বেশ ভাল ভাবেই শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসের মতোই জিল-এলগারের ওপেনিং জুটি ৫০-এর গণ্ডি পার করিয়েছেন দলকে। খারাপ আলোর জন্য খেলা বন্ধ হওয়ার সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর বিনা উইকেটে ৬১।

সাকিব-মুস্তাফিজুরদের হাত ধরে ওয়ানডে-তে বিপ্লবের আভাস সিরিজে জিতে আগেই দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। বাকি ছিল টেস্টে ক্রিকেট। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার তথাকথিত ভয়ঙ্কর ব্যাটিংকে আড়াইশোর মধ্যে আটকে রেখে কাজটা ভাল ভাবেই শুরু করেছিল মুস্তাফিজুরদের বোলিং। সেই ভাল কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটা বুধবার শুরু করেছিলেন তামিম ইকবাল এবং মাহমুদুল্লাহ। দু’জনের লড়াকু ইনিংসে ভর করে দ্বিতীয় দিনেই ভাল জায়গায় পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার সেখান থেকেই শুরু করলেন সাকিব-লিটনদের মিডল অর্ডার।

এ দিন সকাল থেকে একই স্ট্র্যাটেজিতে খেলতে শুরু করেন সাকিব-মুশফিকুর। স্টেইনের বলে অধিনায়ক মুশফিকুর যখন আউট হন, তখনও প্রোটিয়াদের থেকে বেশ কিছুটা দূরে বাংলাদেশ। আর তখনই সাকিবের সঙ্গে দলের হাল ধরেন লিটন দাস। বাংলাদেশের উইকেটরক্ষকের এটা মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই অসম্ভব পরিণতবোধ দেখালেন বছর একুশের এই ডানহাতি। সাকিবের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৮২ রানের পার্টনারশিপ করে দলকে এগিয়ে দিয়েই থেমে থাকেননি। সাকিব আউট হলেও অর্ধশতরানের গণ্ডি পেরোন তিনি। ৫০ করে হারমারের বলে যখন তিনি আউট হন, বাংলাদেশ তখন ৭১ রানে এগিয়ে গেছে।


দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান বাংলাদেশের

সংবাদ সংস্থা • চট্টগ্রাম

লিটন দাসের প্রথম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি (৫০) আর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তাঁর ৮২ রানের পার্টনারশিপে টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তুলল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে আগের দিনের ১৭৯-৪ থেকে খেলা শুরু করে এ দিন ৩২৬ তুলে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ৭৮ রানের লিডও নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিমরা। তবে জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা দারুণ জমাট করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার ডিন এলগার (ব্যাটিং ২৮) ও স্টিয়ান ফান জিল (ব্যাটিং ৩৩)। কোনও উইকেট না হারিয়ে দিনের শেষে ৬১ রানে দক্ষিণ আফ্রিকা। সকালে ডেল স্টেইনের বলে মুশফিকুর রহিমকে প্রথম হারায় বাংলাদেশ। তবে এর পর লিটন-সাকিব জুটি দলকে টানে। হারমারের বলে দুমিনির হাতে ক্যাচ তুলে সাকিব ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ ছিল ২৭৭ রানে। এর পর মহম্মদ শাহিদ (২৫) খানিকটা দাঁড়ালেও বাংলাদেশের শেষ দুই উইকেট পড়ে মাত্র সাত রানের মধ্যে। ৩-৭৮ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে সফল বোলার স্টেইন।