বিকেল সাড়ে ছ’টা নাগাদ কান্তিরাভা ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ঢোকার মুখে কয়েকটা পোস্টার চোখে পড়ল। সব কটিই এক জনকে উদ্দেশ্য করে— কিদম্বি শ্রীকান্ত।  স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল প্রিমিয়ার ব্যাডমিন্টন লিগে শুক্রবার প্রথম সেমিফাইনালে আকর্ষণের কেন্দ্রে শুধু তিনি। 

হবে নাই বা কেন! একে ঘরের মাঠে খেলা। তার উপরে শ্রীকান্তের বেঙ্গালুরু র‌্যাপ্টর্সের বিরুদ্ধে এ দিন আওয়াধ ওয়ারিয়র্সের ম্যাচের আগে টানা ছ’টি ম্যাচ জিতেছেন পুল্লেলা গোপীচন্দের ছাত্র। ২০১৭ মরসুমে চারটি সুপার সিরিজ জিতে যে ভাবে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন, সদ্য শেষ হওয়া মরসুমে ততটা সাফল্য পাননি। তবে পিবিএলে দুর্ধর্ষ ছন্দে আছেন প্রাক্তন বিশ্বসেরা শ্রীকান্ত। তাঁর সেই দাপটেই শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করে ফেলল তাঁর দল ৪-২ জিতে।

ম্যাচ শুরুর আগে শ্রীকান্তকে আবার কিছুটা উৎসাহ দিতে দেখা গেল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ক্যারোলিনা মারিনকে। স্প্যানিশ তারকার দল পুণে সেভেন এসেস সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও, তিনি ধারাভাষ্য দিতে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। সেখানেই শ্রীকান্তকে প্রশ্ন করা হয় শুক্রবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সন ওয়ান হো-র বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ে শ্রীকান্ত ৪-৫ পিছিয়ে থাকলেও পিবিএলে এক মাত্র ম্যাচে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এ দিন ম্যাচে নামার আগে শ্রীকান্ত বলেন, ‘‘ছন্দটা ধরে রাখাটাই আসল কথা। তবে সব ম্যাচের পরিস্থিতি তো আর এক রকম হয় না। এই ম্যাচের ক্ষেত্রেও একই কথা বলব। চেষ্টা করব ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।’’ কথা রাখলেনও তিনি।  ২৫০০ দর্শকের সামনে শ্রীকান্ত টানা সাত নম্বর ম্যাচ জেতার পথে হারিয়ে দেন সন ওয়ান হো-কে। ফল শ্রীকান্তের পক্ষে ১৫-৭, ১৫-১০। দক্ষিণ কোরীয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে এত সহজে হারালেন, দেখে মনেই হচ্ছিল না বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে তাঁর চেয়ে দু’ধাপ এগিয়ে সন ওয়ান হো।

তবে শুরুতে শ্রীকান্তদের দল কিন্তু পিছিয়ে গিয়েছিল। মিক্সড ডাবলসে অশ্বিনী পোনাপ্পা এবং ম্যাথিয়াস ক্রিশ্চিয়ানসেনের জুটি তাদের ট্রাম্প ম্যাচে স্ট্রেট গেমে জিতে ২-০ এগিয়ে দিয়েছিল আওয়াধকে। ব্যবধান কমান বি সাই প্রণীত। শ্রীকান্ত পরের সিঙ্গলসে দলকে সমতায় ফেরানোর পরে আওয়াধকে মোক্ষম ধাক্কাটা দেয় বেঙ্গালুরুর ডাবলস জুটি মহম্মদ এহসান এবং হেন্দ্রা সেতিয়াওয়ান। এটাই আবার বেঙ্গালুরুর ট্রাম্প ম্যাচ ছিল। ফলে তাদের দু’পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়া রুখতে জিততেই হত আওয়াধকে। ১৫-১৪, ১৫-৯ জেতেন তাঁরা।