ভারতের বিশ্বকাপ মহড়া ফিরোজ শাহ কোটলার ম্যাচ দিয়ে শেষ হয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার হয়নি। অ্যারন ফিঞ্চের দল সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলবে। সেটাই হবে অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত কাপ-মহড়া। যে মহড়ায় অস্ট্রেলিয়ার তুরুপের তাস হতে চলেছেন তিন ভারতীয়!

এক জন অবশ্যই ফিঞ্চদের বোলিং পরামর্শদাতা প্রাক্তন ক্রিকেটার শ্রীধরন শ্রীরাম। অন্য দু’জন, শ্রীরামেরই বেছে আনা দুই ভারতীয় নেট বোলার— চায়নাম্যান কে কে জিয়াস এবং লেগস্পিনার প্রদীপ সাহু। 

ভারতের মাটিতে ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের সাফল্যের নেপথ্যে কিন্তু এই ত্রয়ী। জিয়াস এবং সাহুকে নেটে দেখে এতটাই সন্তুষ্ট অস্ট্রেলীয় টিম ম্যানেজমেন্ট যে, প্রাক বিশ্বকাপ পর্বের প্রস্তুতিতে তাঁদের শামিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই ভারতীয় স্পিনারকেই উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমির শাহিতে। যেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও এই চায়নাম্যান-লেগস্পিনার জুটি বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে চলেছে অস্ট্রেলিয়ার। 

কোটলা ম্যাচ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে থাকা দুই ভারতীয় স্পিনার বৃহস্পতিবারই ফিরে গিয়েছেন নিজের নিজের বাড়ি। ‘‘গত বার আমি শুধু চেন্নাই ম্যাচের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নেটে ছিলাম। এ বার শ্রীরাম ভাই বলে দিয়েছিল, পুরো সিরিজেই থাকতে হবে। তার পরে জানতে পারলাম, পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতিতেও রাখা হচ্ছে আমাকে আর সাহুকে (প্রদীপ)। ১৮ তারিখ আমি দুবাই যাচ্ছি। ওখানে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে যোগ দেব,’’ কোচি থেকে ফোনে বলছিলেন জিয়াস। কুলদীপের মতোই যিনি নিজেও এক জন চায়নাম্যান বোলার।  

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

কেন আপনাদের ডাকা হচ্ছে বলে মনে হয়? জিয়াসের জবাব, ‘‘নেটে আমাদের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলে খুব খুশি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। ওরা যেমন যেমন চেয়েছিল, আমরা সেটাই করতে পেরেছি। কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার থেকে শুরু করে অধিনায়ক ফিঞ্চ, সবাই আমাদের প্রশংসা করেছেন। সিরিজে কুলদীপ, চহালদের বিরুদ্ধে ওরা দারুণ খেলেছে। এ বার পাকিস্তান স্পিনারদের জন্যও পুরোপুরি তৈরি হতে চায়। তাই আমাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’’ এটা তো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। তার মানে তো আপনারা অস্ট্রেলিয়ার কাপ প্রস্তুতির একটা অংশ হয়ে গিয়েছেন। জিয়াসের জবাব, ‘‘সেটা বলতে পারেন। বিশ্বকাপের সময় ইংল্যান্ডে আমরা থাকব কি না, তা জানি না। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত পুরোপুরি আছি।’’

ওয়ান ডে সিরিজ শুরুর আগে একান্ত সাক্ষাৎকারে আনন্দবাজারকে শ্রীরাম বলেছিলেন, ‘‘রিস্ট স্পিনারদের হাত দেখে এখন আর ব্যাটসম্যানরা সে ভাবে বল বুঝতে পারে না। আমি চেষ্টা করছি, নানা ভাবে সেই প্রায় হারিয়ে যাওয়া পদ্ধতিটা ফিরিয়ে আনার।’’

জানা যাচ্ছে, অস্ট্রেলীয় নেটে ঠিক এই ব্যাপারটার ওপরই জোর দিয়েছিলেন শ্রীরাম। ব্যাটসম্যানদের বারবার বলে দেওয়া হয়েছিল, জিয়াস এবং সাহুর ‘পয়েন্ট অব ডেলিভারি’র সময় হাতের দিকে নজর রাখতে। কব্জির মোচড় দেখে বুঝতে হবে, কোনটা গুগলি, কোনটা লেগস্পিন। জিয়াস এবং সাহুকে এও বলা হয়েছিল, বেশি করে ‘উল্টোটা’ দিতে। অর্থাৎ গুগলি। ডান হাতি ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে চায়নাম্যান জিয়াসের যে বলটা বাইরের দিকে যায়। আর লেগস্পিনার সাহুর ক্ষেত্রে যেটা ভিতরের দিকে ঢুকে আসে।

জিয়াস বলছিলেন, ‘‘শ্রীরাম স্যর আমাদের বলে দিয়েছিলেন, অফস্টাম্পের ঠিক বাইরে গুগলিটা রাখতে। আমরা নেটে সেই বলটা বেশি করে করেছি। এর ফলে ব্যাটসম্যানরা বাইরে যাওয়া এবং ভিতরে আসা ডেলিভারি— দুটোর বিরুদ্ধেই যথেষ্ট প্র্যাক্টিস পেয়েছে।’’ 

সেই প্র্যাক্টিস যে কতটা কাজে এসেছে, তা বোঝা যাচ্ছে সিরিজে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান আর ভারতীয় স্পিনারদের পরিসংখ্যান দেখলেই। অস্ট্রেলিয়ার দুই সেরা ব্যাটসম্যান খোয়াজা ও হ্যান্ডসকম্ব। খোয়াজার পাঁচ ম্যাচে সংগ্রহ ৩৮৩ রান, গড় ৭৬.৬০, স্ট্রাইক রেট ৮৮.৮৬। হ্যান্ডসকম্বের পাঁচ ম্যাচে ২৩৬। গড় ৪৭.২০, স্ট্রাইক রেট ৯২.১৮। সিরিজ শুরুর আগে ভারতের দুই সেরা অস্ত্র বলা হচ্ছিল, কুলদীপ এবং চহালকে। পাঁচটি ওয়ান ডে ম্যাচে কুলদীপ ১০টি উইকেট নিলেও দিয়েছেন ৩০২ রান। বোলিং গড় ৩০.২০, ইকনমি রেট ৬.০৪। চহাল মোটে একটি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে ৮০ রানে একটি উইকেট নেন। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৭৫ রান দিয়ে নেন এক উইকেট। ইকনমি রেট ৯.৩৭। 

অস্ট্রেলীয় দলের সঙ্গে প্রায় এক মাস সময় কাটিয়ে কী মনে হল? জিয়াসের মন্তব্য, ‘‘দলের সবাই আমাদের সঙ্গে খুব ভাল ভাবে মিশে গিয়েছিল। আমরা এক সঙ্গে খেতাম, আড্ডা মারতাম। আর নেটে নিজেদের সেরাটা দিয়ে অনুশীলন করতাম।’’ 

এই অনুশীলন অস্ট্রেলিয়ার স্পিন-ভীতি প্রায় কাটিয়ে তুলেছে। বিশ্বকাপের আগে যে তথ্যটা প্রতিপক্ষ স্পিনারদের কাছে খুব একটা সুখকর হবে না।