চার্চিল ব্রাদার্স ৩    •   চেন্নাই সিটি ২

চেন্নাই সিটি এফ সির খেতাব জয়ের মসৃণ রাস্তায় শুক্রবার কাঁটা বিছিয়ে দিল চার্চিল ব্রাদার্স। এবং সেটা উইলিস প্লাজ়ার সৌজন্যে। এ বারের আই লিগের দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর স্ট্রাইকারের জোড়া গোল জমিয়ে দিল এ বারের আই লিগ। ১৯ ম্যাচে ২০ গোল হয়ে গেল তাঁর।

ভাস্কোর তিলক ময়দানে পাঁচ গোলের উত্তেজক ম্যাচের পর আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে হঠাৎ-ই প্রবলভাবে ফিরে এল ইস্টবেঙ্গল।  

চেন্নাই বনাম চার্চিলের ম্যাচের আগে অঙ্ক ছিল, দু’পয়েন্ট হলেই খেতাব মুঠোয় পুরে নিতে পারবে দক্ষিণের ক্লাব। কিন্তু এ দিনের পর পরিস্থিতি যা দাঁড়াল তাতে, চেন্নাই সিটি এফ সি-কে খেতাব পেতে হলে শেষ ম্যাচ জিততেই হবে। সেই ম্যাচে আকবর নাওয়াসের দলের প্রতিপক্ষ মিনার্ভা এফ সি। কিন্তু ম্যাচ ড্র হলে? সে ক্ষেত্রে চেন্নাইকে তাকিয়ে থাকতে হবে ইস্টবেঙ্গলের দিকে। আলেসান্দ্রো মেনেন্দেসের দল যদি বাকি দুটি ম্যাচের (মিনার্ভা এফ সি এবং গোকুলম) একটিতে হারে, তা হলে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই। তবে চেন্নাইয়ের সুবিধা ইস্টবেঙ্গল-মিনার্ভা এফ সি রবিবারের ম্যাচ দেখে শেষ ম্যাচ খেলতে নামতে পারবে নাওয়াসের দল। 

কিন্তু শেষ ম্যাচে চেন্নাইয়ের প্রতিপক্ষ মিনার্ভা এফসি-র মালিক রঞ্জিত বাজাজের একটি টুইট নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। চার্চিলের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে বাজাজ লিখেছিলেন, ‘‘ভাবতে ভাল লাগছে যে, শুক্রবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে চলেছে ভারত। তাদের এটা প্রাপ্য ছিল। আমার বন্ধু রোহিতের (চেন্নাইয়ের মালিক) পরিশ্রমের জন্য এটা হয়েছে। কত প্রতিকূলতার মধ্যে ওকে কাজ করতে হয়েছে সেটা আমি জানি।’’ ইস্টবেঙ্গল শিবিরের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে চেন্নাইকে ম্যাচ ছেড়ে দিতে পারে মিনার্ভা।     

চেন্নাই বনাম মিনার্ভা পঞ্জাব এবং ইস্টবেঙ্গল বনাম গোকুলম—দুটি ম্যাচই দেওয়া হচ্ছে একইদিনে এবং একই সময়ে। আই লিগের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুনন্দ ধর ভাস্কোর মাঠে উপস্থিত ছিলেন। ফোনে বলে দিলেন, ‘‘দুটি ম্যাচই দেওয়া হচ্ছে ৯ মার্চ। একই সময়ে হবে খেলা।’’

এ দিন হারের পর অবশ্য ভেঙে পড়েননি চেন্নাইয়ের কোচ আকবর। সিঙ্গাপুরনিবাসী কোচ ফোনে বললেন, ‘‘খেতাব এখনও হাতছাড়া হয়নি। এই হার থেকে আমরা একটাই শিক্ষা নিয়েছি। তা হল, শেষ ম্যাচ জিততেই হবে। ড্রেসিংরুমে ফুটবলারদের বলেছি, আমাদের লক্ষ্য এখন ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে ট্রফি জেতা। এর মজাই আলাদা। আমরা কাল থেকে সেই প্রস্তুতি নেব।’’

তবে এ দিন ম্যাচ জেতার পর চার্চিল কোচ পেত্রা গিগুই কিন্তু বলে দিলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত চেন্নাই-ই চ্যাম্পিয়ন হবে। ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে ওরা দর্শক সমর্থন পাবে। তবে আমরাও প্রমাণ করেছি, চার্চিলও চ্যাম্পিয়ন হতে পারত।’’   চেন্নাইয়ের ১-০ এগিয়ে যাওয়ার পরও দমে না গিয়ে চার্চিলের ৩-১ এগিয়ে যাওয়া। এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ৩-২ তে জয় উপভোগ্য ফুটবলেরই উদাহরণ।  

১৮ ম্যাচে ৪৩ গোল করে এগিয়ে যাওয়া চেন্নাই এ দিন কেন ব্যর্থ হল? মানজ়িদের কোচ বললেন, ‘‘মাঠটা খুব অসমান। ঠিকমতো বলও গড়াচ্ছিল না। এই মাঠে মানিয়ে নেওয়া কঠিন।’’ যোগ করলেন, ‘‘চার্চিল এ দিন ভাল খেলেছে। যোগ্য দল হিসেবে জিতেছে। ফুটবলে এরকম অঘটন হতেই পারে। হার নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য শেষ ম্যাচ জেতা।’’ লিগ টেবলের অবস্থা যা তাতে ৯ মার্চ কোয়েম্বত্তূর, না কোঝিকোড় কোথায় ট্রফি নিয়ে যাবে ফেডারেশন, তা নিয়ে বেশ চিন্তায় কর্তারা।