দেশের ক্রিকেটকে বাঁচাতে তাঁকেই অনেকে ত্রাতা বলে মনে করছেন। যেমন হয়ে উঠেছিলেন দু’বছর আগে, গলে। সেই টেস্টে সেঞ্চুরি করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন দীনেশ চণ্ডীমল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও একই রকম একটা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ফের সে রকমই ইনিংস খেলে দলকে সিরিজ হার থেকে বাঁচাতে চান শ্রীলঙ্কার বর্তমান অধিনায়ক। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যাঁর প্রথম টেস্টে খেলাই হয়নি।

গলের সেই স্মরণীয় সেঞ্চুরির প্রসঙ্গ উঠতেই চণ্ডীমল বলে উঠলেন, ‘‘সত্যিই ইনিংসটা খুব ভাল ছিল। সেঞ্চুরিটার জন্য জিতেছিলামও। ভারতের মতো একটা ভাল দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামলে তো ঝুঁকি নিতেই হবে। সেটা পারলে তবেই ভাল কিছু করা সম্ভব। সে দিনের মতোই ভাল খেলতে চাই।’’ পাঁচটা জিনিস এক জায়গায় আনতে পারলেই যে সাফল্য আনা সম্ভব, সেটাই বলছেন চণ্ডীমল। তাঁর মতে, ‘‘একতা, মানসিকতা, এগিয়ে চলা, শৃঙ্খলা আর নেশা— এই পাঁচটা জিনিস এক জায়গায় আনতে পারলে সাফল্য অবধারিত।’’ দের ছেলেদেরও একই কথা বলেছেন তরুণ অধিনায়ক। বলেন, ‘‘ঘূর্ণি উইকেটে খেলা, সুইপ, রিভার্স সুইপ অনুশীলন করা, এ

সবই করেছি আমরা। এগুলোকে এ বার ঠিকঠাক কাজে লাগাতে হবে আমাদের। আরও ভাল ব্যাটিং করতে হবে। টিম মিটিংয়েও একই কথা বলেছি সবাইকে।’’ তিনি নিজে ও রঙ্গনা হেরাথ, দু’জনেই সুস্থ বলেও জানান চণ্ডীমল।

আরও পড়ুন: মিতালিরা যেন বিরাটদের মত ‘লোভী’ না হয়! শোভার মন্তব্যে ঝড়

 

ক্ষুব্ধ রণতুঙ্গা

শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক অর্জুন রণতুঙ্গা নাকি এখন তাঁর দেশের ক্রিকেট দেখেনই না। নিজেই এ কথা বলেছেন তিনি। কলম্বো থেকে প্রকাশিত এক সংবাদপত্রে তিনি বিনা দ্বিধায় জানান, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের বিরক্তিকর প্রশাসনের জন্যই তিনি দেশের ক্রিকেট নিয়ে উৎসাহ সম্পুর্ণ হারিয়ে ফেলেছেন। একুশ বছর আগে লাহৌরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ   জিতেছিল যারা, সেই শ্রীলঙ্কার অধিনায়কের এই মন্তব্য অবাক করার মতো হলেও সত্যি। রণতুঙ্গা বলেন, ‘‘যে ভাবে চলছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট, তা খুবই বিরক্তিকর। সেই জন্যই এখন আর আমাদের জাতীয় দলের খেলা দেখি না।’’

প্রথম টেস্ট জঘন্য ভাবে হারার পর শ্রীলঙ্কা ভারতের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামছে কলম্বোয়। এর আগে জিম্বাবোয়ের কাছেও ঘরের মাঠে টেস্ট হেরেছে তারা। রণতুঙ্গা জানান, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দেখার চেয়ে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট দেখতে পছন্দ করেন তিনি। তিনি ঠিক করেছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে দেশের ক্রিকেটের প্রকৃত অবস্থা জানিয়ে চিঠি দেবেন, যাতে তিনি বর্তমান ক্রিকেট প্রশাসনে খোলনলচে বদলানোর অনুরোধ করবেন।