মহানদীর তীরে মহারণ শুরু হওয়ার আগেই অস্বস্তি ইস্টবেঙ্গল শিবিরে! চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে অনুশীলনের মাঠ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ওয়েডসন আনসেলমে।

সকাল সাতটার পর থেকেই এখন কটকের তাপমাত্রার পারদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দুপুর বারোটার মধ্যেই যা পৌঁছে যায় প্রায় চুয়াল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গরমের জন্যই গত তিন দিন ধরে বিকেলে অনুশীলন করছিলেন রবিন সিংহ, উইলিস প্লাজা-রা। কিন্তু শনিবার বিকেল থেকে হঠাৎ করেই বদলে গিয়েছিল আবহাওয়া। মহানদীর দিক থেকে বইতে শুরু করা হাওয়ার ধাক্কায় তাপমাত্রা বেশ কয়েক ডিগ্রি নেমে গিয়েছিল।

কটকের ঐতিহাসিক বারবাটি দুর্গের ধ্বংসস্তুপের কাছে সাই কমপ্লেক্সের মাঠে যখন পৌঁছল ইস্টবেঙ্গলের টিম বাস, চনমনে মেজাজে ছিলেন ফুটবলাররা। কিন্তু মাঠে  পা দিয়েই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। অসমান শক্ত মাঠে বল পড়ে বিপজ্জনক ভাবে লাফিয়ে উঠছে। কোথাও ঘাস এতটাই বড় যে, বল নিয়ে দৌড়নো যাচ্ছে না। কোথাও আবার ঘাস একেবারেই উঠে গিয়েছে। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে ঘণ্টাখানেক কোনও মতে অনুশীলন করালেন সহকারী কোচ রঞ্জন চৌধুরী। কিন্তু ম্যাচ প্র্যাকটিস করিয়ে যে চার্চিল বধের মহড়া সেরে নেবেন, তা আর হল না। হতাশ রঞ্জন বললেন, ‘‘অপ্রত্যাশিত ভাবে আবহাওয়া পরিবর্তনে যে স্বস্তি ফিরেছিল, তা উধাও হয়ে গেল মাঠের জন্য।’’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘মাঠটা এত শক্ত ও অসমান যে, প্র্যাক্টিসের পদ্ধতিও বদলাতে বাধ্য হয়েছি।’’ ক্ষোভ উগরে দিলেন ওয়েডসন। হাইতি জাতীয় দলে সনি নর্দের প্রাক্তন সতীর্থ বললেন, ‘‘চার্চিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন এমন একটা মাঠে নামতে হল, যেখানে ঠিক মতো অনুশীলনই করতে পারলাম না। এটা মাঠ নয়, বধ্যভূমি! যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের চোট লেগে যেতে পারত।’’

আরও পড়ুন: মোহনবাগানে থাকতে চাই, কিন্তু কেউ জানে না কী হবে

মাঠের জন্য অনুশীলনের স্ট্র্যাটেজি বদলেও অবশ্য শেষরক্ষা হয়নি। ডান হাঁটুতে হাল্কা চোট পেলেন লালরিনডিকা রালতে। অনুশীলনের মধ্যেই সাইডলাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে চোটের জায়গায় বরফ ঘষছিলেন লাল-হলুদ মিডফিল্ডার।

চার্চিল ম্যাচের আগে হঠাৎ মাঠ বদল কেন? ওড়িশা ফুটবল ফেডারেশনের এক শীর্ষ কর্তা বললেন, ‘‘অন্য দলগুলোও এই মাঠে প্র্যাকটিস করেছে। তারা কিন্তু কোনও অভিযোগ করেনি। ইস্টবেঙ্গলই প্রথম অভিযোগ জানাল।’’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘প্রথম দু’দিন ইস্টবেঙ্গলকে কিন্তু প্র্যাকটিসের জন্য সেরা মাঠই দেওয়া হয়েছিল।’’

মাঠ নিয়ে অসন্তোষের মধ্যেই লাল-হলুদের সহকারী কোচের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন চার্চিল কোচ ডেরেক পেরিরা! রঞ্জন বললেন, ‘‘আই লিগের শুরুতে চার্চিল খুব একটা ছন্দে ছিল না। কিন্তু ডেরেক পেরিরা দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ওরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’’ চার্চিল কোচ অবশ্য বলছেন, ‘‘ফেডারেশন কাপে ইস্টবেঙ্গলই অন্যতম ফেভারিট। আই লিগে ওদের বিপর্যয়টা নেহাতই দুর্ঘটনা।’’

প্রশ্ন হচ্ছে, ইস্টবেঙ্গল কি আই লিগ ব্যর্থতার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে আদৌ পেরেছেন? রঞ্জনের দাবি, ‘‘আই লিগের শেষ দু’টো ম্যাচে জিতে ফুটবলাররা মানসিক ভাবে অনেকটাই চনমনে হয়ে উঠেছে। সকলেই মরিয়া মরসুমের শেষ টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে।’’

মহানদীর তীরে ইস্টবেঙ্গল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটা অবশ্য সময়ই বলবে।

ফেডারেশন কাপ: ইস্টবেঙ্গল বনাম চার্চিল ব্রাদার্স (বিকেল, ৪.০০)। আইজল এফসি বনাম চেন্নাই সিটি এফসি (সন্ধে ৭.০০)।