বিশেষ মানসিক চাহিদাসম্পন্নদের অলিম্পিক গেমসে রুপো জিতল হুগলির মেয়ে।

চলতি মাসের ১৪ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবুধাবিতে শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকালীন স্পেশ্যাল অলিম্পিক। সেখানে ব্যক্তিগত এবং দলগত বিভিন্ন ইভেন্টে যোগ দিতে গিয়েছেন এ রাজ্যের বারো জন প্রতিযোগী। হুগলির রিষড়া পঞ্চায়েতের বামুনারির বাসিন্দা, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হাসি দুলের ইভেন্ট ছিল— সাইক্লিং। শনিবার ওই ইভেন্টে সে রুপো জিতেছে। বাড়ির কাছেই কানাইপুরে ‘বাঁশাই প্রচেষ্টা’ নামে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের একটি স্কুলের শিক্ষার্থী বছর সতেরোর হাসি। তার পদক জেতার খবর পৌঁছতেই স্কুলে খুশির হাওয়া।

হাসির ভাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা রবীনবাবু এবং মা পূর্ণিমাদেবী— দু’জনেই ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ করেন। যৎসামান্য আয়। বামুনারিতে সরকারি প্রকল্পের এক ফালি বাড়িতে তাঁরা থাকেন। ২০১২ সালে বাঁশাইয়ের স্কুলটিতে ভর্তি হয় হাসি। প্রধান শিক্ষক সুবীর ঘোষের কাছে খেলার প্রশিক্ষণ নেয়। সুবীরবাবু জানান, হাসির বুদ্ধির বিকাশ পুরোপুরি হয়নি। সে ৫০% মানসিক চাহিদাসম্পন্ন। তিনি বলেন, ‘‘হাসি আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ওর পরিবারের অবস্থা অস্বচ্ছ্বল। সেই অভাবকেও ও হারিয়ে দিয়েছে।’’

বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিযোগী ওই প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভারতবর্ষ থেকে প্রায় আড়াইশো প্রতিযোগী গিয়েছেন। হুগলি জেলা থেকে গিয়েছেন হাসি-সহ মোট সাত জন। হাওড়ার আমতা ২ ব্লকের পারবাক্‌সির একটি হোমের তিন আবাসিক যুবতী এবং কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার এক জন করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিযোগী রয়েছেন ভারতীয় দলে। এ রাজ্যের ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষক হিসেবে গিয়েছেন মৌসুমি রায়। সুবীরবাবু এবং স্কুলের সভাপতি সন্ধ্যা চট্টোপাধ্যায় জানান, বিভিন্ন ইভেন্টে এখনও এখানকার ছেলেমেয়েদের পদক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পদক সংখ্যা বাড়বে বলেই তাঁরামনে করছেন।

প্রতিযোগিতা শেষ হবে আগামী বৃহস্পতিবার।