ইংল্যান্ডের নিষ্প্রাণ উইকেটে বোলারদের জন্য কী অপেক্ষা করে রয়েছে, তা নিয়ে ধারাবাহিক পর্যালোচনা অব্যাহত। তবে ভারতীয় দলের লেগস্পিনার যুজবেন্দ্র চহাল জানিয়ে দিয়েছেন, উইকেট নিয়ে কোনও উৎকণ্ঠা নেই তাঁর।

বছরের শুরুতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে হারর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছিল, অ্যারন ফিঞ্চরা যে ভাবে চহাল এবং কুলদীপের স্পিন-রহস্য ভেদ করে ফেলেছেন, তাতে ইংল্যান্ডের নিষ্প্রাণ উইকেটে তাঁরা কতটা কার্যকরী হয়ে উঠবেন। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চহাল বলেছেন, ‘‘ওই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে কী হয়েছিল, তা ভেবে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলা আমার কাছে অর্থহীন। ওদের বিরুদ্ধে আমরা প্রচুর ম্যাচ খেলেছি। হতে পারে সমস্ত ম্যাচে জেতা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাই বলে অস্বস্তিতে ভোগার কোনও কারণ নেই।’’ চহাল আরও যোগ করেছেন, ‘‘ওই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া যে  ধরনের ক্রিকেট খেলেছিল তাতে যোগ্য দল হিসেবেই সিরিজ জিতেছিল। তবে আমাদের তরফেও চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আবার দেখা হলে অবশ্যই ভাল বল করার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’’

 তার পরেও প্রশ্ন উঠছে, গত দু’মাসে ‘কুল-চা’ জুটিকে যতটা প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে, তা বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে কতটা স্বস্তিতে রাখতে পারে তাঁদের। চহাল বলেছেন, ‘‘আমি তো কোনও পরিবর্তন দেখতে পাইনি। গত ছ’মাসে আমি এবং কুলদীপ ভারতীয় দলের হয়ে অনেক ম্যাচে খেলেছি। বহু ম্যাচে একসঙ্গে বলও করেছি। আসল ব্যাপার হল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দল আমাদের থেকে কী চাইছে এবং সেই প্রত্যাশা আমরা কতটা পূরণ করতে পারছি।’’

বরং ইংল্যান্ডের নিষ্প্রাণ উইকেটে বল করার প্রসঙ্গে চহাল বলেছেন, ‘‘আমি কিন্তু নিষ্প্রাণ উইকেট নিয়ে আদৌ ভাবিত নই। সত্যি বলতে, আমরা ওয়ান ডে’তে অধিকাংশ ম্যাচই নিষ্প্রাণ পিচেই খেলেছি। আরও একটি কথা মনে করিয়ে দেওয়া ভাল। আমি কিন্তু বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বল করে অভ্যস্ত। যে মাঠকে অন্যতম সেরা ব্যাটিং ট্র্যাক বলে মনে করেন সকলেই।’’ সেখানেই না থেমে চহাল আরও যোগ করেছেন, ‘‘এটাও মনে রাখতে হবে, একজন স্পিনার  হিসেবে আমি যদি চাপ অনুভব করে থাকি, তা হলে প্রতিপক্ষ দলের স্পিনারকেও তো সেই এক চাপ সহ্য করতে হবে যখন আমাদের দল ব্যাটিং করবে।’’

বরং আইপিএল থেকে দুর্দান্ত ফর্মে ফিরে আসা ডেভিড ওয়ার্নার বা আন্দ্রে রাসেলদের বিরুদ্ধেও কী ভাবে বোলিং করবেন, তা-ও ভেবে রেখেছেন চহাল। তিনি বলেছেন, ‘‘যে কোনও ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধেই কখনও রক্ষণাত্মক মনোভাব নিয়ে বোলিং করা উচিত নয়। আর যদি সেই ব্যাটসম্যানের নাম ওয়ার্নার অথবা রাসেল হয়ে থাকে, তা হলে শুরু থেকে ওদের পাল্টা আক্রমণ করতে হবে। প্রত্যেকটি ডেলিভারি হবে সেরা, সেই বিশ্বাস নিজের প্রতি রাখতে হবে। আমি সেই মানসিকতা নিয়েই জীবনের প্রথম বিশ্বকাপে বোলিং করতে যাব।’’ যোগ করেছেন, ‘‘ এ বার আইপিএল আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশ্বকাপের আগে নিজেকে ভাল ভাবে তৈরি করে নিতে পেরেছি। ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বকাপে ভাল পারফর্ম করার জন্য তৈরি।’’