বিশ্বকাপে শিখর ধওয়নকে ছাড়া অন্তত তিন সপ্তাহ চালাতে হবে ভারতীয় দলকে। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে নেথান কুল্টার-নাইলের বলে বাঁ হাতের হাড়ে চোট পান শিখর। যন্ত্রণা হতে থাকলেও ফিজিয়োর কাছ থেকে শুশ্রূষা নিয়ে চোট নিয়েই ব্যাট করে যান তিনি। শুধু তা-ই নয়, ওই অবস্থাতেই ১০৯ বলে ১১৭ রান করে তিনি ভারতের সাড়ে তিনশোর বড় স্কোরে পৌঁছনো নিশ্চিত করে দেন। দলকে জিতিয়ে ম্যাচের সেরাও হন শিখর। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে ফিল্ডিং করতে নামতে পারেননি। 

রবিবার ওভালের সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া যখন ব্যাট করছিল, ড্রেসিংরুমের বারান্দায় বসে বরফ ঘষছিলেন শিখর। ফিজিয়ো প্যাট্রিক ফারহার্টকে দেখা যাচ্ছিল, বার বার তাঁর কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু ফিজিয়োর শুশ্রূষায় চোট লাগা হাতের ফোলা না কমায় স্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবার স্ক্যান রিপোর্টে দেখা যায়, বাঁ হাতের হাড়ে চিড় ধরেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিন সপ্তাহ মতো বাইরে থাকতে হবে তাঁকে।   

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরে এমন একটা দুঃসংবাদ শুনতে চাননি বিরাট কোহালিরা। কে জানত, পাঁচ বারের বিশ্বজয়ী দলকে হারানো নায়কই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আতঙ্কে পড়বেন! সকালে যখন শিখরের স্ক্যান রিপোর্ট জানা যায় এবং দেখা যায়, তিন সপ্তাহের জন্য ছিটকে যেতে পারেন তিনি, আশঙ্কা তৈরি হয় যে, বিশ্বকাপ থেকেই তিনি বাইরে চলে গেলেন কি না! 

গ্রুপ পর্বে ভারতের এখনও সাতটি ম্যাচ বাকি। তৃতীয় ম্যাচ ট্রেন্ট ব্রিজে বৃহস্পতিবার। তার পরেই ভারত-পাক ডার্বি ১৬ জুন ম্যাঞ্চেস্টারে। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৬ জুলাই। তিন সপ্তাহ বাইরে মানে মঙ্গলবার পাওয়া ডাক্তারি মত অনুযায়ী, শিখর হয়তো সেরে উঠবেন রাউন্ড রবিন পর্বের শেষ ম্যাচের ঠিক আগে। খুব ভাল উন্নতি হলে তার আগে ২ জুলাইয়ের বাংলাদেশ ম্যাচের আগেও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। 

স্বাভাবিক ভাবেই সকলের মনে প্রশ্ন জাগতে থাকে, ভারতীয় দল তিন সপ্তাহ ধরে তাদের বাঁ হাতি ওপেনারের সেরে ওঠার জন্য কি অপেক্ষা করবে? না কি দেশ থেকে পরিবর্ত উড়িয়ে আনার জন্য আইসিসি-র কাছে আবেদন করবে? সময় যত বাড়ে, তত জল্পনা ছড়িয়ে পড়তে থাকে যে, শিখরের জায়গায় বিকল্প হিসেবে ইংল্যান্ড উড়ে যাচ্ছেন ঋষভ পন্থ। প্রথম অবস্থায় যাঁর বিশ্বকাপ দলে স্থান না পাওয়া নিয়ে তুলকালাম হয়ে গিয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশে এমন খবরও চাউর হয়ে যায় যে, ঋষভকে ইংল্যান্ডের উড়ানে উঠে পড়ার সংকেত দিয়ে দিয়েছে ভারতীয় বোর্ড। তিনি নাকি ইংল্যান্ডে টিমের সঙ্গে যোগ দেবেন পাকিস্তান ম্যাচের আগে। 

রাতের দিকে জানা যায়, শিখরের চোট নিয়ে নাটক তৈরি হলেও এখনই ঋষভের উড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং ভারতীয় দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিখরের চোট আরও ভাল ভাবে পরীক্ষা করে অপেক্ষা করা হবে। শোনা যাচ্ছে, ইংল্যান্ডেই আরও বড় কোনও শল্যবিদের পরামর্শ নেওয়া হতে পারে। তার পরেই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেওয়া হবে। ম্যাঞ্চেস্টারে পৌঁছনোর পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হতে পারে। পাকিস্তান ম্যাচের আগে পর্যন্ত বিকল্প ক্রিকেটার নিয়ে কোনও চিন্তা-ভাবনা নেই। যত ক্ষণ না পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে ভারতীয় দল যে, শিখরকে কোনও ভাবেই দ্রুত সুস্থ করে তোলা যাবে না, তত ক্ষণ বিকল্প উড়িয়ে আনা নিয়েও সিদ্ধান্ত হবে না।

শিখরকে নিয়ে ধৈর্য ধরতে চাওয়ার প্রধান কারণ দু’টি। এক) তিনি দলের প্রধান ব্যাটসম্যানদের এক জন। অন্যতম সেরা ম্যাচউইনার। অস্ট্রেলিয়ার মতো হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে রান করে জিতিয়েছেন বলে ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। এত তাড়াতাড়ি তাঁর বিশ্বকাপ শেষ বলে ধরে নিতে চাইছে না দল। দুই) শিখরের বিকল্প ইতিমধ্যেই হাতে রয়েছে। কে এল রাহুলকে এত দিন চার নম্বর স্থানে ভাবা হচ্ছিল। এখন তিনি ওপেন করতে পারবেন। চার নম্বরের জন্য ধোনি বা কেদার যাদবকে তুলে এনে দীনেশ কার্তিককে বাড়তি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলানো যেতে পারে। বিজয় শঙ্করও আছেন। তাই এক্ষুনি তাড়াহুড়ো করে শিখর ছিটকে গিয়েছেন ধরে নিয়ে বিকল্প নিয়ে আসার দরকার নেই। 

ওয়াকিবহাল মহলে কেউ কেউ ধরিয়ে দিতে চান, ট্রেন্ট ব্রিজে বৃষ্টি হচ্ছে। ম্যাচই হবে কি না সন্দেহ। যদি ম্যাচ হয়ও, ওভালের মতো খটখটে রোদ থাকবে না। পরিবেশ বেশি করে সুইং এবং সিম বোলিং সহায়ক থাকবে। সেক্ষেত্রে বিজয় শঙ্কর উপযোগী ভূমিকা নিতে পারেন। তখন রোহিত শর্মার সঙ্গে রাহুলকে ওপেন করিয়ে শঙ্করকেও খেলানো যেতে পারে হার্দিক পাণ্ড্যর সঙ্গে বাড়তি অলরাউন্ডার হিসেবে। শিখরের চোটের খবরে ধাক্কা লেগেছে সন্দেহ নেই। কিন্তু কোহালিদের দলের অন্দরে উদ্বিগ্ন পায়চারি করতে চান না কেউ। হয়তো সেই কারণেই ছুটোছুটির চেয়ে শান্ত ভাবে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত।