বিশ্বকাপে ভারত বনাম পাকিস্তান দ্বৈরথের আগেই শুরু হয়ে গেল অন্য ‘ম্যাচ’। যেখানে গৌতম গম্ভীরের উদ্দেশে ওয়াঘার ওপার থেকে ধেয়ে এল শাহিদ আফ্রিদির বাক্যবাণ। 

এর আগে গম্ভীর বলেছিলেন, কোনও ভাবেই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা উচিত নয় ভারতের। এমনকি ফাইনালে উঠলেও নয়। সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডারকে সে কথা মনে করিয়ে দিলে আগ্রাসী মেজাজে আফ্রিদি বলেন, ‘‘আপনাদের কি মনে হয় কোনও রকম ভাবনা চিন্তা করে গৌতম ওই কথাগুলো বলেছে? কোনও শিক্ষিত মানুষ এ সব কথা বলতে পারে?’’

আফ্রিদিকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, গম্ভীর নির্বাচনও জিতে গিয়েছেন। উত্তেজিত আফ্রিদি বলতে থাকেন, ‘‘খুব বোকার মতো কথাবার্তা বলেছে গৌতম। পড়াশোনা না জানা লোকে এ রকম কথা বলে। ওরা এমন এক জন লোককে ভোট দিয়েছে যার কোনও বুদ্ধি নেই।’’ ক্রিকেট খেলার সময় থেকেই এই দুই ক্রিকেটারের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ। অবসর নেওয়ার পরে দেখা যাচ্ছে সেই সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে।    

আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়েও কথা বলেছেন আফ্রিদি। ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারের পরে গত কাল প্রস্তুতি ম্যাচেও আফগানিস্তানের কাছে হারতে হয়েছে পাকিস্তানকে। যার পরে আফ্রিদির পরামর্শ, পাক অধিনায়ক সরফরাজ় যেন ব্যাটিং অর্ডারে উপরের দিকে উঠে আসেন। আফ্রিদি বলেছেন, ‘‘পাঁচ, ছয় বা সাত নম্বরে ব্যাট করতে হলে হাতে বড় শট থাকা দরকার। যেটা সরফরাজ়ের নেই। ওকে উপরের দিকে ব্যাট করতে হবে। বড় রানের মঞ্চ তৈরি করতে হবে।’’ 

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে-তে পাঁচ নম্বরে নেমে ৯৭ করেছিলেন সরফরাজ়। আফ্রিদি আরও বলেন, ‘‘চার নম্বরের নীচে নামা মানে সরফরাজ় নিজেকে নষ্ট করছে। দলের প্রয়োজনে ওকে উপরের দিকে আসতে হবে। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’’  

পাক বোর্ডের ফতোয়া: ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে কড়া শৃঙ্খলার মধ্যে সরফরাজ়দের রাখতে চাইছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। যে কারণে অনেক আবেদন সত্ত্বেও বিশ্বকাপের শুরু থেকে ক্রিকেটারদের স্ত্রী-সন্তানদের দলের সঙ্গে থাকার অনুমতি দিল না পিসিবি। পাক বোর্ডের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১৬ জুন ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরেই স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে রাখার অনুমতি পাবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা। 

বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ড সিরিজে অবশ্য ক্রিকেটারদের সঙ্গেই থাকার অনুমতি মিলেছিল স্ত্রী-সন্তানদের। কিন্তু বিশ্বকাপে সে অনুমতি দিতে চায়নি পাক বোর্ড। সরফরাজ়রা আবেদন করেছিলেন, ১২ জুন অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের পরে যেন তাঁদের পরিবার নিয়ে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পাক বোর্ড সেই অনুমতি খারিজ করে দেয়। জানা গিয়েছে, বোর্ডের সিদ্ধান্তে একেবারেই খুশি হননি পাক ক্রিকেটারেরা। তবে পাক বোর্ডের পক্ষ থেকে দু’জন ক্রিকেটারকে আগেই স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই দু’জন হলেন আসিফ আলি এবং হ্যারিস সোহেল। হ্যারিসের পারিবারিক সমস্যা ছিল। আসিফ কন্যাহারা হয়েছিলেন। সন্তানের শেষকৃত্য সেরে শনিবারই ইংল্যান্ডে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আসিফ।