অস্ট্রেলিয়ার থেকে নির্মম পেশাদারিত্বের মন্ত্র নিয়ে তাকেই প্রয়োগ করতে হবে বিশ্বকাপে। তবেই সাফল্য আসবে।

বক্তার নাম? ইংল্যান্ড দলের অন্যতম সেরা তারকা জো রুট। আগামী শনিবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। তার আগে সতীর্থদের জন্য রুটের পরামর্শ, ‘‘প্রত্যেকটা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া যে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছে এবং চাপের মুখে সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছে, সেটাআ আমাদের রপ্ত করতে হবে। আমি মনে করি, অস্ট্রেলিয়া দলের ক্রিকেট-দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়েই আমাদের খেলতে হবে এই বিশ্বকাপে।’’

শেষ আটটি ওয়ান ডে’তে অযারন ফিঞ্চদের জয়। এক বছরের নির্বাসনের পালা শেষ করে বিধ্বংসী মেজাজে স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নারের প্রত্যাবর্তন—এই দু’টি ঘটনা বড়সড় প্রভাব ফেলেছে রুটের ভাবনায়। তিনি বলেছেন, ‘‘বিশ্বের সেরা দুই ব্যাটসম্যানের প্রত্যাবর্তনই অস্ট্রেলিয়া দলের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তো মনে করি, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারাতে পারলে আমাদের দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘বিশ্বকাপের পরেই অ্যাশেজ সিরিজ। আমার মনে হয়েছে, সেই লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে আমাদের আরও বেশি নিখুঁত এবং শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে।’’

তবে নিজেদের দলকেও এ বার এগিয়ে রাখছেন ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘‘২০১৫ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পরে আমাদের দলের সার্বিক মানসিকতা এবং খেলায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শেষ ৮৮টি ওয়ান ডে ম্যাচে আমরা জিতেছি ৫৮ ম্যাচে। যা প্রমাণ করে দল হিসেবে ইংল্যান্ড কতটা পরিশীলিত হয়ে উঠেছে। নিজেদের যোগ্যতাতেই ইংল্যান্ড বিশ্বের এক নম্বর ওয়ান ডে দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে নামবে। আমরা এ বার সেরা ক্রিকেট উপহার দিয়েই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য মরিয়া।’’

এ বারের বিশ্বকাপে পাওয়ার হিটাররা বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রুট নিজেও তা মনে করছেন। এবং তার জন্য নিজেকে তৈরিও রাখছেন। রুট বলেছেন, ‘‘আমি সচরাচর তিন নম্বরে ব্যাট করি ওয়ান ডে ম্যাচে। সঙ্গত কারণে সেই জায়গাতে দল আমার থেকে আগ্রাসী ব্যাটিংই আশা করবে। তবে আমি শুরু থেকে বোলারদের আক্রমণ করার পক্ষপাতী নই। উইকেটে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে বোলারদের উপরে প্রভাব বিস্তার করতে চাই। তাতেই বড় রানের ইনিংস গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা সম্ভব।’’ বরং দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার জনি বেয়ারস্টোকে নিয়ে বেশি আশাবাদী রুট। বলেছেন, ‘‘জনি ওর আগ্রাসী ক্রিকেটটা প্রথম ওভার থেকে শুরু করে দিতে পারলে আমাদের চাপ অনেক কমে যাবে। আমিও নিজের মতো করে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। পরে বাটলার, মর্গ্যানের মতো ব্যাটসম্যানেরা রয়েছে। ফলে আমাদের বড় রান তুলতে খুব একটা সমস্যা হবে না।’’ রুটের বিশ্লেষণ, ‘‘এ বার যে ফর্ম্যাটে বিশ্বকাপ হবে, তাতে আমাদের কিন্তু সমস্ত দলের বিরুদ্ধেই ধারাবাহিক ভাবে ভাল ব্যাটিং করে বড় স্কোর করতে হবে। হাতে বড় রান থাকলে বোলারদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।’’